পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ দফা সুপারিশ

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ দফা সুপারিশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ দফা সুপারিশ

দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)  রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অর্থনীতিকে বেগবান, বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো হলো- দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, নতুন নতুন প্রোডাক্ট চালুকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর পছন্দের বাসকেট (ঝুলি) সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করা, নতুন প্রোডাক্ট চালু করার পূর্বে তার পরিচিতি, পরিচালন প্রক্রিয়া ও কৌশল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিতকরণ এবং বিএসইসির প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম জোরদার করে সর্বস্তরে বিনিয়োগ শিক্ষা বিস্তৃতকরণ।

সেই সাথে আর্থসামাজিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা ও গুরুত্ব, অন্যান্য সেক্টরের সাথে পুঁজিবাজারের আন্তঃসম্পর্ক ইত্যাদি নানা বিষয়ে সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ার লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্মল ক্যাপ বোর্ড চালু করা।

তিনি সকল ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সর্বত্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাসহ উল্লেখিত সকল কর্মসূচি ও কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত, এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের অগ্রগতির ধারা আরও বেগবান হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলব, যে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এটা আমরা চাই না।

পাশাপাশি কমিশন নিয়ন্ত্রক ও সহায়তাকারী উভয় ভূমিকায় পুঁজিবাজার বিকাশে যে ধারা বজায় রেখেছে তা অব্যাহত রাখবে এবং গতিশীল করবে, যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে একজন ঠিক করেছি, সেটি চীনের দু’টি স্টক মার্কেট। এদের কাছে শেয়ার বিক্রি থেকে লব্ধ সমুদয় অর্থ ৩ বছরের জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের কেউ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা যখনই আমাদের কাছে দেবেন, আমরা তখনই সেক্ষেত্রে কর ব্যাপক হারে হ্রাস করে দেব। সেটাকে আমরা ৫ শতাংশ করে দেব।

শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা যেটা পেলেন তা আগামী ৩ বছরের জন্য আপনি সিকিউরিটি মার্কেটে রাখবেন। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে সিকিউরিটি মার্কেটকে শক্তিশালী করা এবং একটি আকর্ষণীয় মার্কেট হিসেবে সকলের সামনে তুলে ধরা।

তিনি বলেন, আজ থেকেই এ ঘোষণা কার্যকর হবে। এর জন্য সব কাগজপত্র তৈরি হয়ে আছে।

পুঁজিবাজারের ঘটে যাওয়া ধসের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ কমিশনের বয়স ২৫ বছর। ইতোমধ্যে আমার দু’টি বিপর্যয় পর্যবেক্ষণ করেছি। এই ধস আমরা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার। কারণ দু’টি ধসই তাদের আমলে সংগঠিত হয়। তবে এই ২০১৮ সালে আমরা এখন তৃপ্তিবোধ করতে পারি। এই তৃপ্তিবোধের কারণ হলো আমাদের সিকিউরিটি মার্কেটটি সত্যিকার অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এর অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেনও বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানির পদস্থ কর্মকর্তাসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যাবলী নিয়ে একটি ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন হয়।

জেডএস/এএল/

আরও পড়ুন...
‘বেশি লোভ করবেন না, সীমা রেখে পা ফেলবেন’