রেকর্ড দরপতনে ২০১৬ সালের অবস্থানে পুঁজিবাজার

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

রেকর্ড দরপতনে ২০১৬ সালের অবস্থানে পুঁজিবাজার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

রেকর্ড দরপতনে ২০১৬ সালের অবস্থানে পুঁজিবাজার

বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট, নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, তারল্য সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় অব্যাহত দরপতনে ভুগছে পুঁজিবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের অবস্থানে ফিরে গেছে পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির প্রত্যেকটি সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল অবস্থানে ফেরাতে পারেনি সরকার। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বাজার নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রশ্নবিদ্ধ কার্যকলাপ পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার অন্তরায়।

তারা বলেন, বাজারের আইপিও অনুমোদনে অনিয়ম থেকে শুরু করে আইনি প্রয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ২০১০ সালের ধসের সাথে সম্পৃক্তদের শাস্তি হয়নি এখনও। ফলশ্রুতিতে আস্থা সংকটে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজারে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ কার্যদিবস বিরতি দিয়ে টানা ১০ কার্যদিবসে দরপতন দেখেছে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। বুধবার লেনদেনের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও দরপতনের তীর্বতা বেড়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক কমেছে ৭৫.৭৮ পয়েন্ট। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসইএক্স মূল্যসূচক ৪৯৩৩.১৭ পয়েন্টে স্থিতি পেয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ৪৯৪১.৬৫ পয়েন্টে ছিল। অর্থাৎ বুধবারের দর পতনের মধ্যে দিয়ে ২০১৬ সালের অবস্থানে ফিরে গিয়েছে ডিএসই’র মূল্যসূচক।

এদিকে, বুধবার দর পতনে ভুগেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই)। এদিন সিএসই’র সাধারণ মূল্যসূচক সিএসইএক্স ১৩২.৫৯ পয়েন্ট কমে ৯১১৪.৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। সিএসই’র সাধারণ মূল্যসূচকও এদিন ২০১৬ সালের অবস্থানে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ২৮৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় ডিএসইতে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ৬৩ হাজার ১২৬টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

দিনশেষে ডিএসইতে ৫০২ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪০৭ কোটি ৩ লাখ টাকার। অর্থাৎ এদিন ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা।

দিনশেষে ডিএসইতে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ন্যাশনাল টিউবস। এদিন কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল জেএমআই সিরিঞ্জ, কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিকন ফার্মা।

ডিএসই’র টার্নওভার তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো মুন্নু সিরামিক, স্টাইল ক্রাফট, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, ওয়াটা কেমিক্যাল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও স্কয়ার ফার্মা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক সিএসসিএক্স এদিন ১৩২.৫৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১১৪ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ২১০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির দর। দিনশেষে সিএসইতে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

জেডএস/এইচআর

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও