পাকিস্তানে এক গ্রামেই এইডসে আক্রান্ত ৯০০ শিশু

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পাকিস্তানে এক গ্রামেই এইডসে আক্রান্ত ৯০০ শিশু

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

পাকিস্তানে এক গ্রামেই এইডসে আক্রান্ত ৯০০ শিশু

পাকিস্তানের একটি গ্রামেই প্রায় ৯০০ শিশু এইচআইভি রোগে আক্রান্ত। যদিও তাদের পরিবারের কেউ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত নয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে সেখানকার স্থানীয় এক চিকিৎসক তার ক্লিনিকে আসা শিশুদের উপসর্গ দেখে সন্দেহ হলে এইচআইভি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। পরে আট দিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতির কথা জানা যায়।

শুধু পাকিস্তানেই নয়, এশিয়াতেও এত মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে একসাথে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির নেই বললেই চলে।

শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছরের এপ্রিলে সেখানকার একজন স্থানীয় চিকিৎসক তার ক্লিনিকে আসা শিশুদের উপসর্গ দেখে সন্দেহ করেন। তিনি সেসব শিশুর এইচআইভি পরীক্ষা করার উপদেশ দেন।

পরে আটদিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে জানা যায়।

পাকিস্তানের ঘটনায় বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয়টি হলো, সেখানে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়সই ১২ বছরের কম। তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এই রোগের কোনো উপস্থিতি ছিল না।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ করার অভিযোগ আনা হয় ওই অঞ্চলের ডাক্তার ঘাঙরোর বিরুদ্ধে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে।

শিশুদের ডাক্তার হিসেবে সে অঞ্চলে তার সুখ্যাতি ছিল, তার কাছে চিকিৎসা করানোর খরচও কম ছিল। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর সব বদলে যায়।

তার দাবি, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ভীষণ চাপের মুখে ছিল। তাদের অযোগ্যতার দায় কারো না কারো ওপর চাপাতে হতো তাদের। বলির পাঁঠা হই আমি।

কয়েক সপ্তাহ পরে পাকিস্তানের সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হওয়া এক তদন্তের পর ডাক্তার ঘাঙরোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব কমানো হয়। অভিযোগ করা হয় যে তার দায়িত্বে অবহেলার মাত্রা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

ডাক্তার ঘাঙরো বলেন, গত দশ বছর ধরে আমি চিকিৎসা পেশায় আছি। এখন পর্যন্ত একজনও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেনি যে আমি সুঁই পুনর্ব্যবহার করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি স্থানীয়দের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়ও ছিলাম। তাই পেশাগত হিংসা থেকে অন্যান্য ডাক্তার এবং সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ এনেছে।

ডাক্তার ঘাঙরোর ক্লিনিক থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে শুভানা খান গ্রামে ৩২ জন শিশু এইচআইভি আক্রান্ত। এই শিশুদের পরিবারের কোনো সদস্যরই এইচআইভি ছিল না।

কয়েকটি শিশুর মায়ের অবস্থা উন্মাদপ্রায়। তাদের সন্তানরা অপুষ্টিতে ভুগছে আর ক্রমাগত কাঁদছে। এক শিশুর মা বলেন, আমার সন্তানের ওজন মেপে তাকে ভিটামিন দিতে বলি আমি।

তারা আমাকে বলে যে তারা শুধু ওষুধের সুপারিশ করতে পারবে, যা আমার নিজের টাকা দিয়ে কিনতে হবে। কিন্তু আমার এতো দামি ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।

পাকিস্তানের সরকার এইচআইভি’র ওষুধ যদিও বিনামূল্যে দিচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশ রোগীরই এইচআইভি’র প্রভাবে শরীরে অন্যান্য যেসব রোগের সংক্রমণ হয়ে থাকে সেগুলোর ওষুধের খরচ বহন করতে পারেন না।

কিন্তু শুধু আর্থিক দৈন্য নয়, সমাজের মানুষের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্তদের সম্পর্কে মনোভাবও রাতোদেরো’র শিশুদের অভিভাবকদের যন্ত্রণা দিচ্ছে।

এক শিশুর মা বলছিলেন, মানুষ আমাদের সন্তানদের ঘৃণা করে। এমনকি আমাদেরও স্পর্শ করতে চায় না, তাদের বাসায় যেতে বারণ করে। তাদের ধারণা আমাদের সংস্পর্শে আসলে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এরকম অবস্থায় কী করার আছে আমাদের?

তিনি জানান, গ্রামের স্কুলও চায় না যে তাদের শিশুরা সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাক।

এইচআইভি যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন ডাক্তার ফাতিমা মীর মাঠপর্যায়ে কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা ধারণা করে নেয় যে ওই শিশুরা কয়েকদিনের মধ্যে মারা যাবে।

জাতিসংঘের ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে এইচআইভি’র ব্যাপক প্রাদুর্ভাব থাকা ১১টি দেশের একটি পাকিস্তান। কিন্তু সেখানে যে পরিমাণ মানুষের এইচআইভি রয়েছে তাদের অর্ধেকের বেশি সংখ্যক মানুষ জানেই না যে তাদের এইচআইভি আছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় পাকিস্তানে বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এশিয়ার মধ্যে ফিলিপাইনের পরে পাকিস্তানেই দ্রুততম হারে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান পাকিস্তান ইউএন এইডস’এর পরিচালক এলেনা বরোমেয়ো।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

এমএফ/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও