প্রত্যাশার চেয়ে না পাওয়ার হাহাকারই বেশি মাবিয়ার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

প্রত্যাশার চেয়ে না পাওয়ার হাহাকারই বেশি মাবিয়ার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৮

প্রত্যাশার চেয়ে না পাওয়ার হাহাকারই বেশি মাবিয়ার

এপ্রিলে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ষষ্ঠ হয়েছিলেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ী এই ভারোত্তোলকের সামনে এবার এশিয়ান গেমসের মিশন। বাংলাদেশের একমাত্র ভালোত্তোলক হিসেবে এই ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছেন মাবিয়া। তার ইভেন্ট ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণী। সব ঠিক থাকলে আসরের মার্চ পাস্টে দেশের পতাকাও বহন করবেন তিনি। তবে প্রত্যাশার কথায় আসলে এই ভারোত্তোলেকের ক্ষোভের শেষ নেই। একটা আসরের আগে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও পাননি বলে দাবি তার। এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়ার আগে পরিবর্তন ডটকমকে তাই প্রত্যাশার চেয়ে নিজের আক্ষেপ আর না পাওয়ার কথাগুলোই বললেন তিনি।

প্রশ্ন: কমনওয়েলথ গেমসের পর এবার এশিয়ান গেমসের মিশন। কি প্রত্যাশা করছেন এই আসর থেকে?

মাবিয়া: কিছুই না...। শুধু অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। এরবেশি কিছু আশা করতে পারছি না। কারণ সুযোগ-সুবিধা। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভালো আছে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে ভালো নেই। আমি চেষ্টা করে যাব কিন্তু আমাকে কেউ সাপোর্ট দেবে না- তাহলে এরচেয়ে ভালো কিছু হবে না। নিজের ব্যক্তিগত রেকর্ড ১৮০ আছে। এরচেয়ে ভালো কিছু করব এটা বলতে পারি। অর্থাৎ যদি সম্ভব হয় ব্যক্তিগত সেরাটা অন্তত করব এটা আমার লক্ষ্য বলতে পারেন।

প্রশ্ন: প্রতি আসরের আগেই তো এই আক্ষেপ সঙ্গী আপনাদের...

মাবিয়া: দেখুন, আমরা খেলোয়াড়রা অনেক বড় কিছু চাচ্ছি তা নয়। আমরা কোটি টাকার সম্পদ চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি একটু ভালো সুযোগ-সুবিধা। এর বেশি আমরা কিছুই চাই না। যদি সেটা আমাদের দেয়া হয় তাহলে এশিয়ান গেমসের মতো আসরেও আমাদের মেডেল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সেটা আমরা পাচ্ছি না। আর এ কারণেই প্রতিটি গেমসে যাওয়ার আগে আমরা বলি, অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমিও একই কথা বলছি, কারণ আমি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাইনি। এই গেমসের আগে মাত্র দেড় মাস ট্রেনিং হয়েছে। এশিয়ান গেমসের মতো আসরে যা কখনোই যথেষ্ট না। পরিকল্পনা হলে এশিয়ান গেমসের কথা বলতে পারি না, কমনওয়েলথ গেমসে অন্তত ষষ্ঠ না হয়ে তৃতীয় হতাম। আর এশিয়ান গেমসে হয়তো ছয় বা সাতের মধ্যে থাকতাম।

প্রশ্ন: সুযোগ-সুবিধার কথা একটু ব্যখ্যা করবেন?

মাবিয়া: ২০১৬ সাল থেকে আমি এ পর্যন্ত আমি কি চেয়েছি একটু শুনুন। উন্নতমানের জিমনেশিয়াম, ভালো কোচ, ভালো ইকুইপমেন্ট, আর নিয়মিত ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থাটা চেয়েছি। এই চারটা জিনিস চেয়েছি। চারটা জিনিসের মধ্য থেকে মানুষ ট্রাই করলে একটা জিনিস তো দিতে পারে। কিন্তু আমার চাওয়াগুলো বলা পর্যন্তই ছিল।

প্রশ্ন: তারপরও ব্যক্তিগত পারফম্যান্সে দুই বছরে অনেত উন্নতি করেছেন আপনি...

মাবিয়া: কমনওয়েলথ গেমসে আমি ব্যক্তিগত রেকর্ড যেটা করেছি সেটা ভারোত্তোলনের ইতিহাসে প্রথম। তারপরও আমি মনে করি, এরচেয়ে ভালো কিছু হওয়ার কথা ছিল আমার। যদি আমি সেভাবে সুযোগ পেতাম। এখন চেষ্টা করছি। দেখি এরচেয়ে ভালো হয় কিনা। জানি না হবে কিনা। কারণ চেষ্টায় যতোটুকু যাওয়া দরকার ততটুকুতে চলে গেছি। এরচেয়ে বেশি নিজেকে আর দিতে পারছি না।

প্রশ্ন: তাহলে কী হবে সামনের পথচলা?

মাবিয়া: আমার মূল লক্ষ্য আসলে এসএ গেমস। স্বাভাবিক যে একটা আসরে গোল্ড পেয়েছি। পরের আসরে তাই সেটি ধরে রাখতে চাইব। কিন্তু যেভাবে চলছে তাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না। সুযোগ-সুবিধা বাড়লে ভালো। না হলে বাস্তবতা হচ্ছে আমার পারফরম্যান্সে আমাকে ব্রোঞ্জের সাথে ফাইট দিতে হবে।

টিএআর/এমএসআই

আরো পড়ুন :

এশিয়াডে পতাকা বহন করবেন মাবিয়া, বললেন জন্মদিনে সেরা উপহার