সিলেটে হাটগুলোতে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি!

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সিলেটে হাটগুলোতে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি!

সিলেট ব্যুরো ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

সিলেটে হাটগুলোতে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি!

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে কুরবানির পশু আসতে শুরু হয়েছে নগরীর পশুর হাটগুলোতে। তবে এসব স্থায়ী হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। অস্থায়ী হাটগুলোর অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন হাট ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। নগরীতে এবার ১২টি পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে ঈদুল আজহার দিন যতই ঘনিয়ে আসবে পাল্লা দিয়ে তত গবাদি পশু আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অধিকাংশ খামার থেকে এখনো গরু আসছে না। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবারের দিকে এসব খামার থেকে পশু হাটে আসবে।

জানা গেছে, সিলেটে ১৩ উপজেলার ৪০০ খামার, পারিবারিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে লক্ষাধিক পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই সিলেট জেলার বিভিন্ন হাটে উঠবে এসব পশু।

এদিকে ঝামেলা এড়াতে অনেকেই চাঁদ রাতে কুরবানির পশু কিনে থাকেন। তাই আগ থেকে পশু পছন্দ করে রাখছেন ক্রেতারা। সময় আরো ঘনিয়ে আসলে পশু কিনবেন বলে জানান তারা। ফলে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কুরবানির পশুর হাট।

এদিকে কুরবানি ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই পশুর হাটে গরু-ছাগল-মহিষের পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক বেপারী এসব হাটে কেনাবেচা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সহনীয় দামে মানুষ পশু কিনতে পারবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরাও।

এবারের কুরবানিতে পশুর সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা। অন্যদিকে বেপারীরা বলছেন, ভারতীয় গরু আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশীয় খামারি ও গরু পালনকারী কৃষকরা। কুরবানির পশুর তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকে গরু। তাছাড়া ছাগল, মহিষ, ভেড়াও কুরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এবছর সিলেট জেলায় আসন্ন কুরবানির জন্য লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর সিলেট জেলায় পশু কুরবানির সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজারের বেশি। এবছরও সমান সংখ্যক পশু কুরবানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর খামারিদের খামারে প্রয়োজনীয় পশু রয়েছে। এর বাইরে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে পশু রয়েছে। সব মিলিয়ে কুরবানির জন্য বাইরে থেকে পশু আমদানি করার প্রয়োজন নেই বলে জানান প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ বছর সিলেটের ৪০০ গরু মোটাতাজাকরণ খামারে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে পশু পালন করেছেন। তাই এ বছর কুরবানির জন্য কোনো ধরনের পশু সঙ্কট হবে না। দেশের খামারিরা পশু পালন করে লাভজনক হলে তারা আরো বেশি করে পশু পালনে উৎসাহিত হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে কুরবানির সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসে। অসাধু কারবারীরা চোরাই পথে ভারত থেকে পশু আমদানি করেন। এতে সিলেটের স্থানীয় খামারিরা পশু পালন করে অনেক সময় লোকসানের সম্মুখীন হন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর কুরবানির সিলেট বিভাগের ৩৯টি উপজেলার খামারিদের খামারে কুরবানির উপযোগ্য পশু রয়েছে সর্বমোট ৪ লাখ ১ হাজার ৫১০টি। গত ৩১ মে পর্যন্ত খামারিদের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী ষাঁড় রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭০টি। বলদ ৫১ হাজার ৪৭৭টি, গাভী ৩১ হাজার ৬৬৯টি, মহিষ ১৪ হাজার ৮৫৪টি, ছাগল ৮৪ হাজার ১০৫টি, ভেড়া ৩৭ হাজার ৯৭৯টি ও অন্যান্য ৬০টি পশু রযেছে।

গত বছর সিলেট বিভাগে কুরবানিকৃত পশুর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে কুরবানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪০টি পশু।

ডিএস/বিএইচ/