কত টাকা বেতন পান শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলোর কোচ?

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কত টাকা বেতন পান শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলোর কোচ?

পরিবর্তন ডেস্ক ১:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

কত টাকা বেতন পান শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলোর কোচ?

বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো

বিশ্বকাপের পর কোচিং স্টাফে রদ বদল এনেছে বেশ কয়েকটি দল। যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টুয়েন্টির রমরমা যুগে কোচদের আগ্রহ আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টের দিকে। সেখানে এক মৌসুমেই কাজ করে অনেক টাকা পকেটে পুরতে পারেন অনেক কোচ। এর মধ্যেও দেখে নেওয়া বেতনের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ জাতীয় দলের কোচ কারা—

লালচান্দ রাজপুত (জিম্বাবুয়ে) :

বর্তমানে মৃতপ্রায়ই বলা চলে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট। এক সময়ের শক্তিশালী দলটি বর্তমানে আছে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায়। মারাত্মক আর্থিক সংকটে ভোগা দেশটির ক্রিকেটাররা অনেকেই অবসরের দিন গুনছেন। ক্রিকেট বোর্ডটি ঠিক মতো ক্রিকেটার ও স্টাফদের বেতন দিতে পারছে না। এর মধ্যেই গেল বছর মে মাসে লালচান্দ রাজপুতকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট বোর্ড।

প্রথমে অন্তবর্তীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেও ওই বছরের শেষেই স্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান রাজপুত। কোচ হিসেবে ভারতের সাবেক এই ক্রিকেটারের বার্ষিক বেতন ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪২ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

ফ্লয়েড রেইফার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) :

জিম্বাবুয়ের মতোই ধুঁকছে ক্রিকেটের এক সময়কার পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব ফরম্যাটেই শক্তি হারিয়েছে দলটি। দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ফ্লয়েড রেইফার এই মুহূর্তে কোচের দায়িত্বে আছেন। চলতি বছরের শুরুতে রিচার্ড পাইবাসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। তার বার্ষিক বেতন ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৬ লক্ষ টাকার বেশি।

ওটিস গিবসন (দক্ষিণ আফ্রিকা) :

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ওটিস গিবসনের কোচিং অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৭ সালে তিনি ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দেন। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকে হেড কোচ হিসেবে নিযুক্ত করে। তবে পরের বছরই আবার ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ হিসেবে ফিরে যান। সেখান থেকে ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার বার্ষিক বেতন ১ লক্ষ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১.১৮ কোটি টাকারও বেশি।

রাসেল ডমিঙ্গো (বাংলাদেশ) :

বিশ্বকাপের পর স্টিভেন রোডসসহ পুরো কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাসেল ডমিঙ্গোকে মনে ধরে বিসিবির। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কোচের এর আগে জাতীয় দলে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই। তবু তার পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহের উৎসাহী হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ডমিঙ্গোর বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি।

গ্যারি স্টেড (নিউজিল্যান্ড) :

বিশ্বকাপের কয়েকমাস আগে হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেন নিউজিল্যান্ডের কোচ মাইক হেসন। তার অধীনে দুর্দান্ত খেলেছিল কিউইরা। যাই হোক হেসনের যায়গায় নিয়োগ পান গ্যারি স্টেড। তার অধীনেও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড। কিউই বোর্ডে স্টেডের বার্ষিক বেতন ২ লক্ষ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি টাকার বেশি।

মিসবাহ উল হক (পাকিস্তান) :

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর চাকরি হারান পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থার ও তার কোচিং স্টাফরা। নতুন হেড কোচ হিসেবে দেশটির সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে নিয়োগ দিয়েছে পিসিবি। তার বার্ষিক বেতন ঠিক করা হয়েছে আড়াই লক্ষ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকার বেশি।

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে (শ্রীলঙ্কা) :

২০১৭ সালে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের হেড কোচের দায়িত্ব ছেড়ে নিজ দেশ শ্রীলঙ্কায় ফিরে যান চন্ডিকা হাথুরসিংহে। দায়িত্ব নেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের। যদিও বিশ্বকাপের পর গদি নড়ে উঠেছিল তার। কিন্তু এখনও চাকরি টিকে আছে। লঙ্কা বোর্ড তাকে বার্ষিক বেতন দেয় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি।

ট্র্যাভর ব্যালিস (ইংল্যান্ড) :

২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন ট্র্যাভর ব্যালিস। তার বার্ষিক বেতন ৫ লক্ষ ২০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার বেশি।

জাস্টিন ল্যাঙ্গার (অস্ট্রেলিয়া) :

গেল বছর বল ট্যাম্পারিং কেলেঙ্কারির পর পদত্যাগ করেন সেই সময়ের হেড কোচ ড্যারেন লেম্যান। তারপর অস্ট্রেলিয়ার দলের দায়িত্ব নেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তার অধীনে অন্ধকার যুগ পার হয়ে আবার স্বরূপের ফিরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। ল্যাঙ্গারের বার্ষিক বেতন ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি।

রবি শাস্ত্রী (অস্ট্রেলিয়া) :

২০১৬ সালে প্রথমবার ভারতের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান রবি শাস্ত্রী। বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় মেয়াদে আবার নিয়োগ পান তিনি। তার বার্ষিক বেতন ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বেশি।

পিএ

 

ফিচার: আরও পড়ুন

আরও