শর্ত সাপেক্ষে চীনের দরপত্র পুনঃপ্রস্তাবের সুযোগ পেল ডিএসই

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

শর্ত সাপেক্ষে চীনের দরপত্র পুনঃপ্রস্তাবের সুযোগ পেল ডিএসই

জাহিদ সুজন ১১:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৮

print
শর্ত সাপেক্ষে চীনের দরপত্র পুনঃপ্রস্তাবের সুযোগ পেল ডিএসই

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম (জোট) প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)।

তবে শর্ত সাপেক্ষে নতুন করে প্রস্তাব প্রদানের সুযোগ রেখেছে বিএসইসি।  বিএসইসির গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে সোমবার কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএসইসি সূত্র জানায়, চীনা জোটের দরপত্রে অযুক্তি কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে যা বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী। তাই বিএসইসি’র পক্ষ থেকে পাঁচটি শর্ত প্রদান করা হয়ে। এগুলো হলো- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সাথে এমন চুক্তি করা যাবে না যা দেশের আইনের পরিপন্থী এবং ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ পরিপন্থী।

ডিএসই’র আর্টিকেল পরিপন্থী কোনো প্রস্তাব গ্রহনযোগ্য হবে না। এছাড়াও পরবর্তীতে বিএসইসিতে প্রস্তাব দেয়ার আগে ডিএসই’র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে হবে।

ডিএসই’র সাধারণ সভায় বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব প্রত্যাহারের কারণগুলো বিনিয়োগকারীদের জানাতে হবে।

জানা গেছে, ডিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের প্রস্তাব যাচাইয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদ্য সচিব মাহবুবুল আলম। আর অন্য সদস্যরা হলেন- ড. এটিএম তারিকুজ্জামান ও আনোয়ারুল ইসলাম। কমিটি গঠনের পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে চীন ও ভারতের জোটের বিভিন্ন অযৌক্তিক শর্ত সামনে আসে। ডিএসই’র সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার চুক্তি যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী করার শর্ত দিয়েছে চীনের কনসোর্টিয়াম  যা বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী।

এছাড়া কোনো বিবাদ দেখা দিলে লন্ডনের আন্তর্জাতিক আরবিটেশন অনুযায়ী সমাধানের প্রস্তাব এবং নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে চীনের কনসোর্টিয়ামের লিখিত অনুমোদন লাগার শর্ত দিয়েছে যা বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী বলে মনে করছে বিএসইসি’র পর্যালোচনা কমিটি।

সূত্র জানায়, চীনের জোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অযৌক্তিক শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ডিএসই’র আইপিও সংক্রান্ত যে কোনো ইস্যু যেমন, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ, স্পন্সর নির্ধারণ, অবলেখক নিয়োগ, প্রসপেক্টাস অনুমোদন ও ইস্যু মূল্য নির্ধারণের আগে চীনের জোট থেকে লিখিত অনুমোদন নিতে হবে।

পরিচালকদের সংখ্যা পরিবর্তনের আগে তাদের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়াও ডিএসই’র আর্টিকেল অব ম্যামরেন্ডামে বেশ কিছু অংশে পরিবর্তন ও সংযোজন করতে হবে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে চীনের দুই এক্সচেঞ্জ সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম (জোট) কারিগরি ও নগদসহ প্রায় ১ হাজার ২৯০ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে।

চীনের জোটের পক্ষ থেকে ডিএসই’র প্রতিটি শেয়ার ২২ টাকা দরে ক্রয়ের প্রস্তাব প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিএসই’র ২৫ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ৪৫ কোটি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৯৯০ কোটি টাকা। এছাড়াও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার (৩ কোটি ৭১ মার্কিন ডলার) বেশি ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি।

জেডএস/এমএসআই

 
.



আলোচিত সংবাদ