আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতিই বড় শক্তি শাকিলের

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫

আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতিই বড় শক্তি শাকিলের

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৮

আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতিই বড় শক্তি শাকিলের

দেশের সম্ভাবনাময় ক্রীড়ার তালিকায় শ্যুটিং অনেক আগে থেকেই প্রথম কাতারে। শ্যুটারদের হাতধরে গৌরব উজ্জ্বল সাফল্যের উদাহরণও অনেক। তবে এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও দেশের শ্যুটিংয়ে প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘রাইফেল’ শ্যুটাররা। আতিকুর রহমান, আবদুস সাত্তার নিনিদের বিদায়ের পর পিস্তল ইভেন্টে কেন যেন পথ হারালো। তবে সেই পুরোনো গৌরবের পিস্তল ইভেন্ট এখন আবার আলোয় ফিরেছে। ২০১৬ সালে গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে সোনা ও ২০১৮ সালে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে রুপা উপহার দিয়ে শাকিল আহমেদ নামের এক তরুণ স্বপ্নতাড়িত করছেন সবাইকে। দেশের শ্যুটিংয়ে ‘পিস্তল’ ইভেন্ট মানেই এখন শাকিল আহমেদ।

১৮ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেম্বাংয়ে বসবে এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসর। যেখানে বাংলাদেশের অংশ নেয়া ১৪টি ডিসিপ্লিনের অন্যতম শ্যুটিং। স্বপ্ন, সম্ভাবনা বা প্রত্যাশার তালিকাতেও শ্যুটিং থাকছে উপরে। বিভিন্ন ইভেন্টে সেখানে অংশ নেবেন দেশের ৯ পুরুষ আর ৭ নারী শ্যুটার। পর পর দুটি বড় আসরে দেশকে সাফল্যে ভাসানোয় এশিয়াডেও শাকিলকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশার পারদ।

তবে এশিয়ার বৃহত্তম এ আসরে একেবারেই নবীন শাকিল আহমেদ। যদিও এসএ গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েই মাত করেছিলেন বাংলাদেশ আর্মির এই শ্যুটার। তবে এশিয়াড মানে-ভারে এগিয়ে বলে চ্যালেঞ্জটা অনুধাবন করছেন শাকিল। রোববার পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়ে শাকিল তাই প্রত্যাশার কথা বললেন এভাবে, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য সেরা আট নিশ্চিত করা। এর আগে আমি এশিয়ান গেমসে খেলেনি। এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছি। তাই এই আসর নিয়ে আমার ধারণা কম। অন্যদের কাছে শুনেছি, এশিয়ান গেমসটা নাকি একটু কঠিন। তবে আমার প্রিপারেশন ভালো। আশা করছি, ভালো কিছু হবে।

এসএ গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে শাকিলের সাফল্য ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলে। তবে এশিয়াডে সেই ইভেন্ট নেই। এখানে শাকিলকে খেলতে হবে ১০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে। এমনিতে শাকিলের প্রিয় ইভেন্টও ৫০ মিটার। তবে ১০ মিটারেও যে বড় কিছু করার সামর্থ রাখেন এই শ্যুটার তা তিনি প্রমাণ করেছেন কমনওয়েলথ গেমসেই এই ইভেন্টে ষষ্ঠ হয়ে।

আর এশিয়াডে খেলতে যাওয়ার আগে নিজের প্রস্তুতিই সাহস যোগাচ্ছে শাকিলকে, ‘আমার স্কোর ভালো হচ্ছে। প্র্যাকটিসে যে স্কোর হচ্ছে এটা ধরে রাখতে পারলে আমি সেরা আটে ঢুকতে পারবো। আর সেরা আটে ঢুকতে পারলে তখন কার কি হবে সেটা কেউ বলতে পারে না। অলিম্পিয়ানরাও বলতে পারবে না যে আমিই মেডেল পাব।’

সেরা আট অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালে লক্ষ্য পূরণ হলে পদকের জন্যই ঝাপাবেন শাকিল। এমনকি এই জায়গাটায় আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান এই শ্যুটার, ‘অন্যান্য গেমসের চেয়ে এই গেমসে আত্মবিশ্বাসটা বেশি পাচ্ছি। কারণ, আমার স্কোর আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।’

কমনওয়েলথ গেমসে ৫০ মিটার ও ১০ মিটারে অংশ নিয়েছেন শাকিল। তবে গোল্ড কোস্ট থেকে ফিরে এশিয়ান গেমসকে লক্ষ্য করে শুধুই ১০ মিটারে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। প্রস্তুতিটাও তাতে এই শুটারের হয়েছে শতভাগ, ‘কমনওয়েলথ খেলে এসে শুধু মাত্র ১০ মিটার নিয়েই ছিলাম। যেহেতু এশিয়ান গেমসে এই একটাই ইভেন্ট। তাই প্রস্তুতিটাও একশতে একশই নিতে পেরেছি।’ শাকিল তাই আরো একবার বলেন, ‘ভালো একটা প্রিপারেশন নিয়ে যাচ্ছি। মেডেলের জন্যই চেষ্টা করব।’

মাঝে কোচ বদল হয়েছে পিস্তলে। মন্টেনেগ্রোর মার্কো সকিচকে বিদায় বলে দিয়ে বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশন নিয়োগ দিয়েছেন কোরিয়ান কোচ কিম কালাইয়াংকে। যিনি আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের শ্যুটার নিয়ে। কমনওয়েলথে রুপা জিতে আসার পরই কোচ বদল হলেও এই কোচের অধীনেও স্বাচ্ছন্দ শাকিল, ‘এখন যে কোচ আছেন তার সাথেও আমার বোঝাপড়া ভালো। তিনি আগেও আমাদের কোচ ছিলেন। সাফের আগেও তিনি ছিলেন। আমার প্রিয় কোচের তালিকাতেই তিনি ছিলেন। আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

এসএ গেমসে শাকিল সোনা জিতেছিলেন এই কোরিয়ান কোচের অধীনেই। এশিয়াডে কি পরবেন দেশকে পদক উপহার দিতে? এই আসরে বাংলাদেশের জেতা ১২ পদকের ১১টিই দলীয়। ব্যক্তিগত মাত্র ১টি, সেটি ১৯৮৬ সালে বক্সার মোশাররফ হোসেনের। শাকিল এবার পারলে সম্ভাবনার নতুন দ্বার-ই উন্মোচিত হবে।

টিএআর/এমএসআই