শেয়ার কারসাজি: বিক্রি করে পালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেয়ার কারসাজি: বিক্রি করে পালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

জাহিদ সুজন ১:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

শেয়ার কারসাজি: বিক্রি করে পালাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তে তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই কারসাজির দায়ে দুই ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহীসহ ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কারসাজির সাথে সম্পৃক্ত ২ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে স্পট মার্কেটে।

বিএসইসির কমিশনের তদন্ত কমিটি যেসব শেয়ারে কারসাজি খুঁজে পেয়েছে সেগুলো হলো- মুন্নু সিরামিক, মুন্নু স্টাফলার্স, আল-হাজ টেক্সটাইল, ইউনাইটেড পাওয়ার, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এসএস স্টিল, ইনটেক লিমিটেড, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেয়ার কারসাজি প্রমাণ হওয়ায় আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রয় চাপ দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার ক্রেতা সংকটে হল্টেড হয়েছে। অর্থাৎ আজ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রয়ে বিক্রেতা থাকলেও কোনো ক্রেতা ছিল না।

বিক্রয় চাপ অব্যাহত থাকা কোম্পানিগুলো হলো- মুন্নু সিরামিক, মুন্নু স্টাফলার্স, আল-হাজ টেক্সটাইল, ইউনাইটেড পাওয়ার, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, এসএস স্টিল, ইনটেক লিমিটেড ও সায়হাম কটন।

মুন্নু সিরামিক

মুন্নু সিরামিকস, মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক মুন্নু সিরামিকসের ধারণকৃত শেয়ারসমূহ ফ্রিজ থাকবে। অর্থাৎ মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ওই কোম্পানির ধারণকৃত শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, বন্ধকসহ সকল ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ার স্পর্ট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার লেনদেন শুরুর পর ক্রেতা সংকট দেখো দেয় কোম্পানিটির শেয়ারে। অব্যাহত বিক্রয় চাপে এ সময় কোম্পানিটির শেয়ার ৮.৭৫ শতাংশ বা ১৮.৩ টাকা কমে লেনদেন হতে দেখা গেছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের প্রারম্ভিক দরই কোম্পানিটি ক্রেতা সংকটে হল্টেড হয়েছে।

আল-হাজ টেক্সটাইল

আল-হাজ টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়াহোল্ডার পরিচালক মো. শামসুল হুদার সব সিকিউরিজিট (শেয়ার) ফ্রিজ (শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, বন্ধকসহ সকল ধরনের লেনদেন বন্ধ) করেছে বংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আল-হাজ টেক্সটাইলের শেয়ার মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে নিয়ে স্পট মার্কেটে লেনদেন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কোম্পানিটির শেয়ার ৯.৯৮৫ শতাংশ কমে ক্রেতা সংকটে হল্টেড হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার ৬৮.১ টাকা থেকে কমে ৬১.৩ টাকায় স্থিতি পেয়েছে।

মুন্নু জুট স্টাফলার্স

২০১৭ সালের জুলাই মাসে মুন্নু স্ট্যাফলার্সের শেয়ার দর ছিল ৪০০ টাকার নিচে। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ডিভিডেন্ড ঘোষণার দিন শেয়ারটির দর উঠে ৫৬৩৪ টাকায়। ঘোষিত ডিভিডেন্ড সমন্বয়ের পর ২০১৯ সালের পহেলা তা দাঁড়ায় ১৪৩৫ টাকা।

ডিভিডেন্ড সমন্বয়ের পর পতনের কবলে পড়ে ২১ জুলাই ২০১৯ তারিখে ৬৪০ টাকার নিচে নেমে যায়। তার পর আবারও শুরু হয় শেয়ারটি নিয়ে নতুন কারসাজি। পৌনে দুই মাসের মাথায় গত ১১ সেপ্টেম্বর এর শেয়ার দর ২০৪৫ টাকায় তোলা হয়। যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দর কিছুটা সংশোধন হয়ে দাঁড়ায় ১৯৬৭.৯০ টাকায়। কিন্তু আজ কোম্পানিটির শেয়ার ৬.২৪৫ শতাংশ বা ১২২.৯ টাকা কমে ১৮৪৫ টাকায় নেমে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পমূলধনী ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর একটি চক্র বিভিন্ন অসত্য মূল্যসংবেদনশীল তথ্য দিয়ে অতিমূল্যায়িত্ব করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তে এ কারসাজি প্রকাশ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার বিক্রয় করে পালাচ্ছে।

তারা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরো সক্রিয় হলে এসব কারসাজি আরো আগেই প্রকাশিত হতে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা রক্ষা পেত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসই’র সাবেক এক সভাপতি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয়তায় তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির কারসাজির চিত্র সামনে এসেছে। তাই বাজারে সামান্য বিক্রয় চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতিক সময় লাগামহীন শেয়ারগুলোরও বিক্রয় চাপ দেখা যাচ্ছে।

জেডএস/আরপি

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও