যে কারণে পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্লম্ফন!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

যে কারণে পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্লম্ফন!

জাহিদ সুজন ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৯

যে কারণে পুঁজিবাজারে হঠাৎ উল্লম্ফন!

বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় অব্যাহত দরপতনে ভুগছিল পুঁজিবাজার। তাই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে করণীয় খুঁজতে দফায় দফায় বৈঠক করেছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু বৈঠক পরবর্তী কার্যদিবসেও দরপতনে ভুগছে পুঁজিবাজার। 

বৃহস্পতিবার দিনশেষে বাজারের লেনদেনে তেমন কোনো পরিবর্তন না হলেও সূচকে উল্লম্ফন দেখা গেছে। কেন এমন উল্লম্ফন? এ প্রশ্ন বিনিয়োগকারীদের।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএর সভাপতি মো. শাকিল রিজভী বলেন, বর্তমান বাজার পতনের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। বাজারে এক ধরনের প্যানিক চলছে। গ্রামীণফোন নিয়ে, বিনিয়োগকারীদের টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হবে ইত্যাদি গুজব ছড়িয়ে মার্কেটে এক ধরনের প্যানিক তৈরি করা হয়েছে। এতে সেল প্রেসার বেড়ে ইনডেক্স অনেক কমে গেছে। যেহেতু বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ইনডেক্স দেখে ইনভেস্ট করে তাই এই প্যানিকের কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়েছে বলে জানান তিনি।

শাকিল রিজভী বলেন, বাজার কখনো কৃত্রিম হয় না। কৃত্রিমভাবে বাজারকে উঠা-নামা করানো সম্ভব নয়। বর্তমান মার্কেটে পি/ই ১৫ এর ঘরে অবস্থান করছে। এই মার্কেটে অত্যন্ত বিনিয়োগ উপযোগী। এখন বিনিয়োগকারীদের মিষ্টি দিতে হবে। পাবলিকের আস্থা ফেরাতে হবে। আস্থা থাকলে বাজারে তারল্য বাড়বে। আবার পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাথে জরুরি বৈঠকে বসে ট্রেক হোল্ডাররা। যার সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।

এসময় গ্রামীণফোনরে উপর এনবিআর কতৃর্ক কর আরোপ করার বিষয়টি বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের নজরে আনলে তিনি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ওই বিষয়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। এছাড়াও বিএটিবিসি উপরের কর আরোপের বিষয়েও তিনি একই কথা বলেন।

ইউনাইটেড পাওয়ারের স্পন্সর উদ্যোক্তার শেয়ার একটি বিদেশি কোম্পানি সম্ভাব্য ক্রয় সংক্রান্ত বাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, এ সংক্রান্ত কোন বিষয় তার জানা নাই। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেউ কোন আবেদন করেন নাই বলে তিনি জানান।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের সার্বিক মূল্যসূচকের উল্লম্ফনের নেপথ্যে নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছে গ্রামীণফোনের শেয়ার দরের উত্থান। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩.২৪ শতাংশ বা ১১.৬ টাকা। এসময় কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৩৬৭.৭০ টাকা।

ট্রেডিং এনালাইসিস সাইট আমরস্টকের তথ্যানুযায়ী, ৩.২৪ শতাংশ দর বাড়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোন পুঁজিবাজার সার্বিক মূল্যসূচক উত্থানে ২৪.৫৪ পয়েন্ট সহায়তা দিয়েছে।

এদিকে, বাজারের সার্বিক মূল্যসূচকের উত্থানে বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল— আইসিবি, স্কয়ার ফার্মা, অলেম্পিক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ইস্টার্ন ব্যাংক, রেনিটা, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, ম্যারিকো ও বার্জার পেইন্টস।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬২টির, দর কমেছে ৪৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় ডিএসইতে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৬৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে ৬ কোটি ৪০ লাখ ২৬ হাজার ৯৫টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

জেডএস/এসবি