নিরুদ্ধ জলতরঙ্গ

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

নিরুদ্ধ জলতরঙ্গ

জাকিয়া সুলতানা ১:১৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

নিরুদ্ধ জলতরঙ্গ

অল্পের জন্য ধাক্কা খেতে খেতে সামলে নিল। নাহ! নিজে সামলে হয়তো নিতে পারত না – যার সাথে ধাক্কা খেতে যাচ্ছিল সেই সামলে নিল। ফলে ধাক্কাটা লেগেও লাগল না। অংশুমান একটু টলে যেতে লেগেছিল আবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। আর ধাক্কা সামলানোর মালিক মুহূর্ত-কয়েক অপ্রস্তুত মুখে দাঁড়িয়ে থেকে বলে উঠল, “সরি”।

-ইট’স ওকে।

বলে আবার যেদিকে যাচ্ছিল সেদিকেই যেতে যাবে এরকম সময় আবার ঐ কণ্ঠটার মালিক বলে উঠল,

-আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি আমি।

এবারে কণ্ঠ থেকে অপ্রস্তুত হওয়ার লজ্জাটা চলে গেছে। বরং বেশ সাবলীল বলেই মনে হল অংশুমানের কাছে।

-আমাকে?

-জী।

-আমি তো বাংলাদেশে থাকি না।

- আপনার গায়ের রং তো সেটা বলছে না।

অংশুমান অভিভূত হয়ে গেল ভদ্রমহিলার পর্যবেক্ষণী শক্তি দেখে। আসলেই ওকে দেখলে অনেকেই বোঝেনা যে ও প্রবাসী বাঙালী। কারণ ও অন্যদের মত বাংলাদেশে এসে এখানকার খাবার খাবনা, ওখানকার পানি খাবনা এসব করে না। আর ধুমছে ঘুরে বেড়ায়। আসার পর প্রথম কয়দিন হয়তো সবাই বোঝে যে ও প্রবাসে থাকে কিন্তু কয়েকদিন ঘুরে বেরিয়ে রোদে পুড়ে আগের চেহারায় ফিরে যায় ও। অপর্ণাও কিছু

বলেনা –কারণ এই কটা দিন বোনদের সাথে গল্প করতে পারে নিজের ইচ্ছেমত। অংশুমান কোথায় গেল, কি করল এসব খোঁজ রাখেনা বললেই চলে। হঠাৎ স্বভাবের সম্পূর্ণ উল্টো একটা কাজ করে ফেলল ও। ভদ্রমহিলাকে বলে ফেলল,

-কফি খাবেন?

-হুম। খাওয়া যেতে পারে।

-চলুন। সামনে বেশ কয়েকটা কফি’র দোকান আছে।

-চলুন। তবে শর্ত আছে একটা।

-কি শর্ত?

-আমি খাওয়াব।

এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকল ভদ্রমহিলার দিকে অংশুমান। তাকিয়ে বুঝল শর্ত মানতেই হবে। মাথা ঝাঁকিয়ে সামনে এগিয়ে গেল ও। পেছন পেছন ভদ্রমহিলা গেলেন।

-আমার নাম বিন্তি।

কফি’র কাপ হাতে নিয়ে ভদ্রমহিলা বললেন।

-আমি অংশুমান।

-বিদেশে কতদিন আছেন?

-দশ বছর প্রায়।

-দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছে হয় না?

-হুম। হয় তো। প্রচণ্ড ইচ্ছে হয়।

-কিন্তু ফেরার কথা চিন্তা করতেই ভয় পান তাইনা!

অংশুমান চুপ করে থাকে। কারণ চরম একটা সত্য কথা বলেছে বিন্তি।

বসবার ঘরে ব্যায়াম করে নিল বিন্তি। ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হয়। আধ ঘণ্টা হাঁটার পর বাসায় এসে ব্যায়ামগুলো করে। বিশ মিনিট লাগে সব ব্যায়াম করতে। আরো কয়েক বছর আগে হলে এই ছবিটা কল্পনাতেও আনা যেত কিনা সন্দেহ! অথচ তখন কত শখ হত একটু ব্যায়াম করতে- একটু নিজের যত্ন নিতে আলাদা করে। একেকদিন তো অফিস থেকে বাসায় ফিরে মনে হত কোথায় এল ও? পা রাখার পর্যন্ত জায়গা থাকত না। ও তখন ছোট বাচ্চা, অফিস আর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে পেরেশান। আর এখন একটু গল্প করতে ইচ্ছা করে কারো সান্নিধ্য পেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু কেউ এখন আসেই না বলতে গেলে। আর আসবেই বা কেন! প্রয়োজন তো ফুরিয়ে গেছে। আর ওর কাছে এসে কি হবে? ওর সামনে দিয়ে স্বাতী সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে যায় – ওখানে এখন সহ অধ্যাপক। ওর বাসায় একবার নামারও প্রয়োজন মনে করে না। দায়িত্ব মনে করার তো প্রশ্নই আসেনা। গতকাল ডক্টরকে রিপোর্ট দেখিয়ে এসে একটু ভাল লাগছে। একটু না অনেকটাই – প্রথমদিন তো একরকম তর্কই করে এসেছিল। কিন্তু কি অন্তর্ভেদী দৃষ্টি ছিল ভদ্রলোকের! বলেছিলেন,

-আপনার ভয় কাটাতে আমি সাহায্য করব।

-আপনি এতদিন পর কিভাবে আমার ভয় কাটাবেন?

ডক্টর আর কথা বাড়াননি। টেস্টগুলো করে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেছিলেন। বিগত দুই ওর বছরে মনোজগতে ভাল একটা তোলপাড় হয়ে গেছে। সেই তোলপাড় এর আলোড়ন কাটাতে প্রথমে আশ্রয় নিয়েছিল কোরআনের বাংলা তর্জমায়। তারপর বই পড়ায়। বই দিয়ে ভরে ফেলেছিল ঘর। অনেকদিন পর বই কেনার আর একই সাথে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে এনেছে। বনি ফিরে এসেছে সৌদি আরবের অত ভাল চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে কয়েক মাস হল। বনি ফেরার পর বই পড়তে পড়তেই একদিন ঘুমিয়ে পড়েছিল – টেবল ল্যাম্পটা জ্বলছিল সাইড টেবলে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে মনে হল কে যেন বসে আছে কালো একটা পোশাক পরে ঠিক ওর পিছনে। চমকে উঠে বনিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেছিল। বনি ওকে প্রচণ্ড জোরে কাঁপতে দেখে ভয় পেয়েছিল। কারণ এখন চিকুনগুনিয়া হচ্ছে ঘরে ঘরে। হাসপাতালে যেয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিক পেয়ে ইমারজেন্সিতে ডিউটিরত ডক্টর একজন নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিল। রিপোর্ট সবই নরমাল।

-আপনি খুব ভয় পান।

সেই অন্তর্ভেদী দৃষ্টি দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে উনি বলেছিলেন। ও ভয় পায়! বনি দেশের বাইরে ছিল ষোল বছর- সেই ষোল বছরে সংসার তো ঐ সামলেছে। বাচ্চাদের পড়াশুনা, ওদের বড় করা এমন কি ছোট দেবর আর বড় ননদের মেয়ের বিয়েও সামাল দিতে হয়েছে ওকে। পাশাপাশি নিজের চাকরি তো করেছেই। আর ও কিনা ভয় পায়। প্রতিবাদ করতে গেছিল প্রথম দিনের মত। তারপর হঠাৎ কি যেন মনে করে একটু থেমে বলেছিল,

-জী ডক্টর। আমি খুব ভীতু। সবাই আমাকে খুব সাহসী বলে মনে করে। কিন্তু আমি ঠিক এর উল্টোটা।

কথাটা বলার পর ওর চোখের সামনে দিয়ে যেন ভেসে গেল বিয়ের পরের আঠারোটা বছর। এই আঠারো বছরের মধ্যে ষোল বছরই বনি দেশের বাইরে থেকেছে। সেই সময়টা সব সময় মনের ভেতর একটা ভয় কাজ করত। কে কখন কি বলে ফেলে? আর নিজের মনের আবেগ,ইচ্ছা,শখ সব চাপা দিয়ে রেখে সবসময় চেয়েছে কিভাবে অন্যের ভাল করা যায়।

-আপনি একটা ডায়েট চার্ট নিয়ে যান ডায়েটিশিয়ানের কাছে থেকে। আমি লিখে দিচ্ছি।

রক্তে চিনির মাত্রা একটু বেশী থাকায় এই উপদেশ দিলেন। সালাম দিয়ে উঠে আসতে গেলে আবারো সেই গভীর দৃষ্টি ছড়িয়ে বললেন,

-ভাল থাকবেন।

যেন এই কথাটাই এই ষোলটা বছর ও কারো কাছে থেকে শুনতে চেয়েছিল। কিন্তু কেউ বলেনি। গতকাল থেকে যতবারই ঐ দৃষ্টির কথা মনে হচ্ছে ততবারই যেন একটা ভরসা কাজ করছে। এবার হয়তো আসলেও ওর সব ভয় কেটে যাবে। বাচ্চাদের নিয়ে ভয়,ভবিষ্যতে কি হবে সে ভয় আর নিজের জীবনটা নিয়ে এতদিন যে অনিরাপত্তায় ভুগেছে সবই কেটে যাবে। প্রথমদিন বৃথাই অবজ্ঞা করেছিল উনাকে বিন্তি।

নজরুল মঞ্চের চারিদিকে বেশ ভীড় –ফেব্রুআরি মাসের মাঝামাঝি সময় চলছে। এখন খুব ঘন ঘন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হতে থাকবে। আজো বোধ হয় আছে –কারণ ভীড়টা বেশ কয়েকটা ভাগে ভাগ হয়ে আছে। হিমেলের একটা কবিতার বই বেরিয়েছে এবার। আজ সেটার মোড়ক উন্মোচন হল মাত্র – নজরুল মঞ্চ থেকে নেমে আসতেই বিপরীত দিকে চোখ গেল অংশুমানের। বিন্তি বেরিয়ে আসছে “ঝিঙেফুল’ স্টলের ভেতর থেকে। এদিকেই আসছে। আরও একটু সামনে আসতেই চোখচোখি হল ওর সাথে। স্মিত হেসে এগিয়ে এল।

-কি কাকতাল!

-আমিও তো সেটাই ভাবছি।

-মেলায় আসতে ভাল লাগে বুঝি!

-তা তো লাগেই। তার উপর আজ আমার এক বন্ধুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ছিল।

-তাই!

-আপনি প্রায়ই আসেন বুঝি মেলায়।

-হুম। তা আসি অবশ্য।

হিমেলের সম্পর্কে কোন আগ্রহই প্রকাশ করল না বিন্তি। আর অংশুমানের সেটা নজর এড়াল না। সাধারণত কবি বা সাহিত্যিকদের ব্যাপারে সবার একটু অতিরিক্ত আগ্রহ দেখতেই অভ্যস্ত ও।

-আজ তো আপনার কফি খাওয়ানোর পালা।

-ওহ! সরি। খুব ভুল হয়ে গেছে। আমারই বলা উচিত ছিল আগে।

-চলুন আব্দুল করিম মিলনায়তন এর দোতলায় একটা কফি শপ আছে। ওখানে যাওয়া যাক আজকে।

-চলুন।

কফিশপের একপাশের দেওয়াল পুরোটাই কাঁচের – ওটার পাশেই যেয়ে বসল দুজন। মেলার অনেকটা অংশ এখান থেকে দেখা যায়। বিন্তির খুব ভাল লাগে দেখতে।

-আপনার বাসায় আর কে থাকে?

-ছেলে,মেয়ে আর তাদের বাবা। আপনার?

-ছেলে,মেয়ে আর তাদের মা।

ওকে অনুকরণ করে বলতে দেখে হেসে ফেলল বিন্তি। কফি খাওয়া হয়ে গেলে দুজন এলোমেলোভাবে ঘুরে বেড়াতে থাকল একাডেমী চত্বরের মেলা প্রাঙ্গনটায়।

-আমার বন্ধুর বইটা পড়ে দেখবেন? আমি এক কপি আপনাকে গিফট দিব।

-নাহ!

খুব অবাক হল অংশুমান। মেলায় আসেন ভদ্রমহিলা। অথচ বই কেনেন না। কিংবা ওর বন্ধু কবি জেনেও কোন উৎসাহই দেখাচ্ছেন না। উনার আচরণটা কেমন যেন স্ববিরোধী আচরণ বলে মনে হল ওর আছে।

সামনের একটা স্টলে ঢুকল বিন্তি। পেছন পেছন অংশুমানও। সামনে থেকে একটা বই হাতে তুলে নিল। এই বইটা লেখা হওয়ার সময়ের অনেক ইতিহাস ও জানে। কিন্তু কেনেনি বইটা – কেনেনি ইচ্ছা করেই।

একটা পত্রিকা হাতের কাছে পেয়ে ওটা নিয়ে বিছানায় গড়াল বিন্তি। আজ অফিসে যাবেনা ও। ছুটি নিয়েছে। বনি অবশ্য বেরিয়েছে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে কেমিক্যালের ব্যাবসা শুরু করেছে। প্রথমেই যে গল্পটা পেল পড়া শুরু করে দিল। বেশ টানটান লাগছে গল্পটার কাহিনী। কিন্তু অর্ধেকটা পড়ার পর আর সেটা থাকল না। টিপিক্যাল বাঙালী মধ্যবিত্ত চরিত্রের মত হয়ে গেল চরিত্রটা একেবারে গল্পের শেষে যেয়ে। প্রথম অর্ধেকটা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে ওর কাছে। এই এক সমস্যা। কিছু কিছু লেখক গল্প শুরু করেন খুব টানটান কিছু দিয়ে কিন্তু শেষের দিকে যেয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন গল্পের। ফরিদ একটা বই দিয়ে গেছে এবারের মেলা থেকে কিনে – ওর এক বন্ধুর লেখা- পড়ে এগোনোই যায় না দেখে ফেলে রেখে দিয়েছে ও। এরা কেন যে বই লেখে! আবার চিন্তা করে পাঠক হুমড়ি খেয়ে পড়ে এঁদের বই কেন কেনেনা! প্রকাশক নিশ্চয়ই বিরক্ত হয়ে ওঠেন এঁদের উপর। ওর অন্তত তাই মনে হয়। বই বিক্রি না হলে তো প্রকাশকের ক্ষতি। পরের গল্পটা ভাল লাগল। শাশুড়ি, ছেলে, ভাসুরের মেয়ে আর ছেলের বউয়ের ভেতরকার সম্পর্কের দ্বন্দ নিয়ে লেখা গল্পটা। শেষ পর্যন্ত এক টানে পড়া গেছে এবং শেষেরটুকু দারুণ লেগেছে ওর – মোটকথা গল্পের শেষে যেয়ে বিরক্ত বা হতাশ হতে হলনা বিন্তিকে। এটাই স্বস্তি দিল।

দুপুরে আজ একটার বদলে দেড়টায় খেতে বসল বিন্তি। সকালে দেরীতে খেয়েছে আজ একটু। প্রথম প্রথম ডায়েট চার্ট মেনে চলতে সমস্যা হত খুব। অনেকদিন হল গুছিয়ে খাওয়ার অভ্যাসটা নেই বলে। শুরু করার পর কটা দিন তো মাঝে মাঝে বমি এসে যেত। এত খাওয়া যায়? কিন্তু বনির কড়া নির্দেশ ডায়েট চার্ট অমান্য করা যাবে না। খেতেই হবে ওটা মেনে। কাজের ছোট্ট একটা মেয়েকে বাসায় রেখেছে। শুধু এটা ওটা এনে দেওয়ার জন্য আর কাছে থাকবে এজন্য। ও অফিসে গেলে টিভি দেখে সময় কাটায়। অফিস থেকে ফিরলে সারাক্ষণ পাশে থাকে। ওকে পাহারাদার বানিয়ে রেখেছে বনি – বিন্তি খায় না ফেলে দেয় এটা দেখার জন্য। নিজে খেয়ে মেয়েটাকে খেতে দিয়ে বেডরুমে এসে টিভি ছেড়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। মেয়েটাও একটু পর এসে মেঝেতে শুয়ে ওর সাথে টিভি দেখতে দেখতে টুকটাক গল্প করতে থাকল। একটা ভাল দিক আছে। টিভি দেখতে বসলে স্টার জলসা দেখার বায়না করে বসে না। অন্য সময়েও বাংলাদেশী চ্যানেলে বাংলা সিনেমা দেখে। অংশুমান আর অপর্ণা এসে একদিন বেড়িয়ে গেছে ওদের বাসায়। চমৎকার জুটি –দুজনেই বেশ হাসিখুশী আর মিশুক। বইমেলায় দুদিনে ও বোঝেনি অংশুমান কত আমুদে ছেলে। রীতিমত হুল্লোড় করে গেছে এখানে এসে। এত ভাল আবৃত্তি জানে আর খালি গলায় গানও শুনিয়েছে ওদেরকে। চর্চা নেই বলে গলা একটু বেসুরো লাগলেও বোঝা যায় একসময় ভাল গানের গলা ছিল।

অংশুমানদের বিমান হিথ্রো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছুঁয়েছে। হঠাৎ ওর কেন জানি বিন্তির মুখটা ভেসে উঠল – একটু অবাক করেছে ভদ্রমহিলার আচরণ ওকে। বইমেলায় যান অথচ বই কেনেন না। প্রথমদিন হাতে শুধু একটা পত্রিকা দেখেছে –‘ঢলভাঙ্গা’ নামে। দ্বিতীয়দিনও কোন বই কেনেন নি উনি। এমন না যে বই পড়েন না। উনার বাসায় দুটো আলমারি ভর্তি বই দেখেছে ওরা – শুধু সাজানোর জন্য রাখেন নি ওগুলো। পড়েন নিয়মিত। আরও একটা বিষয়ে ও অবাক হয়েছে। কথা বলতে বলতে হঠাৎ মুখের রেখাগুলো একটু কঠোর হয়ে যায় মাঝে মাঝেই। কোমলতা আর কঠোরতার মিশেল একই সাথে ঐ মুখে। কোমলতাকে সরিয়ে ধীরে ধীরে কঠোরতা এসে জায়গা করে নিচ্ছে নাকি বিপরীতটা ঠিক বুঝতে পারেনি ও। আশেপাশে নড়াচড়া টের পেতে বাস্তবে ফিরে এল অংশুমান। সবাই সীটবেল্ট খুলে উঠে দাঁড়াচ্ছে। ও নিজের সীটবেল্টে হাতটা রাখল।

লেখক: চিকিৎসক, লেখক

 

গল্প: আরও পড়ুন

আরও