কুশিয়ারা নদীর ডাইকে ভাঙন

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫

কুশিয়ারা নদীর ডাইকে ভাঙন

সিলেট প্রতিনিধি ৯:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৮

কুশিয়ারা নদীর ডাইকে ভাঙন

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডাইকের (নদীরক্ষা বাঁধ) বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার নদীর পারের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন দুই উপজেলার শতাধিক গ্রামের লোকজন।

গত দুই দিন ধরে নতুন করে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মুতিয়ারগাঁও, কলারাই, ভাগলপুরসহ ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত ওসমানীনগরের সাদীপুর, উমরপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বালাগঞ্জের সদর ও পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে সরকারীভাবে ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের লোকজন কোনো ত্রাণ পাননি।

এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষা বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্মুখের রাস্তা, বালাগঞ্জ বাজারের ভেতরের রাস্তা, বালাগঞ্জ ডিএন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, তয়রুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের রাস্তা ও মাঠ, ইউআরসি অফিসের রাস্তা, উপজেলা প্রশাসনের মূল সড়ক ও উপজেলা প্রশাসনের মাঠ পানিতে ডুবে গেছে।

সোমবার বালাগঞ্জে বন্যা কবলিত গ্রামগুলোতে সরকারীভাবেও চাল বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে গত দু’দিন ধরে নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

জানা গেছে, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নির্মাণাধীন বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের (প্রকাশিত কুশিয়ারা ডাইক) একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগীতায় স্থানীয়রা কুশিয়ারা ডাইকের ওসমানী নগরের লামা তাজপুরস্থ ভাঙন আক্রান্ত স্থানে বালু ভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধ সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী ওসমানীনগর উপজেলার দুই সহস্রাধিক পরিবার ৪/৫ দিন ধরে পানিবন্দি।

স্থানীয়রা জানায়, ওসমানীনগরবাসীকে বন্যার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তৈরী করা হয়েছিল কুশিয়ারা ডাইক। গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে লামা তাজপুর এলাকায় কুশিয়ারা ডাইকের অন্তত ৫০-৬০ ফুট জায়গা ভেঙে গিয়ে সাদীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করে।

ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউপি সদস্য স্বপন আহমদ বলেন, কুশিয়ারায় পানি বৃদ্ধি এবং ডাইক ভেঙে এলাকার প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানিবন্দি গরীব পরিবার গুলোর জন্য ত্রাণ বরাদ্ধ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের সদস্য মনির উদ্দিন বলেন, গত দুই দিনের বন্যায় আমার ওয়ার্ডের সবগুলো গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দিন দিন পানিবন্দি মানুষের মধ্যে দুর্ভোগও বাড়ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, আমরা দ্রুত প্লাবিত এলাকাগুলোর তালিকা তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করছি। ইতোমধ্যে দুই উপজেলার বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোতে সরকারী ভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া বলেন, পানি বৃদ্ধিতে কুশিয়ারা ডাইকের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইউএনও সাহেবকে নিয়ে আমরা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী মো. আনিছুর রহমান বলেন, ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছি। পানিবন্দি অসহায় পরিবারের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে কুশিয়ারা ডাইকের আক্রান্ত এলাকায় বালির বস্তা ফেলে সংস্কার কাজও শুরু হয়েছে।

ডিএস/এসএফ