‘জামে মসজিদ কি পাকিস্তানে?’ আদালতে তিরস্কৃত দিল্লি পুলিশ

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬

‘জামে মসজিদ কি পাকিস্তানে?’ আদালতে তিরস্কৃত দিল্লি পুলিশ

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

‘জামে মসজিদ কি পাকিস্তানে?’ আদালতে তিরস্কৃত দিল্লি পুলিশ

জামে মসজিদের এই ভিড়কেই সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে।—ফাইল ছবি।

দিল্লির জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিনা অনুমতিতে নতুন নাগরিকত্ব আইন-বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। এই অভিযোগে প্রায় এক মাস ধরে আজাদ দিল্লি পুলিশের কাছে আটক।

কিন্তু আজ মঙ্গলবার আজাদের শুনানিতে আদালতে তিরস্কৃত হল খোদ দিল্লি পুলিশ। আদালত সাফ জানিয়ে দিল, বিক্ষোভ দেখানো দেশের নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।

দিল্লি পুলিশকে তিরস্কার করে আদালত বলেন, ‘আপনারা এমন করছেন যেন জামে মসজিদ পাকিস্তানে! আর হলেই বা কী, সেখানেও বিক্ষোভ দেখানো যায়।’   

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে জামে মসজিদে প্রতিবাদ মিছিল করা এবং সহিংসতায় মদত দেওয়ার অভিযোগে প্রায় এক মাস ধরে জেলবন্দি চন্দ্রশেখর আজাদ।

দিল্লির তিস হাজারি কোর্টে তাঁর জামিনের শুনানি চলছিল আজ মঙ্গলবার। সেখানে আজাদের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ তোলেন সরকারি আইনজীবী। জামে মসজিদে ধর্না নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজাদের একাধিক পোস্ট তুলে ধরেন তিনি। আজাদই বিক্ষোভে মদত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগও তোলেন।

কিন্তু তার মন্তব্য ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি বিচারক কামিনী লউ। তিনি বলেন, ‘ধর্নায় বসার মধ্যে ভুল কী আছে? প্রতিবাদই বা ভুল হতে যাবে কেন? প্রতিবাদ করা, ধর্নায় বসা এসব নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।’

আজাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার মতো কিছু বা অসাংবিধানিক কোনও বার্তা ছিল না বলেও সাফ জানিয়ে দেন বিচারক। তিনি বলেন, ‘কোথায় হিংসা? পোস্টগুলিতে ভুল কী আছে? কে বলেছে প্রতিবাদ করা যাবে না? সংবিধানটা পড়ে দেখেছেন?’

প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ দেখাতে গেলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হয় বলে সরকারি আইনজীবী যুক্তি দেখাতে গেলে, তা-ও খারিজ করে দেন বিচারক লউ।

লউ বলেন, ‘কিসের অনুমতি? বিক্ষোভ রুখতে বারবার ১৪৪ ধারা জারি করা চলে না বলে সুপ্রিম কোর্টও জানিয়ে দিয়েছে। সংসদের বাইরেও অনেককে বিক্ষোভ দেখাতে দেখেছি। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার রাজনীতিক, মুখ্যমন্ত্রী। আপনারা এমন করছেন যেন জামে মসজিদ পাকিস্তানে। আর যদি পাকিস্তানেই হয়, তাহলে সেখানেও বিক্ষোভ দেখানো যায়। কারণ অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল পাকিস্তান।’

তবে জামে মসজিদে দাঁড়িয়ে আজাদ প্ররোচনামূলক মন্তব্যই করেছেন বলে পাল্টা দাবি করেন সরকারি আইনজীবী। তার ড্রোন ফুটেজও রয়েছে বলে জানান তিনি। সেগুলি আদালতে জমা দিতে বিচারকের কাছে সময় চান তিনি। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে ফের শুনানি হওয়ার কথা। তবে আজাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ আনা হয়েছে।

এমএফ/

 

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও