শাহ মোহাম্মদ সগির সিকিউরিটিজের লেনদেন বন্ধ

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শাহ মোহাম্মদ সগির সিকিউরিটিজের লেনদেন বন্ধ

জাহিদ সুজন ৬:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

শাহ মোহাম্মদ সগির সিকিউরিটিজের লেনদেন বন্ধ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেক হোল্ডার শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ট্রেড (লেনদেন) বন্ধ করে দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তাধীন রয়েছে কোম্পানিটির কার্যক্রম। তাই সিকিউরিটিজ হাউজটির আওতাধীন বিনিয়োগকারীরা পড়েছে বিপাকে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ১৭১ তম ট্রেক হোল্ডার শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। ট্রেড সেটেলমেন্ট ফেইলুরের (লেনদেন সমন্বয় ব্যর্থতা) কারণে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিকিউরিটিজ হাউজটির ট্রেড (লেনদেন) স্থগিত করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয়ের বিপরীতে ডিএসইর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেনি সিকিউরিটিজ হাউজটি। আর এ কারণেই হাউজটির ট্রেড সাসপেন্ড করেছে ডিএসই। যা বর্তমানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তানাধীন রয়েছে। বিএসইসি’র তদন্ত শেষে এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোন হাউজের মাসে ২ বার ট্রেড সাসপেন্ড হলে সাধারণত ডিএসই নিজেই ট্রেড ওপেন করে দিতে পারে। এর বেশী হলে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র এখতিয়ারে চলে যায়। তখন ডিএসইর কিছুই করার থাকে না।

ডিএসইর কর্মকর্তারা বলেন, সিকিউরিটিজ হাউজের লেনদেন বন্ধ হলে তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে। বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছে করলেই লিঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্য কোন হাউজে তার বিনিয়োগ স্থানান্তরিত করতে পারবেন।

শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের বিনিয়োগকারী মো: শাহেদ (হাউজ কোড-১৬...৫৬) অভিযোগ করে বলেন, গত ২০-২২ দিন আমরা কোন ট্রেড করতে পারছি না। এছাড়া রিং সাইন টেক্সটাইলের আইপিওতে আবেদন বাবদ টাকা জমা দিলেও আমাদের আবেদন করা হয়নি।

ওই সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী সুসেন চন্দ্র দাস (বিও নং- এনসিইউ ২৩...৮০) অভিযোগ করে বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখ থেকে কোন প্রকার বাই-সেল করতে পারছি না। এমনকি গত দুই মাস যাবত আমরা টাকা উঠানোর রিক্যুইজিশন দিলেও হাউজ কর্তৃপক্ষ তা দিচ্ছে না।

শাহ মোহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোম্পানির মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সেসময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডি/সিইওকে পাওয়া যায়নি। আর যারাই উপস্থিত ছিলেন তারাও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তাহমিনা জামানকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটু সমস্যা হয়ে গেছে, যা আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে লিঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার ট্রান্সফারে হাউজ কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণ এবং সমস্যার সমাধানে কালক্ষেপনের সময়কালে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ লোকসানের দায় কে নেবে- এমন প্রশ্ন রাখলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, মন পরিস্থিতিতে হাউজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে তিনি ভোক্তভোগী গ্রাহকদের বিএসইসিতে অভিযোগের পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বিএসইসিতে কমপ্লেইন সেল খোলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করলে বিনিয়োগকারীরা ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফিডব্যাক পেয়ে থাকেন।

ঢাকা ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, এ ধরনের সমস্যায় বিনিয়োগকারীরা চাইলে লিঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার ট্রান্সফার করে নিতে পারেন। তবে এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কিছু নেই বলে জানান তিনি।

জেডএস/এসবি

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও