এক্সপার্টের প্যানেলের প্রতিবদেনে সস্তুষ্ট হলেই আইপিও অনুমোদন

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

এক্সপার্টের প্যানেলের প্রতিবদেনে সস্তুষ্ট হলেই আইপিও অনুমোদন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

এক্সপার্টের প্যানেলের প্রতিবদেনে সস্তুষ্ট হলেই আইপিও অনুমোদন

বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরামর্শে দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিট ফার্মগুলোর সমন্বয়ে ‘আইপিও এক্সপার্ট প্যানেল’ করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এই প্যানেলের প্রতিবেদন দেখে সন্তুষ্ট হলে নতুন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করবে বিএসইসি।

বৃহস্পতিবার বিএসইসির সঙ্গে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ডিএসই ব্রোকারের্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতির অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী পাইলাইনে থাকা কোম্পানির আইপিও অনুমোদনে কঠোর হচ্ছে বিএসইসি। কোম্পানির প্রসপেক্টাস গভীরভাবে দেখভালের জন্য ডিএসইকে নতুন করে ‘এক্সপার্ট প্যানেল’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। এক্সপার্টের প্যানেলের প্রতিবদেন দেখে সস্তুষ্ট হলেই নতুন করে আইপিওর অনুমোদন দেয়া হবে।

জরুরি বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, সাইফুর রহমান, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান, শরীফ আতাউর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন, মো. হানিফ ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মাসুদুর রহমান, ডিবিএর সভাপতি মো. শাকিল রিজভী অংশ নেন।

বৈঠকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, বাজারের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ডিএসইর পরিচালকরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতিতে কমিশন বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। একই সঙ্গে, বাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিএসইসি ও ডিএসই একযোগে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করে।

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, কমিশনের সঙ্গে আজ একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বাজারে আস্থা ফিরে পাবে। বাজারে এখন বিনিয়োগাকরীদের মধ্যে শুধু হাহাকার, বাজারে অব্যাহত পতনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ওপর চূড়ান্তভাবে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে বিনিয়োগকারীরা। সর্বোপরি বাজারে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে বিএসইসিকে অবহিত করেছি। কমিশন এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে।

সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত আইপিও বাজারে এসেছে, সেসব কোম্পানির প্রসপেক্টাস ও আর্থিক প্রতিবেদনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম আস্থা নেই। কারণ এই ইস্যুগুলো আইপিওতে আসার আগে প্রসপেক্টাসে যে তথ্য উপাত্ত ছিল তালিকাভুক্তির পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনতিবিলম্বে গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাতে থাকা কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠিন ও কঠোরতর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয় বলে ডিএসইর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সভায় রকিবুর রহমান, শরীফ আতাউর রহমান, অধ্যাপক মাসুদুর রহমান এবং শাকিল রিজভী আইপিও এবং আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরলে বিএসইসি জানায়, তারাও এসব অনিয়মের বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করেছেন। কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আরও গভীর পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।

এজন্য কমিশন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সহযোগিতা চেয়ে ডিএসই বোর্ডকে একটি আইপিও পর্ববেক্ষণ প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেয়। এ বিষয়ে ইমন বলেন, ডিএসইর পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিট ফার্মগুলোর সমন্বয়ে ডিএসই একটি আইপিও ‘এক্সপার্ট প্যানেল’ গঠন করবে। আইপিওতে আসার জন্য ডিএসইতে জমা করা প্রসপেক্টাসগুলো এই প্যানেলের কাছে পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। তাদের দেয়া পর্যবেক্ষণ যাচাই করে বিএসইসি আইপিওর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।

ইমন জানান, ডিএসইতে নতুন আইপিওর লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় দিন তার ওপর ৫০ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তারপর থেকে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন হবে। এ বিষয়ে কমিশন পরবর্তী আইপিও থেকে এ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

ডিএসইর পরিচালকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন জানায়, আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও প্লেসমেন্টধারী যদি একই ব্যক্তি হয়, সেক্ষেত্রে প্রমাণ সাপেক্ষে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে ১ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর লক ইন (নিষেধাজ্ঞা) আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত দিনে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই নিময় প্রযোজ্য হবে।

এছাড়াও ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ কোনো প্রসপেক্টাসে অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক তথ্য পেলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ডিএসই তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন তদন্তের অনুমোদন দেবে।

ডিএসইর পরিচালকরা আইপিও ও রাইট শেয়ার অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশনের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষেতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপিওর কর্মকাণ্ড কিছু সংখ্যক ইস্যু ম্যানেজার ও অডিট ফার্মের বৃত্তে আটকে আছে, যা বাজারের জন্য সুস্থ লক্ষণ নয়। বর্তমানে ৫০-এর অধিক মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ৩৭টি নিবন্ধিত অডিট ফার্ম থাকা সত্ত্বেও হাতেগোনা কয়েকটি ফার্মই আইপিওর কাজ করছে।

কমিশন জানায়, নিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও যারা আইপিও আনতে পারছে না তাদেরকে সতর্ক করা হবে, প্রয়োজনে লাইসেন্সও বাতিল করা হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন অডিট ফার্মের ওয়ার্কিং পার্টনারের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

জেডএস

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও