পার্লামেন্টে উঠছে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

পার্লামেন্টে উঠছে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

পার্লামেন্টে উঠছে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে আজ ভারতের পার্লামেন্টে উঠছে দেশটির ব্যাপক বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। বিরোধী দলগুলোর তীব্র আপত্তি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও ৯ ডিসেম্বর সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিলটি উত্থাপনের কথা রয়েছে।

সেখানে বিজেপি সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সহজেই এটি পাস হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর আওতায় ভারতে ৫ বছর থাকলেই নাগরিকত্ব পাবে অমুসলিমরা।

গত বুধবার বিলটি পার্লামেন্টে তোলার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। লোকসভার পর বিলটি যাবে রাজ্যসভায়। তবে বিজেপির সঙ্গে সংঘাত চললেও এ বিলের পক্ষেই ভোট দেবে আরেক উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনা। পাশাপাশি বিজেডি, টিআরএস, এআইএডিএমকে-এর মতো দলগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে বিজেপি।

বিলটি পাস হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে গিয়ে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসকারী অমুসলিমরা দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করবেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর বলেন, ‘আশা করি বিলটি পেশ করা হলে এ নিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর আর কোনও আপত্তি থাকবে না।’ তবে ইতোমধ্যেই এ বিলের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ১১ ঘণ্টার বনধ ডেকেছে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।

তাদের দাবি, বিলটি ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তির বিরোধী।  ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত ধর্ম নির্বিশেষে যারা ভারতে এসেছেন তারা নাগরিকত্ব পাবেন। বিলের বিরোধিতায় রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আসামের আরও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন।

তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সিপিএম-ও এ বিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৭২ বছর পর হঠাৎ নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যায় না। এই এনআরসি আমি মানি না। নাগরিক তালিকায় যদি জানা যায়, নাগরিকরা ভুয়া, তাহলে তো তাদের ভোটে জেতা সরকারও ভুয়া। তাহলে মোদিও ভুয়া, তার সরকারও ভুয়া।’

মমতা বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস আরেকটি স্বাধীনতা আন্দোলন করবে। আপনারা তৈরি থাকুন।’ এনআরসি আতঙ্কে ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান মমতা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আসামে কত জন মারা গেছেন? আমাদের তো রেকর্ড থাকে, ওখানে তো রেকর্ডও নেই।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, ‘সব ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে তা মেনে নেবো। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে তার বিরোধিতা করবো। এই বিল একেবারেই অসাংবিধানিক। বিলটিতে যা প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি মেনে আইন হলে তা ‘ভারতের মূল ধারণায়’ আঘাত হানবে।’

কিন্তু বিজেপি বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে যে সংখ্যালঘুরা ভারতে এসেছেন; তাদের জন্যই এ আইন দরকার। আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, ধর্মের কারণে বিভিন্ন দেশে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের রক্ষার জন্য বিলটি আনা হয়েছে। ফলে এটি ধর্মনিরপেক্ষ হবে; এমনটা আশা করা হচ্ছে কীভাবে!

লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এই বিলের পুরোপুরি বিরোধিতা করবো। কেননা, এই বিলের মাধ্যমে আমাদের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি লঙ্ঘিত হবে।’ উত্তর-পূর্ব গণতান্ত্রিক জোটের দলগুলোর প্রতি কংগ্রেস দলীয় এমপি গৌরব গগৈ আবেদন জানিয়েছেন, বিজেপি-র সঙ্গে না গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

সূত্র:এনডিটিভি, আনন্দবাজার।

এমএফ/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও