অলিম্পিক মেডেলে চোখ রেখেই এগোবেন শাকিল

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

অলিম্পিক মেডেলে চোখ রেখেই এগোবেন শাকিল

তোফায়েল আহমেদ ১১:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

অলিম্পিক মেডেলে চোখ রেখেই এগোবেন শাকিল

কমনওয়েলথ গেমসে ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলে রূপা জিতেছেন শাকিল আহমেদ। আব্দুল্লাহ হেল বাকীর পর তার হাত ধরে আসরের দ্বিতীয় পদকটি জয় করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২৮ বছর পর ৫০ মিটার পিস্তলে পদক আসে কমনওয়েলথ গেসম থেকে। এই আসর থেকে জোড়া পদকও এলো ২৮ বছর পর। পিস্তল শ্যুটার শাকিল আহমেদ এখানেই অবশ্য থেমে থাকতে চান না। পুরো দেশের প্রত্যাশার ভার কাঁধে তুলে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে জাতীয় পতাকাকে তুলে ধরতে চান নিয়মিত। পরিবর্তন ডটকম প্রতিবেদক তোফায়েল আহমেদকে নিজের সেই সব ভাবনার কথার জানিয়েছেন এই শ্যুটার।

প্রশ্ন : প্রথমবার অংশ নিয়েই কমনওয়েলথ গেমস থেকে রূপা জয় করে দেশে ফিরলেন। কেমন লাগছে?

শাকিল : অবশ্যই অনেক ভালো লাগছে। এই প্রথম আমি কমনওয়েলথ গেমসে খেললাম। আগে সবার কাছেই শুনেছি কমনওয়েলথ গেমস অনেক বড় আসর। অলিম্পিকের পরই কমনওয়েলথকে ধরা হয়। আমরা পাঁচ-ছয় মাস আগে থেকেই প্র্যাকটিস শুরু করি এই আসরকে লক্ষ্য রেখে। শুরু থেকেই প্রবল ইচ্ছা ছিল কমনওয়েলথ গেমসে ভালো কিছু করতে হবে আমাকে। পদক নিয়ে ফিরতে পারার আনন্দ তো বলে বোঝানোর নয়।

প্রশ্ন : ১০ মিটারে ষষ্ঠ হওয়ার পর ৫০ মিটারে রূপা জেতেন। এই ইভেন্টের আগে নাকি আপনি অনেকটা নির্ভার ছিলেন। কোচ পদকের আগাম নিশ্চয়তাই দিচ্ছিলেন।

শাকিল : আসলে ১০ মিটারের চেয়ে আমার ৫০ মিটার নিয়ে আত্মবিশ্বাস বেশি। কারণ ৫০ মিটার আমার প্রধান ইভেন্ট। ২০১৬ সালে এসএ গেমসে আমি এই ইভেন্টে সোনা জিতেছিলাম। আমার মধ্যে তাই কখনো ভয়-ভীতি বা নার্ভাসনেস আসেনি। ৫০ মিটারে যে কোনো কম্পিটিশন হলে আমি বলতে পারি আমার ভালো কিছু আসবেই। এই ইভেন্টে আমি যে কোনো সময়ের জন্য তৈরি। আমি সবাইকে তাই বলতাম ভালো কিছুই হবে।

প্রশ্ন : আপনার পদক জয়ের আগে আব্দুল্লাহ হেল বাকী ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রূপা নিশ্চিত করেন। এটা আপনার কাছে কতোটা প্রেরণার ছিল?

শাকিল : প্রথম দুই দিন বাকী ভাইয়ের ইভেন্ট ছিল। বাকী ভাইয়ের মেডেল আসল। আমাদের পিস্তলে পরদিন কম্পিটিশন ছিল বলে বাকী ভাইয়ের ইভেন্ট দেখতে পারিনি। প্র্যাকটিসের পাশাপাশি আমরা ফোনে লাইভ দেখছিলাম। বাকী ভাই খেলছিল আর আমাদেরই হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছিল। বাকী ভাই পদক জিতলেন। শুধু আমি নই, আমাদের শ্যুটিং দলের পুরো চেহারাটাই তাতে বদলে গেল তাতে। ইভেন্টের আগে আমার মধ্যে নার্ভাসনেস কিছু আসেনি। আমি সব সময় নিজের প্রতি বিশ্বাসী ছিলাম যে আমার সেরাটা করব।

প্রশ্ন : ১০ মিটারে তো ষষ্ঠ হয়েছেন। সেখানে কি পদক পেতে পারতেন না?

শাকিল : ১০ মিটারে আমি ১৮ নম্বর শটে গিয়ে বাদ পড়ি। এর আগে আমি ভালো লেভেলে ছিলাম। আমি দেখছিলাম তিন-চারের মধ্যে আমি ঘুরতেছি। কিন্তু ১৮ নম্বর শটটাতে একটু গরমিল হয়েছে। পেছনে এত হুল্লোড় ছিল তখন। দুর্ভাগ্যবশত টিগারে চাপ লেগে গুলিটা বেরিয়ে যায়। শট ৬.১ হয়েছিল। যে কারণে আমি তিন পয়েন্টে পিছিয়ে যাই। আর ছয় নম্বরে বাদ পড়তে হয়। কিন্তু যদি ওই সময় এমন দুর্ভাগ্যজনক কিছু না হতো তাহলে ওটাতেও মেডেলের লড়াইয়ে চলে যেতাম।

প্রশ্ন : প্রথমবারে অংশ নিয়ে কমনওয়েলথে পদক জয়ের সঙ্গে আর কী অভিজ্ঞতা হলো?

শাকিল : বিশ্বমঞ্চে নিজেকে যাচাই হলো। আমি এখন বলতে পারি আমার যে স্কোর আছে সেটা বিশ্বমানের শ্যুটারদের মতো। এখন ভারতই বিভিন্ন বড় বড় আসরে মেডেলগুলো নিচ্ছে। ওদের স্কোর আর আমাদের স্কোরে তেমন পার্থক্য নেই। তারাও এখন আমাদের নিয়ে ভয়ে থাকে। আমাদের শ্যুটিং এখন আর সেই জায়গায় নেই যে গেলাম আর চলে আসলাম। আমরা প্র্যাকটিস করি, লিস্টে আমাদের স্কোর সবাই দেখে। এখন আমরা বলতে পারি যে, আমরা একটা লেভেলে চলে গেছি। যে কোনো টিমের সঙ্গে ফাইট দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে।

প্রশ্ন : কমনওয়েলথের পর সামনে কী লক্ষ্য ঠিক করেছেন?

শাকিল : আমাদের ৫০ মিটার বা ১০ মিটারে যে স্কোর আছে সেটা বিশ্বকাপে ফাইট দেয়ার মতো। পরবর্তী যে বিশ্বকাপ আছে সেগুলোতে কোটা প্লেসের সিস্টেম আছে। আমরা চাচ্ছি সেখানে সেরা চারের মধ্যে ঢুকব, ফাইনাল খেলব। কোটা প্লেসের জন্য লড়ব। এখন বর্তমানে আমাদের যে টার্গেট, সামনে এশিয়ান গেমস আছে। সেটা নিয়েই আমরা এগোব।

প্রশ্ন : কমনওয়েলথে যেহেতু সিলভার জিতলেন, এশিয়ান গেমসে নিশ্চয়ই সোনা প্রত্যাশা থাকবে?

শাকিল: এশিয়ান গেমস কোনো অংশেই কমনওয়েলথ গেমসের চেয়ে কম না। দুটোই সমমানের বলব। সেখানে কমনওয়েলথের পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখার চেষ্টা করব। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলেই হবে। লক্ষ্য আমাদের সেটিই থাকবে।

প্রশ্ন : গেমসে যাওয়ার সময় বিমানে ওঠা আর আসার সময় বিমানে উঠার মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?

শাকিল : যাওয়ার সময় মনের মধ্যে ছিল দেশের প্রতিনিধি হয়ে খেলতে যাচ্ছি। দেশের সরকার আমাদের পাঠাচ্ছে। নিজের কাঁধে অনেক বড় দায়িত্ব। যখন ফিরলাম নিজের কাছে ভালো লাগছিল যে দেশের জন্য কিছু নিয়ে আসতে পারলাম। দেশের পতাকাকে অন্তত সবার সামনে তুলে ধরতে পারলাম। আসলে পদক মঞ্চের ওই মুহূর্তটা চোখ দিয়ে পানি চলে আসার মতো। যখন দেশের ফেরার জন্য বিমানে উঠি তখনো খুব ভালো লাগছিল।

প্রশ্ন : কমনওয়েল শ্যুটিংয়ে নিশ্চয়ই আমাদের পক্ষে আরো বেশি পদক জয় সম্ভব?

শাকিল : আমাদের শ্যুটারদের সবাই আসলে খুব ভালো পারফর্ম করছে এখন। শ্যুটিংয়ে পদক এমন একটা জিনিস যা আগে থেকে বলা যাবে না কে পাবে। অলিম্পিকে মেডেল পাওয়া শ্যুটারও শুরুতে বাদ পড়ে যেতে পারে। লক্ষ্য থাকলে সেখানে পৌঁছানো যায় এই। আমাদেরও সেই লক্ষ্য ছিল এবং মেডেল ধরা দিয়েছে। আশা করি, পরবর্তীতে আরো বেশি মেডেল আমরা জিতে ফিরব।

প্রশ্ন : অলিম্পিকে খেলার ব্যপারে আপনার ভাবনা কী?

শাকিল : এখনো বাংলাদেশে কোনো অলিম্পিক মেডেল নেই। সেই হিসেবে আমি প্র্যাকটিস করব। আমার এখন অনেক দায়িত্ব। আরো বেশি পরিশ্রম করব, এখন বসে থাকার সময় নেই। আমাদের দেশকে আরো বেশি কিছু উপহার দিতে হবে। আমার প্রিয় ইভেন্ট ৫০ মিটার যদিও অলিম্পিকে নেই। ১০ মিটারেই আমি সেই অবস্থানে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যেই আমরা এগোব।

টিএআর/এমএসআই