নগদ টাকা নেই, বন্ধ হচ্ছে পিপলস লিজিং

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

নগদ টাকা নেই, বন্ধ হচ্ছে পিপলস লিজিং

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

নগদ টাকা নেই, বন্ধ হচ্ছে পিপলস লিজিং

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম নানা অনিয়ম আর নগদ টাকার অভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল) বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সঙ্গে নগদ অর্থও না থাকায় আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

চিঠিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২২(৩) এবং ২৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর মতামত চাওয়া হয়। এতে সম্মতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দেয়।

ওই চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিতে আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ, অনিয়মের ধরন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ও মাসিক বেতন-ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে মোট আমানত রয়েছে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনো নগদ টাকা প্রতিষ্ঠানটির হাতে নেই।

১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। আর গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে।

পিপলস লিজিংয়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি দেখানো হয়েছে ৭৪৮ কোটি টাকা, যা ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এর মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে।

বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

পিপলস লিজিং বন্ধ হলে এটিই হবে দেশে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার প্রথম নজির।

আইন অনুযায়ী, হাইকোর্ট অনুমোদন দিলে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ক (Liquidator) নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি কোম্পানিটির সম্পদের মূল্য ও দায়-দেনা নিরুপণ করবেন। পরবর্তীতে পাওনা আদায় ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে দেনা শোধ করার ব্যবস্থা করবেন।

এফএ/আইএম

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও