পুঁজিবাজারের অলিম্পিক এক্সেসরিজের ৫১ কোটি টাকা জালিয়াতি

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পুঁজিবাজারের অলিম্পিক এক্সেসরিজের ৫১ কোটি টাকা জালিয়াতি

ফরিদ আহমেদ ৬:১২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

পুঁজিবাজারের অলিম্পিক এক্সেসরিজের ৫১ কোটি টাকা জালিয়াতি

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক এক্সেসরিজ প্রায় ৫১ কোটি টাকার জালিয়াতি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় পণ্য এনে উল্লেখিত পরিমাণ পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।

বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ও কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড, বিশিয়া, কুড়িবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর এর বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রির ঘটনা উদঘাটন করা হয়েছে। এর মূল্য  শুল্ক ও করসহ প্রায় ৫১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫২ টাকা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিন দফায় গত ৬/৪/২০১৯, ৭/৪/২০১৯ ও ১৯/৪/২০১৯ তারিখে  অলিম্পিক এক্সেসরিজে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা। শুল্ক গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক মো আবু হাসানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ও কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

তারা মেসার্স অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়, সায়হাম স্কাই ভিউ টাওয়ার, ষষ্ঠ তলা, ৪৫, বিজয়নগর, ঢাকা আকস্মিক অভিযান চালান। এসময় প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যার হাউসে ঢুকে কাঁচামাল সমূহের যৌথ ইনভেন্টরি করা হয়। কাঁচামাল গণনা করে বন্ড রেজিস্টারে ৬/৪/২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ প্রদর্শিত কাঁচামালের সর্বশেষ মজুদের সঙ্গে তুলনা করে বিভিন্ন কাঁচামাল কম পাওয়া যায়।

কম পাওয়া কাঁচমাল এর মধ্যে রয়েছে পলিস্টার টেক্সচার্ড ইয়ার্ন ১০৪.৭৫৮ মেট্রিক টন, পিভিসি শীট ২০.৪৯০ মেট্রিক টন, বিওপিপি ৩১.৭৪৪ মেট্রিক টন, পিপি ৩৩৩.৯৯৫ মেট্রিক টন, আর্ট কার্ড ৫২.৪৭৭ মেট্রিক টন, প্রিন্টিং ইনক ৩.৭৬৩ মেট্রিক টন, রিবন ৫.১৯০ মেট্রিক টন, এলডি পিই ২৪২.৫৭৫ মেট্রিক টন, অ্যাডহেসিভ টেপ ৩.৩২৮ মেট্রিক টন,  রাবার থ্রেড  ৩.২৪২ মেট্রিক টন, পলিস্টার ইয়ার্ন ১০৪.৭৫৮ পলিস্টাইরিন ১৮ মেট্রিক টন, লাইনার পেপার  ৬০.০৩১ মেট্রিক টন, মিডিয়াম পেপার ১০.০৬১ মেট্রিক টন, গাম টেপ ৭.০৭১ মেট্রিক টন, ডুপ্লেক্স বোর্ড ৫০১.৫০২ মেট্রিক টন। এসবের আমদানি মূল্য প্রায় ১১ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩১ টাকা।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় থেকে জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে ২৫ কোটি ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৬ টাকার কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি মোট (১১২১৮৫৪৩১+২৫৪১২৪৬২৬) টাকা = ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার ৫১ টাকা মূল্যমানের আমদানিকৃত কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণ করেছে।

অবৈধভাবে অপসারিত কাঁচা মালের উপর সরকারের শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৫ টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, অলিম্পিক এক্সেসরিজে বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য অনিয়মগুলোও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে অলিম্পিক এক্সেসরিজের কোম্পানি সচিব হাবিব উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

এফএ/এএসটি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও