বাবা-মা সেজে ৩ শিশুকে ব্রাজিলে পাচারের চেষ্টা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

বাবা-মা সেজে ৩ শিশুকে ব্রাজিলে পাচারের চেষ্টা

সিলেট প্রতিনিধি ১১:০১ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
বাবা-মা সেজে ৩ শিশুকে ব্রাজিলে পাচারের চেষ্টা

মিথ্যা পরিচয়ে তিন শিশুকে ব্রাজিল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মা সেজে আবেদন করা নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃত ফাতেহা বেগম ফাহিমা বিয়ানীবাজার ছোটদেশ গ্রামের ব্রাজিল প্রবাসী ফয়সল আহমদের স্ত্রী।

বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, সিলেট থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ভেরিফিকেশনের জন্য বিয়ানীবাজারের ছোটদেশ গ্রামের ফয়সল আহমদের সন্তান আশরাফ আহমদ (১২) সুহেল আহমদ (৩) ও রেদওয়ান আহমদ (১০) নামে আবেদনকারীদের নাম-ঠিকানাসহ অন্য বিষয়াবলি যাচাইয়ের জন্য জেলার বিশেষ শাখায় প্রেরণ করা হয়।

অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে- তিন আবেদনকারীর সবাই শিশু এবং তারা কেউই আবেদনে বর্ণিত পিতা-মাতা ফয়সল আহমদ এবং ফাতিহা বেগম ফাহিমা দম্পতির সন্তান নয়।

পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, পাসপোর্ট করার জন্য তিন শিশুর নামে তথ্য গোপন করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সুপারিশে কথিত পিতা ফয়সল আহমদ ১০ নং মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেন।

সেই জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট থেকে তিন শিশুর নাগরিকত্ব সনদও সংগ্রহ করা হয়। পাসপোর্টের আবেদনে শনাক্তকারী হিসেবে যে ব্যক্তির নাম, স্বাক্ষর এবং সিল ব্যবহার করা হয়েছে তারও কোনো অস্তিত্বই নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি।

বর্ধিত অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্রাজিল প্রবাসী ফয়সল আহমদের সাথে ফাতেহা বেগম ফাহিমার বিয়ে হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাতিহা জানান, তার স্বামী ফয়সল আহমদ ব্রাজিল থেকে দেশে ফিরে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঘরে তুলে নেন।

ফয়সল আহমদ ছুটি শেষ করে ব্রাজিল চলে যান। তাদের ঘরে ৮/১০ মাসের একটি পুত্র সন্তান হয়ে মারা যায়। এছাড়া তাদের আর কোনো সন্তান নেই। আবেদনকারী তিন শিশুকে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে নিজেদের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।

অনুসন্ধানে শিশু তিনটির আসল পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তাদের প্রকৃত পরিচয় হলো- বিয়ানীবাজারের মাথিউড়া দুধবকশী গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আহমদ (১২), শেওলা দীঘলবাকের দুবাই প্রবাসী আজিজ উদ্দিনের ছেলে সুহেল আহমদ (১৪) এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজবাহাদুরপুর গল্লাসাঙ্গন গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী ময়জ উদ্দিনের ছেলে রেদওয়ান আহমদ (১০)।

এ ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ফয়সল আহমদ, তার স্ত্রী ফাতেহা বেগম ফাহিমা, ইউপি সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন এবং অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অন্যের সন্তানদের নিজেদের সন্তান পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে নেয়ার/পাচারের জন্য ইউপি সদস্যের সুপারিশক্রমে মিথ্যা জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ সৃজন, নকল সিল তৈরিসহ অস্তিত্বহীন ব্যক্তির দস্তখত দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে ৪৬৫/৪১৭/৪৬৮/৪১৯/১০৯ পেনাল কোডের ধারায় বিয়ানীবাজার থানায় নিয়মিত মামলা (নং- ১০, তারিখ ১৫/০৫/২০১৮) করেছে। মামলায় আসামি ফাতেহা বেগম ফাহিমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডিএস/এএল/

 
.


আলোচিত সংবাদ