শ্রীমঙ্গলে কুরবানির পশু আমদানি কম, দাম চড়া

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

শ্রীমঙ্গলে কুরবানির পশু আমদানি কম, দাম চড়া

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১২:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

শ্রীমঙ্গলে কুরবানির পশু আমদানি কম, দাম চড়া

কুরবানির ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া শ্রীমঙ্গলের বড় পশুর হাট পৌর এলাকার সাগরদিঘির পাড়ে খামারি ও ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা তাদের পালিত কুরবানির পশু বাজারে তুলছেন। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাজারে গরু আসতে শুরু করেছে। তবে প্রথম দিনে বাজারে গরু কম উঠায় দাম খুব বেশি চাচ্ছেন ব্যাপারীরা।

বাজার ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল থেকে আগামী বুধবার ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত একটানা এ হাটে কুরবানির পশু বিক্রি করা হবে।

শুক্রবার বাজার ঘুরে পাইকার ও ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দেশি গরুর বাজার খুবই চড়া। ইন্ডিয়ান গরু এখনও বাজারে আসেনি। বেশি দামের আশায় বুক বেঁধে আছেন গ্রামাঞ্চলের কৃষকরা। অথচ শ্রীমঙ্গলে এখনও কুরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠেনি।

তারা বলছেন, ঈদের এখনও চার-পাঁচ দিন বাকি। বাজারে গরু বেশি থাকলেও ক্রেতারা না কিনে বরং দাম দর করে চলে যাচ্ছেন। গরু বিক্রেতারা বলছেন- ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গরুর বাজার জমে উঠবে।

পশুর হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া প্রথমদিনের বাজারে মাত্র ২/৩ শতাধিক গরু বাজারে এসেছে। বিক্রেতারা বাঁশের খুঁটিতে সারি সারি গরু সাজিয়ে রেখেছেন। বিক্রেতারা লাল-কালো-সাদাসহ বিভিন্ন বর্ণের ছোট-বড় গরু হাটে তুলেছেন। রোববার থেকে পুরোদমে বাজার জমে উঠবে। তখন বাজারে প্রচুর কুরবানির পশু আমদানি হবে।

ফয়সল ও ওয়াকিল নামে দুই ক্রেতা বলেন, ঈদের এখনও চার দিন বাকি। তাই এখন গরু দেখতে এসেছি। দামে দরে মিললে হয়তো কিনতেও পারি।

তারা জানান, গতবারের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি চাইছে পাইকার ও বাড়ির গরুর মালিকরা।

রহমত আলী নামে এক গরু বিক্রেতা জানান, এখনও বাজারে গরু বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গরু বেচাকেনা জমবে। এবারের ঈদে ভারতীয় গরু না আসলে দেশীয় গরুর খামারিরা লাভবান হবে বলে জানান তিনি।

লালবাগের বাসিন্দা শামীম মিয়া ৪ মণ ওজনের ৫টি গরু বাজারে তোলেন। তিনি এসব গরুর দাম চাচ্ছেন এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। জানালেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেলে বিক্রি করবেন বলে জানান।

বাজারে চাপাই মকরা এলাকার ব্যাপারী হেলাল মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি জানান, বেশি দাম পাওয়ার আশায় ছোট গরু দেড়মণ ওজনের থেকে উপরে ৯ মণ ওজনের গরু নিয়ে তিনি বাজারে এসেছেন। দেড় মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন ৩২ হাজার। তিন মণ ওজনের গুরুর দাম চাইছেন ৭২ হাজার। চার মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন ১ লাখ ১০ হাজার। ৯ মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার মতে, এবার ইন্ডিয়ান গরু না আসায় দেশি গরুর দাম বেশি।

জামালপুরের ব্যাপারী দেলোয়ার ব্যাপারী জানান, ২৫ হাজার টাকা মণ দরে তিনি বড় বড় গরু কিনে নিয়ে এসেছেন বাজারে। তার একেকটি গরু লাল ও কালো বর্ণের চার মণ থেকে ৮ মণ ওজনের। চার মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সাড়ে ৬ মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাত মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আট মণ ওজনের গরুর দাম চাইছেন তিন লাখ টাকা।

আইএ/বিএইচ/