শর্টসেলসহ ৩ আইনের অনুমোদন দিল বিএসইসি

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

শর্টসেলসহ ৩ আইনের অনুমোদন দিল বিএসইসি

পরিবর্তন প্রতিবদেক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

শর্টসেলসহ ৩ আইনের অনুমোদন দিল বিএসইসি

ট্রেক হোল্ডারদের দাবির মুখে বাজারে শর্টসেলেরও বৈধতা দিয়ে আইনের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পাশাপাশি ইক্যুইটি মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইসলামী বন্ড ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ডেরিভেটিভস আইনেরও অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ৬৮৬তম কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত তিনটি আইনের বিধিমালায় চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। যা শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর আগে বিএসইসি’র ৬৮৩তম কমিশন সভায় আইনগুলোর খসড়া অনুমোদন ও জনমত জরিপের জন্য প্রকাশ করা হয়।

জানা যায়, বাজারের নতুনত্ব আনতে সুকুক (ইসলামী বন্ড) ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এজন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইনভেস্টমেন্ট সুকুক) রুলস, ২০১৯ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ডেরিভেটিভস) রুলস ২০১৯ অনুমোদন করেছে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, সুকুক হচ্ছে এক ধরনের বন্ড। যা ইসলামী শরীয়াহ্ আইন অনুসারে পরিচালিত হয়। এতে সাধারণ বন্ডের মতো কোনো নির্দিষ্ট সুদ হার থাকে না। এর পরিবর্তে শরীয়াহ্ আইন অনুযায়ী বন্ডটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা প্রদান করবে। সাধারণ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এর অবসান ঘটে।

বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী ইসলামিক বন্ড ‘সুকুক’ খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে আটটি পূর্ণ ইসলামি ব্যাংক এবং ১৭টি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো থাকলেও সুকুক এখনো চালু হয়নি। তবে ভিন্ন নামে ইসলামিক বন্ড চালু থাকলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

বিশ্বে ইসলামিক বন্ড সুকুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সৌদি আরবে। দেশটি ইসলামিক বন্ড সুকুকের মোট শেয়ারের প্রায় ৩৯ শতাংশ তাদের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়া। দেশটির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে সুকুক বন্ড।

২০১৮ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ইসলামিক বন্ড সুকুকের প্রায় ৩৩ শতাংশ মালয়েশিয়ার শেয়ার। এরপরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ওমান, তুরস্ক, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, হংকং, নাইজেরিয়া, ব্রুনাই ও জর্ডান। বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে। মাত্র দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ইসলামিক বন্ডের শেয়ার আছে দেশটির। আবার বৃহৎ মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অধিকাংশ পরিমাপে পেছনের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (শর্টসেল) রুলস, ২০১৯-এর বিধিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

শর্টসেল হচ্ছে বিনিয়োগকারীর কাছে কোনো কোম্পানির না থাকা সত্ত্বেও অথবা কম শেয়ার থাকা সত্ত্বেও তারচেয়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করা। বর্তমান আইনে এ ধরনের শেয়ার বিক্রি তথা শর্টসেল নিষিদ্ধ। বিএসইসি এটিকে একটি কাঠামোর আওতায় বৈধতা দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেলে শর্টসেল আর অবৈধ থাকবে না।

উল্লেখ্য, বিগত ২৯ জানুয়ারির পর থেকে অব্যাহত দরপতনে ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। তাই পণ্যের বৈচিত্র্য ও শর্টসেল বৈধ করার জন্য আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

জেডএস/এসবি