বেপরোয়া দর পতনে লাগামহীন পুঁজিবাজার

ঢাকা, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২৪ কার্তিক ১৪২৬

বেপরোয়া দর পতনে লাগামহীন পুঁজিবাজার

জাহিদ সুজন ৪:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

বেপরোয়া দর পতনে লাগামহীন পুঁজিবাজার

সামান্য বিরতি দিয়ে টানা ৮ কার্যদিবসে দর পতন দেখেছে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। আগে অব্যাহত দর পতনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও টপ ব্রোকারদের মধ্যে দফায় দফায় মিটিং দেখা যেত। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ের দর পতন নিষ্ক্রিয় রয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পুঁজিবাজারের দর পতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষোদের নেতা কর্মীদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন দেখা গেলেও সম্প্রতিক সময়ের দর পতনে নিষ্ক্রিয় তারাও।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যাহত দর পতনে সিকিউরিটিজ হাউজের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পকেটের টাকা দিয়ে হাউজের কর্মকর্তা ও কর্মীদের বেতন দিতে হচ্ছে। বাজারের বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও কম। মূলত প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা ও তারল্য সংকটের কারণে বেপরোয়া দর পতনে লাগামহীন পড়েছে পুঁজিবাজার।

তারা বলেন, দর পতনে লাগাম টেনে ধরে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু জানুয়ারির পর থেকে টানা দর পতনে বিনিয়োগকারীদের ইক্যুইটি মাইনাস হলেও সংশ্লিষ্টদের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২২ আগস্ট ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এসময় ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ২৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। কিন্তু পরবর্তী কার্যদিবস থেকে সামান্য বিরতিতে নিয়মিত দর পতনে ৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ডিএসই’র বাজার মূলধন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ কোটি ১২ লাখ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। এদিন ডিএসইএক্স সূচক ৫ হাজার ৭ পয়েন্টে স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ গত ৮ কার্যদিবসে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার ১২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা ও ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ২২৯.৭৯ পয়েন্ট।

অব্যাহত দর পতনে বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত পিই রেশিও ১৩ পয়েন্টের ঘরে নেমে এসেছে। মূল্য আয়ের হিসাবে বাজার বিনিয়োগের জন্য সর্বোত্তম অবস্থানে থাকলেও বিনিয়োগে আসছে না বিনিয়োগকারীরা।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় সিকিউরিটিজ হাউজ লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান বলেন, বাজারের নিয়মিত দর পতন হলেও সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। গত জুলাইয়ে বাজারের দর পতনের কারণ খুজতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জন সম্মুখে আসে নি।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের পিই রেশিও এবং সার্বিক বিবেচনায় বাজার বিনিয়োগ উপযোগ হলেও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাইড লাইনে রয়েছে। ফলশ্রুতিতে বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন সিকিউরিটিজ শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত জানুয়ারির পর থেকে দর পতন! কেন এই দর পতন, কেন পুঁজিবাজারে টাকা আসছে না? ব্যাংকের সুদের হার কেন কমছে না? তা খুজে বের করা উচিত।

তারা বলেন, অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উর্ধ্বমুখী রয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজার বারং বার নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। বাজারের কারসাজি চক্র ও দূর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্তি বন্ধ করলে বাজার ইতিবাচক অবস্থানে ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ চৌধুরী বলেন, অব্যাহত দর পতনে বাজারের  বিনিয়োগকারীরা শেষ হয়ে গেছে।  অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর পোর্টফলিও নেগেটিভ। মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের অবস্থা আরও নাজুক।

এখন আর আপনাদের মানবন্ধন বিক্ষোভ করতে দেখা যায় না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দাবি নিয়ে আমরা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন প্রদর্শন করতাম। কিন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আমাদের কন্ঠ রোধ করতে মতিঝিল থানায় জিডি (সাধারণ ডাইরি) করেছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, নিয়মিত দর পতনে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর দর পতনে বাজারের মূল্যসূচকে বড় পতন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারের বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রয়ের চাপও দেখা যাচ্ছে। যা সূচকের পতনে ভূমিকা রাখছে।

জেডএস/

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও