বাই ব্যাকের দাবি বিনিয়োগকারীদের, ফেসভ্যালুর নিচে ৬৭ প্রতিষ্ঠানের দর

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

বাই ব্যাকের দাবি বিনিয়োগকারীদের, ফেসভ্যালুর নিচে ৬৭ প্রতিষ্ঠানের দর

জাহিদ সুজন ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

বাই ব্যাকের দাবি বিনিয়োগকারীদের, ফেসভ্যালুর নিচে ৬৭ প্রতিষ্ঠানের দর

টানা ১২ সপ্তাহে দর পতনে ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। অব্যাহত বিক্রয় চাপে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ৬৭ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ার দর ফেসভ্যালুর নিচে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেসভ্যালুর নিচে থাকা শেয়ার ও ইউনিট বাই ব্যাকের দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বাই ব্যাকের কোনো আইন নাই দেশে।

বাই ব্যাক হচ্ছে, কোন কোম্পানি বা ফান্ডের শেয়ার দর ইস্যু মূল্যের নিচে গেলে সেই শেয়ার কিনে নিবে কোম্পানি উদ্যোক্তা পরিচালকরা।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫২টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে বর্তমানে ৬৭টির শেয়ার ও ইউনিট ফেসভ্যালুর (১০ টাকা) নিচে অবস্থান করছে। এর মধ্যে মিউচুয়্যাল ফান্ডের প্রাধান্য থাকলেও ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ২০১০ সালের ধস পরবর্তী সময়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আধিক্য রয়েছে।

ইস্যু মূল্যের নিচে থাকা কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইউনাইটেড এয়ার, সিএনএ টেক্সটাইল, তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ, ফ্যামিলি টেক্স বিডি, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়্যাল ফান্ড, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, ফার্স্ট জনতা মিউচুয়্যাল ফান্ড, ঢাকা ডাইং, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, ট্রার্স্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, পিএইচপি মিউচুয়্যাল ফান্ড ওয়ান, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স, কেয়া কসমেটিকস, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড।

তালিকায় আরো রয়েছে- ফার্স্ট ফাইন্যান্স, আইসিবি থার্ড এনআরবি, বিডি সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, তাল্লু স্পিনিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, আইসিবি এম্পলয়ি প্রভিডেন্ড মি. ফান্ড ১: স্কিম ১, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়্যাল ফান্ড, আরএন স্পিনিং, ডেল্টা স্পিনিং, ম্যাকসন স্পিনিং, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, এসইএমএল আইবিবিএল শরীয়াহ্ ফান্ড, অ্যাপলো ইস্পাত, সিএপিএম বিডিবিএল মি. ফান্ড, এসইএমএল এলইসি মিউচুয়্যাল ফান্ড, মেট্রো স্পিনিং, আইএফআইএল আইএসএল মিউচুয়্যাল ওয়ান, আইসিবি অগ্রনী মিউচুয়্যাল ফান্ড, বিএএমএল বিডি মিউচুয়্যাল ফান্ড ওয়ান, আইসিবি সোনালী ওয়ান, ভিএএমএল আরবিবি ফান্ড, এসিসিবিএল মি. ফান্ড ওয়ান।

তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানি ও ফান্ডগুলো হলো- সিএপিএম আইবিবিএল মি. ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়্যাল ফান্ড ওয়ান, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়্যাল ফান্ড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, জাহিন টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসিবি এমসিএল সেকেন্ড মি.ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মি. ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স ফাস্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড, ন্যাশনাল ফিড মিলস লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জাহিন স্পিনিং, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, ন্যাশনাল ব্যাংক, রিয়েলায়েন্স ওয়ান, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, জিবিবি পাওয়ার, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড, গোল্ডেন সন, খান বার্দাস পিপি ওভেন ব্যাগ, আইসি সেকেন্ড এনআরবি ফান্ড।

ইউনাইটেড এয়ার:

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ১০ টাকা ইস্যু মূল্যে শেয়ার ছেড়ে অর্থ উত্তোলন করে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ার (বিডি) লিমিটেড। এরপর ব্যবসায়িক উত্থান দেখিয়ে ২০১১ সালে প্রিমিয়ারসহ রাইট শেয়ার ছেড়ে দ্বিতীয় দফায় অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি।

কিন্তু ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ করেই ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয় কোম্পানিটি। এরপর বিভিন্ন সময় ব্যবসা পরিচালনা কথা বললেও কোম্পানিটি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে নি। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৩৫২টি কোম্পানির মধ্যে সর্বনিম্ন দরে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রয় হচ্ছে। বুধবার দিনশেষে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ২.৬০ টাকা।

উল্লেখ্য, বিএসইসি’র নির্দেশনা (২০১১ সালের ২২ নভেম্বর) অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা/পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমানে কোম্পানিটির সম্মিলিতভাবে ৪.১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সিএনএ টেক্সটাইল

মুনাফার উল্লম্ফন দেখিয়ে ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে সিএনএ টেক্সটাইল। কিন্তু তালিকাভুক্তির পর প্রথম বছরেই কোম্পানিটির মুনাফায় ধস নামে। বর্তমানে মালিকানা জটিলতায় কোম্পানিটির কারখানা বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে বন্ধ পেয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করায়, উৎপাদন বন্ধ থাকায় বর্তমানে “জেড” ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে কোম্পানিটির শেয়ার।

উল্লেখ্য, এ কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের নিকট সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নাই। বুধবার (১৭ এপ্রিল) কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ার দর ছিল ৩.১০ টাকা।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির নামে পুঁজিবাজারে পচা কোম্পানিকে অর্থ লুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাই ব্যাক আইন প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের দর পতনের নেপথ্যে তারল্য সংকট দায়ী। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরাতে পারলে বাজারে নতুন তারল্যও আসবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ইস্যু মূল্যে (ফেসভ্যালু ও প্রিমিয়ামসহ) পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয়। তাদের অনুমোদনের উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীরাও এই শেয়ারে বিনিয়োগ করে।

কিন্তু তালিকাভুক্তির পর ব্যবসায়িক মন্দা দেখিয়ে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের “নো” ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। ফলশ্রুতিতে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, যেহেতু নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জ যোগ্য মনে করে কোম্পানিগুলো শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়ে তাই এসব কোম্পানির শেয়ার ইস্যু মূল্যের নিচে গেলে তাদের শেয়ার বাই ব্যাক করার নির্দেশ তাদেরকেই দিতে হবে।

শেয়ার ব্যাই ব্যাকে বাংলাদেশে কোনো আইন বলবৎ নাই বলে জানালে তিনি বলেন, ২০১০ সালের ধ্বস পরবর্তী সময় থেকে আমরা ইস্যু মূল্যের নিচে থাকা শেয়ার বাই ব্যাকের জন্য আন্দোলন করছি। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বিএসইসিকে দেওয়া হলেও এই আইন আজও আলোর মুখ দেখে নি।

বিস্তারিত দেখতে লিংকটিতে ক্লিক করুন...

জেডএস/এএসটি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও