অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াবিদরা

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াবিদরা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

print
অলিম্পিকের প্রস্তুতিতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াবিদরা

আসন্ন ২০১৮ উইন্টার অলিম্পিকের পর্দা উঠবে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ। এই উপলক্ষে অ্যাথলেটরা চূড়ান্ত মুহূর্তের প্রশিক্ষণ নিতে ব্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের স্কি দলও জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে অলিম্পকের আসরে সাফল্য লাভের জন্য। এজন্য তারা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) বা পরাবাস্তব অনুভূতি তৈরির প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের স্কি ও স্নোবোর্ড দল ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠান স্ট্রিভারের সহায়তা নিচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ স্ট্রিভারের ভিআর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্কি ও স্নোবোর্ডিং-এর বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক আসরের জন্য অ্যাথলেটদের প্রস্তুত করছে।

ভিআর সবচেয়ে বেশি কাজে আসে যেই ট্র্যাকে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে সেই ট্র্যাকে বারবার স্কি করার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ লাভের জন্য।

অ্যাথলেটরা সাধারণত প্রতিযোগিতার আগে মাত্র একবার মূল ট্র্যাকে স্কি করার সুযোগ পান। মূল প্রতিযোগিতার কয়েক দিন আগে বা অনেক সময় প্রতিযোগিতার দিনই তাদেরকে স্কি করার ট্র্যাকের বাঁকগুলো দেখার এই সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু ভিআর টেকনোলজির কারনে অ্যাথলেটরা আসল ট্র্যাকেই বারবার স্কি করে প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পান। এর ফলে ওই ট্র্যাকের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউয়ের সাথে তারা পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান ও ট্র্যাকের সব বাঁকগুলো মনের মধ্যে গেঁথে নিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্কি দলের পরিচালক ট্রয় টেলর বলেন, 'আমাদের দলের অনেক অ্যাথলেটই ভিআর টেকনোলজি ব্যবহার করেন। ভিআর প্রযুক্তির অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে, কিন্তু আমরা চাইনা অন্য প্রতিযোগীরা আমাদের সব গোপন তথ্য জেনে যাক।'

স্ট্রিভার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রধান সব বাস্কেটবল, ফুটবল ও হকি লিগের অ্যাথলেটরা তাদের স্ট্রিভারের ভিআর টেকনোলজি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রস্তুতি নেয়ার ফলে অনেক খেলোয়াড়ের রিঅ্যাকশন টাইম বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় ২০% পর্যন্ত কমিয়ে এনেছেন।

অনেক খেলোয়াড় ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেয়ার সময় কোচেরা ভিআর ট্রেনিঙের জন্য তৈরি ভিডিও এডিট করতে পারেন। এর ফলে তারা খেলোয়াড়দেরকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত করে তুলতে পারেন।

একই সাথে, ভিআর টেকনোলজি ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেয়ার সময় অ্যাথলেটরা যেসব হেডসেট (স্যামসাং গিয়ার ভিআর, অকুলাস রিফট) ব্যবহার করেন সেগুলো খেলোয়াড়দের মাথার নড়াচড়া মনিটর করে। এর ফলে কোচেরা বুঝতে পারেন অ্যাথলেটরা যেখানে তাকানোর কথা সেইখানেই মনোযোগ দিচ্ছে কিনা।

ভিআর টেকনোলজি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে খেলোয়াড়দের পুনর্বাসনের সময়। ইনজুরিতে ভোগা খেলোয়াড়রা আসল রেস ট্র্যাক বা মাঠে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন না। কিন্তু ভিআর ব্যবহার করে তারা ঝুঁকিমুক্ত ভাবে পেশির সর্বশক্তি প্রয়োগ করে প্রশিক্ষণ নিতে পারে।

স্কি দলের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত একটি ট্র্যাকের ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুনঃ

এমআর/এএসটি

 
.


আলোচিত সংবাদ