‘পাক-মার্কিন মিত্রতা শেষের পথে’

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

‘পাক-মার্কিন মিত্রতা শেষের পথে’

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৮, ২০১৮

print
‘পাক-মার্কিন মিত্রতা শেষের পথে’

পাকিস্তানকে দেওয়া নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করায় পাক-মার্কিন মিত্রতা শেষ হওয়া পথে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। পাক গণমাধ্যম জিও নিউজ বলেছে, আসিফ বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পাক-মার্কিন সম্পর্ক এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বিশেষ করে, সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানকে আরো কিছু করতে হবে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করেছে।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কোনো মিত্রতা (যুক্তরাষ্ট্রের সাথে) নেই, আর এটা মিত্রতার আচারণও নয়।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প টুইটারে বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা বোকার মতো পাকিস্তানকে তিন হাজার তিনশ কোটি ডলার দিয়ে এসেছি। অথচ সন্ত্রাস দমনে ইসলামাবাদ আমাদের খুব সামান্যই সাহায্য করেছে।

পাকিস্তানকে আর কোনো সাহায্য দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এরপর শুক্রবার মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানকে সাড়ে ২৫ কোটি ডলার সাহায্য বন্ধ করে দেয়।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নুয়ের্ত বলেন, ‘আমরা এখন থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া নিরাপত্তা সাহায্য বন্ধ করছি।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে বলে মার্কিন সরকারের অভিযোগের পরই এই সাহায্য বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে, একই দিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। তবে পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে তাতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছিল মস্তবড় ভুল। এর কারণে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের ব্যর্থতা পাকিস্তানের ওপর চাপাচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি তুলনামূলক অনেক ভালো আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান একা নয়, চীন, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের সাথে আমাদের মিত্রতা রয়েছে।

আসিফ বলেন, ‘যদি আমরা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যাই তাহলে যুদ্ধ ঘুরে ফিরে আমাদের দেশেই আসবে। আর আমেরিকানদের তাতেই লাভ।’

আরপি

 
.



আলোচিত সংবাদ