এডিএন টেলিকমের কাট-অফ প্রাইজ ৩০ টাকা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

এডিএন টেলিকমের কাট-অফ প্রাইজ ৩০ টাকা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

এডিএন টেলিকমের কাট-অফ প্রাইজ ৩০ টাকা

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া এডিএন টেলিকমের কাট-অফ প্রাইস ৩০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। টানা ৭২ ঘণ্টা বিডিংয়ে কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার ৩০ টাকার মধ্যে ক্রয়ের প্রস্তাব পড়েছে। বিবিএস বাংলাদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ৭২ ঘণ্টায় এডিএনের শেয়ারে ৬০০ জন বিডার অংশগ্রহণ বা বিড করেছেন। এরমধ্যে ২৫ জন ৩০ টাকা বিড করেছেন। সর্বোচ্চ ৪৫ টাকায় দুইজন বিড করেছেন। সবচেয়ে বেশি ১৫৯ জন বিডার ১৬ টাকায় বিড করেছেন।

কাট-অফ প্রাইস তথা যে দামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সেই দামের ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে পারবেন। অর্থাৎ ৩০ টাকার ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ২৭ টাকায় কোম্পানিটির শেয়ার পাবেন।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটিকে বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়।

কোম্পানি প্রসপেক্টাস সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫৭ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। যা দিয়ে কোম্পানিটি ভৌত কাঠামো উন্নয়ন, ডেটা সেন্টার স্থাপন, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও সংক্রান্ত খরচ হিসাবে ব্যয় করবে।

বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা (ইলিজিবল ইনভেস্টর) অংশ নেবে। তারা কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার কেনার জন্য বিডিং করবে। একজন বিডার সর্বোচ্চ ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিডিং করতে পারবে। প্রতি ১০০ শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে এডিএন টেকনোলজির কাছে ০.৪৫ শতাংশ, এডিএন টেলিকম এম্প্লয়েজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের কাছে ০.৪৫ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সের কাছে ৪.৩১ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সের কাছে ১.৫৬ শতাংশ, এরশাদ সিকিউরিটিজের কাছে ০.৪৫ শতাংশ, খাজা ইক্যুইটির কাছে ০.৬৭ শতাংশ, পার্কওয়ে সিকিউরিটিজের কাছে ০.৪৫ শতাংশ এবং ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাছে ২.৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

কোম্পানিটি মূল ব্যবসা বিভিন্ন করপোরেট অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের কাছে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া।

কোম্পানিটি দুটি এসোসিয়েট কোম্পানিতে মোট ৯৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৫ টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে মাইটেল লি. এর ৩২ শতাংশ শেয়ার এবং ম্যানেজওয়েল কমিউনিকেশন লি. এর ৪০ শতাংশ শেয়ার এডিএন টেলিকমের কাছে রয়েছে।

৩০ জুন, ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোম্পানিটির ব্যবসা থেকে মোট আয় হয়েছে ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় সেবা থেকে আয় হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা এবং রপ্তানি সেবা থেকে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটির মোট আয় হয়েছিল ৮২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

আলোচিত বছরে কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৬৭ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ইপিএস ছিল ২.৩৬ টাকা।

এছাড়া কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৮.৮০ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৬.১৩ টাকা। শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর অর্থ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৩.৪০ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩.৭১ টাকা।

কোম্পানির প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে টার্নওভারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আমরা টেকনোলজিস এবং ইনফর্মেশন টেকনলোজি কনসালটেন্টস।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

জেডএস/এসবি