স্টার্ক তাকে চেনেন জেনে বিস্ময়ে হতবাক রুমানা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

স্টার্ক তাকে চেনেন জেনে বিস্ময়ে হতবাক রুমানা

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১৯ অপরাহ্ণ, মে ০৩, ২০১৮

print
স্টার্ক তাকে চেনেন জেনে বিস্ময়ে হতবাক রুমানা

বাংলাদেশি কোন ক্রিকেটারকে চেনেন মিচেল স্টার্ক। এটা এমনিতে কোন বড় খবর নয়। কারণ নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্ব দরবারে এরই মধ্যে পরিচিতি লাভ করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে সেটা পুরুষ ক্রিকেট দল। কিন্তু ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয় পেসার যাকে চেনেন, তিনি বাংলাদেশের একজন নারী ক্রিকেটার। রুমানা আহমেদ। তখন কিছুটা বিস্ময় জাগে। বিস্ময় জেগেছিল রুমানারও।

মেয়েদের বিগ ব্যাশ মৌসুমে ৫ সহযোগী দেশের ৮ নারী ক্রিকেটার গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। উদ্দেশ্য বড় বড় ক্লাবগুলো কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়, সেখানে কিভাবে ক্রিকেটাররা তৈরি জন সে সম্পর্কে ধারণা নিতে। সেই দলে ছিলেন দুই বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার। রুমানা ও খাদিজা তুল কুবরা। আর অস্ট্রেলিয়া গিয়েই রুমানা জানতে পারেন, তাকে চেনেন স্টার্কের মতো বিশ্বসেরা পেসার। আর এতে বিস্ময়ে হতবাক নারী ক্রিকেট দলের ওয়ানডে সংস্করণের অধিনায়ক রুমানা। তার কথায়, ‘আমি আশাই করিনি এরকম একজন বিখ্যাত ক্রিকেটার বাংলাদেশের এক নারী ক্রিকেটারকে চিনবেন।’

এমনিতেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েই খেলাধুলার সাথে যুক্ত হতে হয় বাংলাদেশের মেয়েদের। তার ওপর অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া- পরিবারকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়েই তবে সম্ভব হয়েছে। তবে এই কষ্ট বিফলে যায়নি। দু’জনেই জেনেছেন অনেক কিছু। পরিচিত হয়েছেন বিখ্যাত নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে। সুযোগ হয়েছে তাদের সঙ্গে অনুশীলন করার। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে অর্জন কম নয়।

সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রুমানা জানিয়েছেন, ‘স্কিল বা ফিটনেস রুটিনের চেয়েও আমি তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও খেলা বোঝার চেষ্টা করেছি। কিভাবে এই শীর্ষ নারী খেলোয়াড়রা আধুনিক ক্রিকেট আয়ত্ব করছেন।’

গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পর আর কোন খেলা ছিল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। ফলে খেলার সুযোগও কম তাদের। সেই প্রসঙ্গ তুলে রুমানা আরো বলেছেন, ‘আমরা আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে আছি। আমাদের খেলার সুযোগ সীমিত এবং এটা আমাদের বিকাশের বাধা। সুতরাং জেস জনাসেন, বেথ মানি, দিলিসা কিমিন্স ও ডেন্ড্রা ডটিনের মতো খেলোয়াড়ের সাথে অনুশীলন করতে পারাটা অনেক বড় অর্জন।’

একই সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত অফ স্পিনার খাদিজাও। তার কথায়, ‘আমি অনেক সৌভাগ্যবতী। আল্লাহ আমাকে অ্যামি স্যাটার্থওয়েট, মিগনন ডু প্রিজ ও লিজলি লির সুপার ওভার দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের সংকল্প ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞতা সতীর্থদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। রুমানা জানিয়েছেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো এই অভিজ্ঞতা আমাদের টিমমেটদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। এই অভিজ্ঞতা যদি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে, বাংলাদেশের কোন মেয়েকে অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস জন্ম দিতে পারে যে একজনের নিজস্ব পরিচয় সৃষ্টি করা সম্ভব তাহলে বলব অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে।’

সূত্র : ইএসপিএনক্রিকইনফো।

পিএ/ক্যাট

 
.


আলোচিত সংবাদ