পদক জিততে এবার অসাধারণ কিছু করতে হবে: শাহনাজ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

পদক জিততে এবার অসাধারণ কিছু করতে হবে: শাহনাজ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৮

পদক জিততে এবার অসাধারণ কিছু করতে হবে: শাহনাজ

বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের শুরুর সময়কার সারথি শাহনাজ পারভীন মালেকা। এখনো জাতীয় দলের অটমেটিক চয়েজ তিনি। ২০১০ সাল থেকে নারী কাবাডি অন্তর্ভুক্ত হয় এশিয়াডে। আগের দুই আসরের মতো এবারো এশিয়াডের দলে আছেন শাহনাজ। তিনিই দেশের একমাত্র কাবাডি খেলোয়াড় যিনি খেলতে যাচ্ছেন টানা তিন এশিয়াড। ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি দেয়ার আগে পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই তারকা। বললেন গেমসের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে।

প্রশ্ন: আগের দুই আসরে এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জয় করে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এবার পদক ধরে রাখার লড়াই। আসর নিয়ে আসলে প্রত্যাশা কী আপনাদের?

শাহনাজ: আসলে অনেক দিন আমরা আন্তর্জাতিক খেলার মধ্যে নেই। ২০১৬ সালে এসএ গেমসের পর কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আমরা খেলতে পারিনি। ঘরোয়া আসর বিজয় দিবস টুর্নামেন্টে হয়েছে। সেখান থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে আমাদের ক্যাম্প করা হয়। চূড়ান্তভাবে এখন ১২ জন আমরা খেলতে যাচ্ছি। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারলেও অন্যবারের তুলনায় এবার আমরা ভালো প্র্যাকটিস করেছি। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করব। যেহেতু গত দুই আসরে আমাদের পদক ছিল। এবারও সেটিই লক্ষ্য।

প্রশ্ন: গতবার ক্রিকেট থেকে দুটি পদক এসেছিল। এবার ক্রিকেট নেই। নারী কাবাডি দলের প্রতিই প্রত্যাশা বেশি...

শাহনাজ: কাবাডিতে ছেলে-মেয়ে দুই বিভাগেই সবার প্রত্যাশা থাকে। ছেলেদের কাবাডিতে টানা পাঁচবার পদক এসেছে। শেষ দুটি (২০১০ ও ২০১৪) আসরে অবশ্য কোনো পদক আসেনি। মেয়েরা সেখানে শেষ দুটি আসরে ব্রোঞ্জ পদক উপহার দিয়েছে দেশকে। একারণেই প্রত্যাশাটা বেশি। আমাদের সবার স্বপ্নও সেটি। দেশের জন্য আমরা ভালো খেলব, দিন শেষে আমরা আমাদের পতাকাকে উপরেই দেখতে চাই।

প্রশ্ন: কিন্তু এবার কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে আপনাদের। আগের দুই আসরে ৫টি দল খেললেও এবার সেখানে ৯টি দল।

শাহনাজ: আমরা যদি সুস্থ থাকি, ম্যাচের দিন ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই পদক ধরে রাখতে পরব। গতবার আমরা কোরিয়াকে হারিয়েছি। সেই কোরিয়া এখন ইরানকে হারাচ্ছে। সেই দিক দিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। অবশ্যই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। পদক জিততে হলে আমাদের অসাধারণ কিছু করতে হবে এবার। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরানের মতো দেশকে হারাতে হতে পারে। আমরা যে প্র্যাকটিস করেছি তাতে ম্যাচের দিন ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই আমাদের পদক থাকবে।

প্রশ্ন: আপনাদের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি কী?

শাহনাজ: আমাদের আগে রেইডারের সমস্যা ছিল। এবার শ্রাবণী, হাফিজার মতো নতুন কয়েকজন এসেছে। ওরা আসার পর আমার মনে হয় রেইডিং সাইডটা ভালো হয়েছে। ডিফেন্সও ভালো। আমরা দুটি মিলিয়েই ভালো করতে চাই।

প্রশ্ন: তিনজন একেবারেই নতুন। এশিয়াডের মতো আসরে তাদের অভিষেক হবে। সিনিয়ররা তাদের কিভাবে সাহায্য করছেন?

শাহনাজ: প্র্যাকটিসে ওরা খুবই ভালো করেছে। একারণেই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে তারা জায়গা পেয়েছে। সেই দিক থেকে আশা করি, ম্যাচেও তারা ভালো করবে। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতা মিলিয়ে আমরা কিছু একটা করতে পারবো বলে আশাবাদী। অনেকদিন একসঙ্গে আছি বলে আমাদের বোঝাপড়াটাও ভালো।

প্রশ্ন: টানা তৃতীয় এশিয়াড খেলতে যাচ্ছেন আপনি। বিষয়টি আপনাকে নিশ্চয়ই আন্দোলিত করছে?

শাহনাজ: অবশ্যই এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা অর্জন। অনেক মেয়ে আছে কয়েক বছর খেলার পরই তাদের বিয়ে হয়ে যায়। তাদেরকে পরিবার থেকে আর দিতে চায় না। একরম করে অনেক খেলোয়াড় হারিয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে আল্লাহর রহমতে সেটি হয়নি। আমার তো মনে হয় আমি আরও অনেকদিন খেলতে পারব দেশের হয়ে।

প্রশ্ন: সামনের ক্যারিয়ার নিয়ে আসলে কী ভাবছেন?

শাহনাজ: আমরা মেয়ে মানুষ। একদিন না একদিন তো খেলা ছাড়তেই হবে। তারপরও আমি চাই যতোদিনই খেলি না কেন যাতে ভালো খেলতে পারি।

টিএআর/এমএসআই