কেমন হবে নিউ লাইন ক্লথিংয়ের দর?

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

কেমন হবে নিউ লাইন ক্লথিংয়ের দর?

জাহিদ সুজন ৮:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

কেমন হবে নিউ লাইন ক্লথিংয়ের দর?

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নিউ লাইন ক্লথিংসের শেয়ার লেনদেন আগামীকাল সোমবার শুরু হবে। এদিন দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে লেনদেন শুরু করবে কোম্পানিটি।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বস্ত্র খাতের আওতাধীন কোম্পানিটি ‘এন’ ক্যাটাগরিতে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু করবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড- ‘NEWLINE’। ডিএসইতে কোম্পানি কোড হচ্ছে- ১৭৪৮২।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কোম্পানিটির স্ক্রিপ্ট কোড- ‘NEWLINE’ ও স্ক্রিপ্ট আইডি-১২০৭০। আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা কোম্পানিটি সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন।

তাই কোম্পানিটির ব্যবসায়িক হালচাল ও আর্থিক পরিস্থিতি পরিবর্তন ডটকমের পাঠকদের জন্য নিম্নে তুলে ধরা হলো—

একনজরে নিউ লাইন ক্লথিংস

ব্যবসায়ের ধরন: কোম্পানিটির শতভাগ রফতানিমুখী ওভেন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ।

কারখানার অবস্থান: মৌচাক, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠান: ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু, ২০০৭ সালের ১ মার্চ থেকে কোম্পানিটি তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে।

সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান: নিউ লাইন ক্লথিংস লিমিটেডের কোনো সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান নাই।

প্রধান প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান: কোম্পানির প্রসপেক্টাসের তথ্যানুযায়ী, দেশে টেক্সটাইল ও অ্যাপেরাল ইন্ডাস্ট্রিতে ৫ হাজারের উপরে কোম্পানি রয়েছে, যার তৈরি পোশাক উৎপাদন করে। কিন্তু, এর মধ্যে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত ৯টি প্রতিষ্ঠান নিউলাইন ক্লথিংসের প্রধান প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান (Major Competitors)।

অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইএইচ ফেব্রিকস, হাসান তানভীর ফ্যাশন ওয়্যার, রাজা ফ্যাশন, সাগর গামেন্টর্স ও নিপা ফ্যাশন ওয়্যার লিমিটেড।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- হা-ওয়েল টেক্সটাইল (বিডি), তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, এনভয় টেক্সটাইল, দেশ গার্মেন্টস ও জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা: কোম্পানির প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, নিউ লাইন ক্লথিংসের প্রধান কার্যালয়ে ৭৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। পাশাপাশি ফ্যাক্টরিতে ২ হাজার ৭৬০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বমোট ২ হাজার ৮৮৭ জন ফুল-টাইম কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যাদের কারও বেতন মাসিক সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকার নিচে নয়।

উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহার: প্রসপেক্টাসের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জুন, ২০১৭ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৮৪ লাখ পিস। কিন্তু, এ সময় কোম্পানিটির মূল উৎপাদন ছিল ৬৪ লাখ ৪০ হাজার পিস উৎপাদন করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি ওই বছর তাদের উৎপাদন ক্ষমতার ৭৬.৬৯ শতাংশ ব্যবহার করেছে।

একনজরে বস্ত্র খাতের হালচাল

দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৫৫টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। সর্বশেষ বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় এস্কয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। লেনদেন শুরুর দ্বিতীয় কার্যদিবসেই কোম্পানিটির শেয়ার অধিমূল্যের নিচে (প্রিমিয়ামসহ মূল্য) নেমে আসে।

বর্তমানে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত ৫৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৩টির শেয়ার দর ফেসভ্যালু বা ১০ টাকার নিচে অবস্থান করছে। এ ছাড়া প্রায় ২০টি কোম্পানির শেয়ার অধিমূল্যের নিচে অবস্থান করছে।

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের বেহাল দশা হলেও অর্থনীতির উন্নয়নে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের রফতানি আয়ের একক বৃহত্তম খাত এটি। এ খাত থেকে দেশের সর্বমোট রফতানি আয়ের ৮১ শতাংশ আসে।

আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলন

গত ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৬৭তম সভায় কোম্পানিটিকে এ অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।

উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার

পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, কারখানা ভবন সম্প্রসারণ, মেয়াদী ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

প্রসপেক্টাস সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি উত্তোলিত অর্থের ১১ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার ৬৬০ টাকায় মেশিনারিজ ক্রয় ও স্থাপনের কাজে ব্যয় করবে। বাদবাকি অর্থের ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৯০ টাকায় সিভিল কন্সট্রাকশনের জন্য ও ৯ কোটি টাকায় ঋণ পরিশোধ করবে।

এ ছাড়া আইপিও সংক্রান্ত ব্যয় বাবদ কোম্পানিটি ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যয় করবে।

লেনদেনযোগ্য শেয়ার

ফিক্সড প্রাইস প্রক্রিয়ায় ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে নিউ লাইন ক্লথিংস লিমিটেড। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে অর্থাৎ ২ কোটি ২৫ লাখ শেয়ার বিক্রয় উপযোগী হবে।

এর মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ার বিজয়ী সাধারণ বিনিয়োগকারী, এনআরবি এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার।

এ ছাড়া আইপিও বিজয়ী যোগ্য বিনিয়োগকারীদের সর্বমোট শেয়ারের ৫০ শতাংশ বা ৭৫ লাখ শেয়ার।

আইপিও বিজয়ীযোগ্য বিনিয়োগকারীদের বাদবাকি ৫০ শতাংশ শেয়ারের ৫০ শতাংশ বা ৭৫ লাখ শেয়ারের লকইন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (বিএসইসি) নতুন নিয়ম অনুযায়ী গণনা করা হবে।

নতুন নিয়মানুয়ী, ট্রেডিং শুরুর দিন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার লক-ইন গণনা করা হবে। সেই হিসাবে আইপিও বিজয়ী যোগ্য বিনিয়োগকারীদের লকইন উঠবে চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর।

প্লেসমেন্ট শেয়ারের লকইন

আগামী ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের শেয়ার লকইন থাকবে, যা ট্রেডিং ডে হতে গণনা শুরু হবে। উদ্যোক্তা বা পরিচলকাদের শেয়ার আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত লকইন থাকবে।

তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা বেড়েছে

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’১৯) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৮ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৬৬ টাকা।

সে হিসেবে কোম্পানির  ইপিএস বেড়েছে ০.০২ টাকা বা ৩.০৩ শতাংশ। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৩৯ টাকা।

এই সময়ে কোম্পানির কর পরবর্তী মোট মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ২ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এদিকে, নয় মাসে (জুলাই’১৭-মার্চ১৮) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৪৭ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৩৯ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির  ইপিএস বেড়েছে ০.০৮ টাকা বা ৫.৭৫ শতাংশ। আর আইপিও পরবর্তী শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৮৪ টাকা।

এই সময়ে কোম্পানির কর পরবর্তী মোট মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে মুনাফা ছিল ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া আলোচিত সময় কোম্পানির আইপিও পূর্ববর্তী শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৩ টাকা। আইপিও পরবর্তী পরে যা দাঁড়িয়েছে ২৪.২৩ টাকা।

জেডএস/আইএম

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও