এশিয়াডে পদক ধরে রাখতে পারবে নারী কাবাডি দল!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

এশিয়াডে পদক ধরে রাখতে পারবে নারী কাবাডি দল!

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৮

এশিয়াডে পদক ধরে রাখতে পারবে নারী কাবাডি দল!

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি হলেও এদেশের মানুষের রক্তে এটি মিশে আছে, তা বলার উপায় নেই। আগ্রহের কথা বললেও ক্রিকেট, ফুটবল, হকি এমনকি ভলিবলের চেয়েও ঢের পিছিয়ে কাবিড। কিন্তু, এশিয়ার বৃহত্তম আসর এশিয়ন গেমসে পুরো দেশের প্রত্যাশার ভার উঠে যায় কাবাডি খেলোয়াড়দের কাঁধে। এই আসরে বাংলাদেশের জয় করা ১২ পদকের ৭টিই যে এসেছে কাবাডি থেকে। সেই ৭ পদকের ২টি উপহার দিয়েছে আবার মেয়েরা। ২০০৬ সালের পর পুরুষ কাবাডি পথ হারালেও ২০১০ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই ব্রোঞ্চ জয় মেয়ে কাবাডি দলের। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার সেটি ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখায় শাহনাজ পারভীন মালেকারা।

আগের দুটি আসে ব্রোঞ্চ জয়ের সাফল্য নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় হতে যাওয়া ১৮তম এশিয়ান গেমসে পাড়ি জমাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। ১৪টি ডিসিপ্লিন নিয়ে এবার লাল-সবুজের কন্টিনজেন্ট। সর্বশেষ ইনচেন এশিয়ান গেমসে নারী কাবাডি দলের উপহার দেওয়া একটি ব্রোঞ্চ, সঙ্গে ক্রিকেটে নারী ও পুরুষ বিভাগ থেকে আসে রুপা ও ব্রোঞ্জ। সেবার জেতা ৩ পদকই এশিয়াডে বাংলাদেশের এক আসরে সর্বাধিক পদক।

কিন্তু, এবার ক্রিকেট ইভেন্টই নেই এশিয়াডে। ঝুলিতে বাংলাদেশের দুটি নিশ্চিত পদক নিয়ে ফেরার সম্ভাবনার অপমৃত্যুই যেন হয়ে গেছে তাতে। কিন্তু, নারী কাবাডি দল কি পারবে টানা তৃতীয় আসরে দেশকে পদক উপহার দিতে? প্রেক্ষাপট, বাস্ততা কঠিন চ্যালেঞ্জের কথাই বলছে। কিন্তু, নারী কাবাডি দল পদক ধরে রাখতে না পারলে আর নতুন কোনো ইভেন্ট যদি চমক দেখাতে নাই পারে, তবে খালি হাতেই ইন্দোনেশিয়া এশিয়াড শেষ করতে হতে পারে বাংলাদেশকে। নারী কাবাডি দলের দায়িত্ব তাই বেড়ে যায় আপনা আপনিই।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে কাবাডিকেই উপরে রেখেছে বরাবরের মতো। তার সঙ্গে যোগ করেছেন শ্যুটিং ও আর্চারিকে। একটা তথ্য না বললেই নয় যে, এশিয়ার এই বৃহত্তম আসরে বাংলাদেশের ১২ পদকের একটি মাত্র ছিল ব্যক্তিগত। সেটি ১৯৮৬ সিউল অলিম্পিকে বক্সার মোশাররাফ হোসেনের। এবার শ্যুটিংয়ে আব্দুল্লাহ হেল বাকী, শাকিল আহমেদ বা আর্চারিতে রোমান সানারা কী সেই না পারার হাহাকার ঘোঁচাতে পারবেন? খোদ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনও এখানে নিশ্চিত কিছু আশা করছে না। ব্যক্তিগত ইভেন্টে খেলোয়াড়দের ওইদিনের পারফরমেন্সে যে কোনো কিছু হতে পারে, এই প্রত্যাশায় সবাই। দলীয় খেলা কাবাডিতে আবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ছেলেদের কাবাডিতে আরদুজ্জান, তুহিন তরফদাররা ২০০৬ সালের পর না পারার আক্ষেপ ঘোঁচাতে মগ্ন। তাদের সামনেও যদিও কঠিন বাস্তবতা। ঠিক একই চিত্র নারী কাবাডি দলের সামনে।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের পথচলা শুরু ২০০৫ সালে, উইমেন্স এশিয়া কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে। যেটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতের হায়দ্রাবাদে। সেই টুর্নামেন্টে সেমি-ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। এরপর ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) অংশ নেয় বাংলাদেশ। মেয়েরা যেখানে ব্রোঞ্জ জয় করে।

২০১০ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে রুপা জয় করে বাংলাদেশ। গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে জয় করে ব্রোঞ্জ। ২০১১ সালে প্রথম সাউথ এশিয়ান বিচ গেমসে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায়ও মেয়েরা ব্রোঞ্জ জয় করে। ২০১২ সালে প্রথম নারী বিশ্বকাপ কাবাডিতে ১৬ দলের মধ্যে পঞ্চম হয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ইনচেন এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের পর ২০১৬ সাউথ এশিয়া গেমসে (এসএ গেমস) রুপা।

মেয়েদের এই সাফল্য চিত্র একটা পদকের ব্যপারে আশাবাদীই করে সবাইকে। কিন্তু, সর্বশেষ দুই এশিয়াডেই অংশ নিয়েছিল মাত্র পাঁচটি দল। ইনচেনে যেমন বাংলাদেশসহ অংশ নেয় ভারত, ইরান, থাইল্যান্ড এবং কোরিয়া। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে একমাত্র কোরিয়াকে হারিয়ে চার নম্বর হয় বাংলাদেশ। সুবাদে পদক তালিকায় নাম উঠে লাল-সবুজের দেশের। ধরে রাখে আগের আসরের ব্রোঞ্জ।

কিন্তু, যে কোরিয়াকে হারিয়ে সর্বশেষ এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জয়, সেই কোরিয়াই ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে বিচ কাবাডিতে অংশ নিয়ে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। পাঁচ দলের মধ্যে পাঁচ নম্বর হতে হয় বাংলাদেশকে। সেবার এশিয়াডের পাঁচ দলই খেলেছিল আসরটি। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানেই কোরিয়া এগিয়ে নেয় নিজেদের। আর বাংলাদেশ এগিয়েছে কি পিছিয়েছে সেটি বোঝার উপায় নেই। ২০১৪ সালে বিচ কাবাডির পর ২০১৬ সালে শিলং-গৌহাটিতে এসএ গেমস বাদে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল আর কোনো আন্তর্জাতিক আসরেই অংশ নেয়নি।

এবারের এশিয়াডে আবার খেলবে ৯টি দল। আগের দুই আসরের মতো একটি দলকে হারিয়েই আর পদক নিয়ে ফেরার উপায় নেই বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের। বাংলাদেশকে হারাতে হতে হবে ভারত, ইরান, থাইল্যান্ডের মতো দেশকে। যাদের নারী কাবাডি দল হারাতে পারেনি কখনোই। এশিয়াড সামনে রেখে স্বাধীনতা দিবস কাবাডিতে খেলোয়াড় বাছাই করে ক্যাম্প করে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। ফেডারেশনের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টানা চলেছে এশিয়াডের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প।

দেশের অন্যতম সেরা কোচ আব্দুল জলিল, যিনি সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয় (এসএ গেমস) গেমসের মতো এবারও মেয়েদের দায়িত্বে। জলিল বলছেন, ‘প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি যে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রয়োজন ছিল সেটি হয়নি। যেহেতু মেয়েরা অনেক দিন খেলার মধ্যে ছিল না তাই প্রস্তুতি কেমন হলো সেটা ম্যাচ খেলতে পারলে বোঝা যেতো। মেয়েদের ম্যাচ টেম্পারমেন্ট আরো বাড়তো। সেটার সুযোগ আমরা পাইনি। এখানে নতুন তিন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে। এরা তিনজন প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ক্যাম্পে। তারা কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি। অর্থাৎ সরাসরি তারা খেলবে এশিয়াডের মতো আসরে।’

তারপরও কোচ আব্দুল জলিল বলছেন, ‘আমরা ভারত, থাইল্যান্ড, ইরানকে নারী কাবাডিতে হারাতে পারিনি কখনো। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারিনি, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছি। আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি দক্ষিণ এশিয় গেমসে আমরা যে দলটি খেলেছিলাম, সেই দলের চেয়ে এই দল অপেক্ষাকৃত ভালো। আর মেয়েরা ভালো কিছু করবে বলে আশা করি।’

কোচ বলছেন, পদক জিততে হলে ভারত, থাইল্যান্ডের মতো দল যাদের কোনো দিন হারাতে পারিনি তাদেরই হারাতে হবে। সেই কাজটা কঠিন হলেও কোচ বিশ্বাস করছেন, হয়েও যেতে পারে সেটি, ‘আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে, কাজটা আমরা করতে পারব। কাজটা যদিও কঠিন। তবে এশিয়াডে নারী কাবাডি দলের আসল লড়াইটাই হবে এবার। পদক আনতে হলে যাদের কখনো হারাতে পারিনি তাদের হারিয়েই আনতে হবে।’

টিএআর