বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, কমলগঞ্জে এখনো পানিবন্দি অর্ধ লক্ষ মানুষ

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, কমলগঞ্জে এখনো পানিবন্দি অর্ধ লক্ষ মানুষ

এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার ৩:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৮

print
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, কমলগঞ্জে এখনো পানিবন্দি অর্ধ লক্ষ মানুষ

কমলগঞ্জ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তিনটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষ লোক এখনও পানিবন্দি রয়েছে। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার কার্যক্রমে রোববার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেছেন। বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) থেকে সৃষ্ট বন্যায় গত দুই দিনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া শিশু, বাবা-ছেলেসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এক নারীসহ আরো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

গত দুই দিনে পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া নিহতরা হচ্ছেন— আলীনগর ইউনিয়নের বস্তির পরিবহন শ্রমিক সেলিম মিয়া (৩৮), শমশেরনগর ইউনিয়নের ভাদাইরদেউল গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী রমজান আলী (৪০), ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের সাত্তার মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে করিম মিয়া (২০) এবং রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাপী গ্রামের মিছির মিয়ার ১৮ মাসের শিশুপুত্র ছাদির মিয়া।

গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ভারতীয় অঞ্চলে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদী ও কুলাউড়ার শরীফপুরে মনু নদীর পানি কমতে শুরু করে। ফলে কমলগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক ও বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। একইভাবে কুলাউড়ার সীমান্তবর্তী শরীফপুরেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।

কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল পতনউষার ইউনিয়ন, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের আংশিক এবং কুলাউড়ার শরীফপুরে আটকা পড়া পানিবন্দী মানুষজনকে উদ্ধারে সেনাবাহিনীর বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে।

মুন্সীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা জুনেল আহমদ তরফদারের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি নৌকা পতনঊষার ইউনিয়নের বন্যাক্রান্ত লোকদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে কাজ করছে।

এছাড়া মুন্সীবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিনের ব্যক্তিগত অর্থায়নে পতনঊষার, রহিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রোববার দিনভর প্রায় তিন সহস্রাধিক লোকের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।

রোববার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দুটি স্পিডবোট নিয়ে কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে পানিবন্দি মানুষজনকে উদ্ধার করতে শুরু করে।

এদিকে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনীর ২টি দল স্পিডবোট নিয়ে কুলাউড়ার শরীফপুরও হাজীপুর ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষজনকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৪৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা খুব বেশি। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৪০ জন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপির উদ্যোগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কমলগঞ্জে বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখছেন।

এছাড়া কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ ও ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। ঢাকার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দীন, মুন্সীবাজার-রহিমপুর দরিদ্র কল্যাণ ট্রাস্টসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই পানিবন্দি গ্রামে গিয়ে ও আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, বন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হওয়ায় সঠিকভাবে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো যাচ্ছিল না। তবে শনিবার বিকেল থেকে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দেওয়া হয়। উজানে ভারতীয় অংশে তেমন বৃষ্টি না হলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, শনিবার ধলাই নদীতে ৯২ সেন্টি মিটার বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত ছিল। রোববার রাত ৯টার দিকে বিপদসীমার নিচে নেমে ৬৮ সেন্টি মিটারে ঠেকেছে।

আইএ/এএল/

 
.



আলোচিত সংবাদ