পুঁজিবাজারে আসছে নতুনত্ব, বৈধ হচ্ছে শর্টসেল

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পুঁজিবাজারে আসছে নতুনত্ব, বৈধ হচ্ছে শর্টসেল

জাহিদ সুজন ১০:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

পুঁজিবাজারে আসছে নতুনত্ব, বৈধ হচ্ছে শর্টসেল

ইক্যুইটি মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন ২টি পণ্য চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। পাশাপাশি ট্রেক হোল্ডারদের দাবির মুখে বাজারে শর্ট সেলেরও বৈধতা দিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ৬৮৩তম কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত তিনটি আইনের খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। যা শিগগিরই জনমত জরিপের জন্য দৈনিক পত্রিকা ও কমিশনের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়, বাজারের নতুনত্ব আনতে সুকুক (ইসলামী বন্ড) ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর জন্য বিধিমালার খসড়া তৈরি করেছে সংস্থাটি। যা যথাক্রমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইনভেস্টমেন্ট সুকুক) রুলস, ২০১৯ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ডেরিভেটিভস) রুলস ২০১৯ নামে প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সুকুক হচ্ছে এক ধরনের বন্ড। যা ইসলামী শরীয়াহ্ আইন অনুসারে পরিচালিত হয়। এতে সাধারণ বন্ডের মতো কোনো নির্দিষ্ট সুদ হার থাকে না। এর পরিবর্তে শরীয়াহ্ আইন অনুযায়ী বন্ডটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা প্রদান করবে। সাধারণ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এর অবসান ঘটে।

বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী ইসলামিক বন্ড ‘সুকুক’ খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলাদেশে আটটি পূর্ণ ইসলামি ব্যাংক এবং ১৭টি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো থাকলেও সুকুক এখনো চালু হয়নি। তবে ভিন্ন নামে ইসলামিক বন্ড চালু থাকলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না গ্রাহকরা।

বিশ্বে ইসলামিক বন্ড সুকুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সৌদি আরবে। দেশটি ইসলামিক বন্ড সুকুকের মোট শেয়ারের প্রায় ৩৯ শতাংশ তাদের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়া। দেশটির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে সুকুক বন্ড।

২০১৮ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ইসলামিক বন্ড সুকুকের প্রায় ৩৩ শতাংশ মালয়েশিয়ার শেয়ার। এরপরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ওমান, তুরস্ক, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, হংকং, নাইজেরিয়া, ব্রুনাই ও জর্ডান। বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে। মাত্র দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ইসলামিক বন্ডের শেয়ার আছে দেশটির। আবার বৃহৎ মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামিক ব্যাকিংয়ের অধিকাংশ পরিমাপে পেছনের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (শর্টসেল) রুলস, ২০১৯ নামের খসড়া বিধিমালাটি অনুমোদন হয়েছে। আর এটি জনমত যাচাইয়ের জন্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। জনমত যাচাই শেষে বিধিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। আর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পুঁজিবাজারে শর্টসেল কার্যকর হবে।

শর্টসেল হচ্ছে বিনিয়োগকারীর কাছে কোনো কোম্পানির না থাকা সত্ত্বেও অথবা কম শেয়ার থাকা সত্ত্বেও তারচেয়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করা। বর্তমান আইনে এ ধরনের শেয়ার বিক্রি তথা শর্টসেল নিষিদ্ধ। বিএসইসি এটিকে একটি কাঠামোর আওতায় বৈধতা দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেলে শর্টসেল আর অবৈধ থাকবে না।

উল্লেখ্য, বিগত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে অব্যাহত দর পতনে ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। তাই পণ্যের বৈচিত্র্য ও শর্টসেল বৈধ করার জন্য আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

জেডএস/এইচআর

 

শেয়ারবাজার: আরও পড়ুন

আরও