পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের ১৪ দাবি

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের ১৪ দাবি

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগকারীদের ১৪ দাবি

পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১৪ দফা দাবি পেশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

বুধবার বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ.কে.এম মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে পুঁজিবাজারে যে মহাপতন শুরু হয়েছিল তা ক্রমান্বয়ে সিরিজ পতনের মাধ্যমে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এই সময়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাই মাঝে মধ্যে বাজার সামান্য স্থিতিশীল হলেও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এমতাবস্থায় বাজার উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নিম্নলিখিত ১৪ দফা দাবিসমূহ বাস্তবায়নের আহবান জানাচ্ছে।

০১. ইস্যুমূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানি/কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যুমূল্যে শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।

০২. প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের লকইন পিরিয়ড ৫ বছর করতে হবে।

০৩. পুঁজিবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ ৩% সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে ৫% হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।

০৪. অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। কারণ এই অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ না দিলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবে যা কখনো ফেরত আসবে না।

০৫. পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫ বাতিল করতে হবে এবং সকল ধরণের আইপিও ৩ বছরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। ভবিষ্যতে আইপিওতে কোনো প্রকার প্রিমিয়াম দেওয়া যাবে না।

০৬. জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বলতে কোনো মার্কেট থাকতে পারবে না। তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানিকে কমপক্ষে ১০% হারে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে। রাইট শেয়ার এবং বোনাস শেয়ার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

০৭. বিডিং প্রক্রিয়ায় ইলিজিবল ইনভেস্টরদের সক্ষমতা ও যোগ্যতা যাচাই করতে হবে এবং বিডিং প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত শেয়ারের লকইন পিরিয়ড ২ বছর করতে হবে।

০৮. সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা ৮০% করতে হবে।

০৯. ২ সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যেসকল কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২% এবং সম্মিলিতভাবে ৩০% শেয়ার নেই, ঐসকল উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

১০. পুঁজিবাজারের প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে বাধ্য করতে হবে এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০% অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে কমপক্ষে ১০% নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে।

১১. জীবন বীমা খাতের বিপুল পরিমাণ অলস এবং সঞ্চিত অর্থের ৪০% পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য করতে হবে।

১২. জানুয়ারি ২০১১ হতে জুন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

১৩. খন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৪. জীবন বাঁচাতে এবং ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার মামলা প্রত্যাহার এবং পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

জেডএস/এআরই

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও