পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার বিক্রয়ে মরিয়া বিনিয়োগকারীরা

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার বিক্রয়ে মরিয়া বিনিয়োগকারীরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার বিক্রয়ে মরিয়া বিনিয়োগকারীরা

অবসায়নের অপেক্ষায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) শেয়ার বিক্রয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু ক্রেতার দেখা মিলছে না।

তাই অব্যাহত বিক্রয় চাপে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৯.০৯১ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হলেও আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাবে কি না তা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলে, এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের তুলনায় তাদের সম্পদের পরিমাণ বেশি রয়েছে। সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, যত দ্রুত সম্ভব আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়া হবে।

তারা জানান, পিপলস লিজিংয়ের আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি। তাদের আমানতের পরিমাণ দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে সম্পদ আছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এ কারণে আমানতকারীদের শঙ্কার কিছু নেই।

ডিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পিপলস লিজিংয়ের ১ কোটি ২২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৪১টি শেয়ার বিক্রয়ের অর্ডার আসলেও কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয়ে কোনো ক্রেতা ছিল না। এর আগে গত মঙ্গলবার কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১০ শতাংশ, গতকাল বুধবার কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছিল ৮.৩৩ শতাংশ।

এদিকে, আজ প্রথম ঘণ্টার লেনদেনের মধ্যেই দর কমেছে ৯.০৯১ শতাংশ। এ সময় কোম্পানিটির সর্বশেষ দর ছিল ৩ টাকা।

১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। আর গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে। পিপলস লিজিংয়ে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি দেখানো হয়েছে ৭৪৮ কোটি টাকা, যা ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

জেডএস/আরপি

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও