‘চলুন, জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে লড়ি’

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

‘চলুন, জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে লড়ি’

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৬

‘চলুন, জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে লড়ি’

পিওতর মালাচোস্কি চলমান রিও অলিম্পিকে চাকতি নিক্ষেপে (ডিসকাস থ্রো) সোনার জন্য লড়ে রৌপ্য পদক জিতেছেন। এরপর ফের লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন এই পোলিশ তারকা। তবে সেটি খেলার মাঠে নয়; জীবনের মাঠে।

শুক্রবার রাতে রিও অলিম্পিকের রৌপ্য পদকটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালাচোস্কি। নিজের জন্য নয়; দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশুর জীবন বাঁচাতে এই মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। উদ্যোগ নিয়েই থেমে থাকেননি; সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন।

নিজের ফেসবুক পেজে শুক্রবার রাতে আবেগঘন এক স্ট্যাটাসে মালাচোস্কি লেখেন, ‘রিওতে আমি সোনার জন্য লড়েছি। আজ সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, চলুন আমরা এরচেয়েও দামি জিনিসের জন্য একসাথে লড়াই করি। চলুন, আমরা এই সুন্দর শিশুটির জীবন বাঁচাতে লড়াই করি।’

মালাচোস্কি নিজের রৌপ্য পদক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিলাম থেকে আয় করা অর্থ খরচ হবে ৩ বছর বয়সী পোলিশ শিশু অলেক সিমানস্কির চিকিৎসায়। দুই বছর ধরে শিশুটি রেটিনোব্ল্যাস্টোমা নামক দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছে।

অলেকের চিকিৎসা পোল্যান্ডে করা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে হবে।

মালাচোস্কি বলেন, ‘অলেকের চোখ রক্ষা করার মতো চিকিৎসাপদ্ধতি পোল্যান্ডে নেই। তার জীবন বাঁচাতে হলে নিউইয়র্কে নিয়ে থেরাপি দিতে হবে।’

এদিকে অলেকের চোখের চিকিৎসার জন্য ৯৬ হাজার ৪৪৮ হাজার পাউন্ড খরচ হবে বলে জানানো হয় নিউইয়র্কের হাসপাতাল থেকে। শুক্রবার রাতে মালাচোস্কির রৌপ্য পদকের সর্বোচ্চ দর ওঠে মাত্র ৬ হাজার পাউন্ড। ২৬ সেপ্টেম্বর নিলামের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দর হাঁকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পদক বিক্রি করা হবে বলে ঘোষণা দেন মালাচোস্কি।

সবাইকে নিলামে অংশ নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে মালাচোস্কি বলেন, ‘আমি সবাইকে নিলামে যোগ দিতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। যদি আপনি সাহায্য করেন, আমার এই রৌপ্য পদক আশা করি অলেকের জীবনের জন্য সোনার চেয়েও দামি বস্তুতে পরিণত হবে।’

অলিম্পিকের ময়দানে হয়তো সোনা জিততে পারেননি; রৌপ্য জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়ে মালাচোস্কিকে। তবে জীবনের ময়দানে ঠিকই সোনার চেয়েও দামি জিনিস জয়ের পথেই হাঁটছেন তিনি। অলিম্পিকের সোনার চেয়েও যার মূল্য হাজার গুণ বেশি।

এমএআই/ডব্লিউএস

 

রিও অলিম্পিক ২০১৬: আরও পড়ুন

আরও