৪৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়েছে তিতাস গ্যাস

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৫ চৈত্র ১৪২৫

৪৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়েছে তিতাস গ্যাস

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

৪৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়েছে তিতাস গ্যাস

পুঁজিবাজারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের তালিকাভুক্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৭-১৮ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ৪৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়েছে।

কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কোয়ালিফাইড অপিনিয়নে এ তথ্য জানিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জানায়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ২০১১-১২ অর্থবছরে জমি, প্লান্টস, পাইপলাইন ইত্যাদি জাতীয় স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় করেছে। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই বিক্রয় বাবদ ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মুনাফা ২০১৭-১৮ সালের আর্থিক হিসাবে দেখিয়েছে, যা ২০১১-১২ সালের মুনাফা।

তিতাস গ্যাসের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে কাস্টমার সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকার দীর্ঘমেয়াদি দায় দেখানো হয়েছে। কিন্তু নিরীক্ষক ওই বছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এর সত্যতা পায়নি।

২০১০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে তিতাস গ্যাসে ১৬০ কোটি টাকার পেনশন ফান্ড গঠন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে ৫০ কোটি টাকার ওই ফান্ড গঠন করেছে। এক্ষেত্রে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্যই ১১০ কোটি টাকার পেনশন ফান্ডের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে সঠিকভাবে পেনশন ফান্ড গঠন করা হয়নি।

এদিকে বাল্ক গ্রাহক (পাওয়ার-পিডিবি) বিল পরিশোধে বিলম্ব করায়, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ উক্ত বিলের বিপরীতে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ৪৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকার সুদ চার্জ করেছে। যা ‘ট্রেড অ্যান্ড আদার রিসিভঅ্যাবল’হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া পিডিবি ও সার উৎপাদনশীল কোম্পানির নামে ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ভাড়া হিসাব করেছে। কিন্তু গ্রাহকরা তিতাস গ্যাসকে উক্ত ৭৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা দিতে আগ্রহী না বলে নিরীক্ষককে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় উক্ত টাকা আদায় নিয়ে নিরীক্ষক শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বাবদ ২ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। যা কোম্পানিটির অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে এমন ইঙ্গিত দেয় বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। যাতে কোম্পানিটি প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেডএস/