এশিয়া কাপে সবচেয়ে সফল দল ভারত

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

এশিয়া কাপে সবচেয়ে সফল দল ভারত

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

এশিয়া কাপে সবচেয়ে সফল দল ভারত

২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত

শনিবার বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের চতুর্দশ আসর। সংযুক্ত আর আমিরাতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে এশিয়ার ৬টি দল। এবারের আসরে অন্যতম ফেভারিট মানা হচ্ছে পাকিস্তানকে। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতও শিরোপার অন্যতম দাবীদার। এদিকে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ বরাবরই দুর্দান্ত। ফলে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশও চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।

এশিয়ার এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল দল ভারত। সর্বমোট ৬ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। তারপরেই আছে শ্রীলঙ্কা। দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৫ বার। এছাড়া দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। এদিকে দুইবার ফাইনালে গিয়েও শিরোপার লড়াইয়ে ব্যর্থ হয় টাইগাররা।

আরব আমিরাতেই বসে এশিয়া কাপের প্রথম আসর, ১৯৮৪ সালে। সেবার ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা অংশ নেয়। সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় শারজাহয়। রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। টুর্নামেন্টের পরবর্তী আসর বসে ১৯৮৬ সালে শ্রীলঙ্কায়। ওই আসরে ভারত অংশ নেয়নি। সেবার প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ। অন্য দুইটি দল যথারীতি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা।

শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, বাংলাদেশ

১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। এই আসরে অংশগ্রহণকারী দল বেড়ে দাঁড়ায় চারটিতে—ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে এই আসরে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে ভারত। এশিয়া কাপের চতুর্থ আসর বসে ভারতে। দেশটির সাথে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এই আসরে খেলেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে খেলা এই আসরেও শিরোপা জেতে ভারত।

১৯৯৫ সালে আবার এশিয়া কাপের আসর বসে আরব আমিরাতে। এই আসরে ফিরে আসে পাকিস্তান। ফলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারে। এবারও চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এটি ছিল এশিয়া কাপে তাদের চতুর্থ শিরোপা। আগের চার দল নিয়েই এশিয়া কাপের পরবর্তী আসরটি বসে শ্রীলঙ্কায়, ১৯৯৭ সালে। ঘরের মাঠে এবারও চ্যাম্পিয়ন হয় অর্জুনা রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা। ২০০০ সালে দ্বিতীয় বারের মতো এশিয়া কাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ। এই আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে পাকিস্তান।

পরবর্তী দুই আসরে (২০০৪ ও ২০০৮) টানা শিরোপা জেতে শ্রীলঙ্কা। ২০০৪ এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। এই আসরেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ৬টিতে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ছাড়াও অংশ নেয় আরব আমিরাত ও হংকং। আর একই অংশগ্রহণকারী দল নিয়ে পরবর্তী আসর (২০০৮) বসে পাকিস্তানে।

এশিয়া কাপের দশম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে, শ্রীলঙ্কায়। এই আসরে দল নেমে আসে ৪টিতে—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। একাদশ আসর আয়োজন করে বাংলাদেশ, ২০১২ সালে। পূর্ববর্তী আসরের ৪ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আসরে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। এই আসরেই প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।

এরপর টানা আরও দুইটি আসর আয়োজন করে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে টুর্নামেন্টের দ্বাদশ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা। এই আসরে অংশ নেয় ৫টি দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাথে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় আফগানিস্তান। আর ২০১৬ সালের ত্রয়োদশ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। রানার্স আপ হয় বাংলাদেশ। এই আসরটি অনুষ্ঠিত হয় টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে। এই আসরে আফগানিস্তানের বদলে অংশ নেয় আরব আমিরাত।

চতুর্দশ আসর আবার ফিরেছে ওয়ানডে ফরম্যাটে। মূলত ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই ওয়ানডে ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে এবারকার আসর। এই আসরে অংশ নিচ্ছে ৬টি দল—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং। এই প্রথম এশিয়া কাপের কোন আসরে স্বাগতিক দেশ অংশ নিচ্ছে না। দলটি বাছাইপর্বে হংকংয়ের কাছে হেরে যায়।

পিএ