যুবদল নেতা হত্যায় ৭ পুলিশকে আসামি করে মামলা

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

যুবদল নেতা হত্যায় ৭ পুলিশকে আসামি করে মামলা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

print
যুবদল নেতা হত্যায় ৭ পুলিশকে আসামি করে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবদল সাবেক সহ-সভাপতি ইউনুছ আলীর (৩৫) স্ত্রী তার স্বামীকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজনকে আসামি করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ইউনুছের স্ত্রী কাজী শাহেনা আক্তার।

জেলা ও দায়রা জজ আতাব উল্লাহ শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করে সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা করেন। এছাড়া ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ারও আদেশ দেয়া হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সিরাজ আলী মীর জানান, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু ও নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১৫ (১) এবং ১৫ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলায় আসামি করা হয়েছে- চুনারুঘাট থানার এসআই আতাউর রহমান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন, এএসআই সাজিদ মিয়া, কনস্টেবল মনিন্দ্র চাকমা, কনস্টেবল আবদুল হামিদ, ড্রাইভার কনস্টেবল নুরুজ্জামান ও এসআই ওমর ফারুককে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টায় সাদা পোশাকে এএসআই দেলোয়ার হোসেন এবং এএসআই সাজিদ মিয়া বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ সময় ঝপটা-ঝাপটির কারণে বাদীর শো-কেইসের গ্লাস পড়ে এসআই দেলোয়ার আহন হন।

এঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এএসআই সাজিদ মিয়া বাদী হয়ে ইউনুছ আলীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে কাজী শাহানা আক্তার হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার পরই আসামি পুলিশ সদস্যরা প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ইউনুছ আলীকে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সম্রাট বানাতে তৎপর হয়।

পুলিশের দায়ের করা মামলায় ইউনুছ আলী ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর জামিন পেলে এসএসআই দেলোয়ার হোসেন ও এসআই আতাউর রহমান শাহানার দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রীকে চাপ দেন।

মামলা তুলে না নেয়ায় ৩১ ডিসেম্বর রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ইউনুছ আলীকে আসামি পুলিশ সদস্যরা আটক করে অমানুষিক নির্যাতনের পর গুলিবিদ্ধ করে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, তিনি মামলা দায়েরের কথা শুনেছেন। প্রত্যেক মানুষেরই বিচার চাওয়া তার মৌলিক অধিকার। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।

অবশ্য পুলিশের দাবি, গত ৩১ ডিসেম্বর উপজেলার দিমাগুরুন্ডা গ্রামের টমটম চালক জসিম উদ্দিনকে তার গাড়িতে করে মাদক পাচারের জন্য চাপ প্রয়োগ করে মাদক বিক্রেতা ইউনুছ মিয়া। এতে রাজি না হওয়ায় জসিমকে মারধর করে ইউনুছ।

রাতেই জসিম তার ফুফুকে নিয়ে ইউনুছের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের পরে থানার এসআই আতাউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দিমাগরুন্ডা গ্রামে অভিযান চালান।

এ সময় ইউনুছসহ চারজনকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ তাদের আটক করতে চাইলে এসআই আতাউরকে দা দিয়ে আঘাত করে ইউনুছ। আত্মরক্ষার্থে এসআই আতাউর গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউনুছের মৃত্যু হয়।

কেএটি/এমএসআই

 
.


আলোচিত সংবাদ