প্রতীকী গণঅনশন করবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

প্রতীকী গণঅনশন করবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

প্রতীকী গণঅনশন করবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা

টানা দরপতনে পুঁজি হারিয়ে বিপাকে পড়েছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা, অর্থমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হলেও গতি ফিরেনি বাজারে। তাই বাজারের পতন ঠেকাতে ও স্থিতিশীল করার দাবিতে আগামী ২৯ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রতীকী গণঅনশন করবেন বিনিয়োগকারীরা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মিজান-উর-রশিদ।

মিজান বলেন, হাতেগুনা কিছু ব্যক্তির কারণে পুঁজিবাজারের এমন বেহাল অবস্থা। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের মহাধসের সাথে সম্পৃক্তদের শাস্তি না হওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, জানুয়ারির পর থেকে অব্যাহত দরপতনে বাজারের বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও খালি হয়েছে। যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে তাদের অবস্থা আরো খারাপ। তাই বাজারের স্বাভাবিকতা ফিরাতে আগামী সোমবার ১২ দফা দাবিতে আমরা প্রতীকী গণঅনশন করব।

বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো হলো—

১. বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনসহ সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে হবে।

২. যে সমস্ত কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করেছে এবং করবে ঐ সমস্ত কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিতে হবে, জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বলতে কোনো মার্কেট থাকতে পারবে না।

৩. দুর্বল কোম্পানির আইপিও প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

৪. খন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. যে সকল কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৬. পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধির জন্য সহজশর্তে অর্থাৎ ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। যা আইসিবি, বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ৫% হারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে।

৭. পুঁজিবাজারে প্রাণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে পুঁজিবাজারে সক্রিয় করতে বাধ্য করতে হবে এবং প্রত্যেক ফান্ডের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে কমপক্ষে ১০% হারে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে এবং মেয়াদ না বাড়িয়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে ক্লোজ ফান্ডে রূপান্তর করতে হবে।

৮. পুঁজিবাজারে যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিত্ব (বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ) নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ফিন্যান্সিয়াল রিপোটিং অ্যাক্ট ২০১৫ বাস্তবায়ন এবং বাইব্যাক আইন চালু করতে হবে।

১০. আইপিও’র শেয়ারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৮০% কোটা দিতে হবে।

১১. জানুয়ারি ২০১১ সাল থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন লোনের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।

১২. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিপরীতে বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ নামে বিকল্প স্টক এক্সচেঞ্জ করতে হবে, এতে কারসাজি করা যাবে।

জেডএস/এসবি