পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন কার্যক্রম শুরু

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন কার্যক্রম শুরু

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন কার্যক্রম শুরু

অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের দায়ে ডুবতে বসা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএসএল) অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটির অবসায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে ও সকল সম্পদ, দায় দেনার হিসাব নিতে লিকুইডেটর বা অবসায়ক (Liquidator) নিয়োগ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার কোম্পানির পক্ষ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে লিকিউডেশন কার্যক্রমে সার্টিফিকেট পেয়েছে কোম্পানিটি।  পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক শর্তসাপেক্ষে কোম্পানির সম্পদের দায়িত্ব বুঝে নিতে লিকুইডেটর নিয়োগ দিয়েছে। অর্থাৎ আইনি পক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কোম্পানিটির অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। আর গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে।

পিপলস লিজিংয়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি দেখানো হয়েছে ৭৪৮ কোটি টাকা, যা ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে।

বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

গত ১০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পিপলস লিজিং বন্ধ হলেও আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার কোন কারণ নাই।

তিনি বলেন, এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের তুলনায় তাদের সম্পদের পরিমাণ বেশি রয়েছে সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই যত দ্রুত সম্ভব আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম।

তারা জানান, পিপলস লিজিংয়ের আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি। তাদের আমানতের পরিমাণ দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে সম্পদ আছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এ কারণে আমানতকারীদের শঙ্কার কিছু নেই।

সূত্র আরও জানায়, পিপলস লিজিংয়ে নানা অনিয়ম, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং চরম অর্থ সংকটের কারণে আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারাসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

ওই চিঠিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২২(৩) এবং ২৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। সম্মতি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়।

চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ, অনিয়মের ধরন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ও মাসিক বেতন-ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু হয়।

জেডএস/এএসটি

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও