মন্দা কাটিয়ে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫

মন্দা কাটিয়ে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৮

মন্দা কাটিয়ে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

গতবছরের নভেম্বরের পর থেকে লেনদেন মন্দায় ভুগছে দেশের পুঁজিবাজার। কিন্তু, গত সপ্তাহে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসেসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) পক্ষ থেকে সুদ কমানোর ঘোষণায় নতুন মোড় নিয়েছে বাজারে।

বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত ক্রয় চাপে সপ্তাহের ব্যবধানে (ঈদের আগের সপ্তাহ) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক লেনদেন ১০১.৯৯ শতাংশ বেড়েছে।

সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে (১৮ জুন থেকে ২১ জুন) ডিএসইতে ৪ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল। ঈদের আগের সপ্তাহে অর্থাৎ আগের সপ্তাহে ডিএসইতে ৩ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল।

ডিএসই বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহের প্রত্যেক কার্যদিবসে ধারাবাহিক ক্রয় চাপ অব্যাহত থাকায় সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে ২ হাজার ৬৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৮ হাজার ৭৪৩ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এর আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৬০ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ টাকা। অর্থাৎ সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১০১.৯৯ শতাংশ।

এদিকে, আগের সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই’র গড় লেনদেন ৬৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। এ সময় ডিএসই’র গড় লেনদেন বেড়েছে ৫১.৪৯ শতাংশ।

লেনদেন কমার পাশাপাশি শেয়ার লেনদেন ও শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৮৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে ২৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৪২১টি শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এ সময় শেয়ার লেনদেন বেড়েছে ১০৭.১৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৩টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২০৯টির, দর কমেছে ১০৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৮টি প্রতিষ্ঠানের।

এর আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৩টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছিল ১৫০টির ও দর কমেছিল ১৫০টির।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে ৭৬.৫৪ পয়েন্ট। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক ৫৩৬৫.২২ পয়েন্টে স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক ৫৪৪১.৭৬ পয়েন্টে স্থিতি পেয়েছে।

এ সময় শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মূল্য সূচক ডিএসই-এস বেড়েছে ২৫.২৭ পয়েন্ট ও ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে ২৩.৫৯ পয়েন্ট।

সপ্তাহ শেষে ডিএসইতে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ১৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সর্বমোট লেনদেনের ৫.১৫ শতাংশ।

এদিকে, টার্নওভার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল খুলনা পাওয়ার, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির ১১১ কোটি ২০ লাখ ১৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫.৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

টার্নওভার তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ছিল গ্রামীণফোন লিমিটেড, কোম্পানিটির ১০৯ কোটি ৮২ লাখ  টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

টার্নওভার তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো— ইউনাইটেড পাওয়ার, ফার্মা এইড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এসেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, বেক্সিমকো, মুন্নু সিরামিক ও উসমানিয়া গ্লাস।

জেডএস/আইএম