আতঙ্ক কাটছে না পুঁজিবাজারে

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

আতঙ্ক কাটছে না পুঁজিবাজারে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

আতঙ্ক কাটছে না পুঁজিবাজারে

অব্যাহত দর পতনে ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। টানা দর পতনের বাজারে ট্রেক হোল্ডারদের দফায় দফায় বৈঠকের পর সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে বৈঠক করেছেন খোদ অর্থমন্ত্রী।

কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বৈঠকের পরও মঙ্গলবার দর পতন অব্যাহত ছিল পুঁজিবাজারে।

বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক বিক্রয় চাপে এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৬২.৮৭ পয়েন্ট বা ১.১৮ শতাংশ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারন মূল্যসূচক কমেছে ৯১.৪৫ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক হলেও মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

ফলশ্রুতিতে বাজারের সাথে সম্পৃক্ত বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রয় করছে।

তারা বলেন, বাজারের কাঠামোগত বা আইনি কোনো সমস্যা নেই। বাজারের বর্তমান সমস্যা হচ্ছে তারল্য সংকট। তারল্য সংকটের কারনে মার্চেন্ট ব্যাংক, আইসিবি, মিউচুয়্যাল ফান্ডসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারছে না।

দেখা যায়, টানা ১৩তম সপ্তাহে দর পতনে ভুগছে পুঁজিবাজার। গত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে বাজার অব্যাহত দর পতন হচ্ছে। যদিও দুই এক কার্যদিবসে সামান্য উত্থান দেখেছে বিনিয়োগকারীরা।

গত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে টানা দর পতনে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দিনশেষে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসুচক ৬৮৯.৯৩ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় বাজারের সার্বিক লেনদেন ১২ শত কোটি টাকা থেকে কমে ২০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ২৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এর আগে রোববার ডিএসইতে ৩৫১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এই হিসাবে ডিএসইতে ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন কমেছে।

এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৪২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ২৬৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টি কোম্পানির শেয়ার দর।

ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ৬২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ২১৫ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৭২ পয়েন্টে।

অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৬ হাজার ১২১ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ১৮৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির শেয়ার দর।

সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, গত কিছু দিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে যেভাবে সূচকের পতন হচ্ছে এর পেছনে কেউ জড়িত থাকতে পারে। তবে বাজারের পতনে জড়িত যেই থাকুক তাকে খুঁজে বের করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সব দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের উঠা-নামা হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বিনিয়োগকারীদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। বর্তমান পুঁজিবাজার সঠিক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বিস্তারিত করণীয় ঠিক করা হবে। বাজেটের পর বাজার নির্দিষ্ট একটা কাঠামোতে চলে আসবে।

পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট থাকা উচিত না এমন মন্তব্য করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেছেন, কেউ যদি ট্রেড করে থাকে বাজারের স্টেকহোল্ডার হইয়া, পার্টিসিপেট হইয়া, বিনিয়োগকারী হইয়া, এটা তারা অন্যায় করছে। কারণ নিজের পারসেপশন দিয়ে পুরো মার্কেটকে প্রভাবিত করা ঠিক না।

জেডএস/এআরই

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও