শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘চীন-ঘনিষ্ঠ’ রাজাপক্ষ

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘চীন-ঘনিষ্ঠ’ রাজাপক্ষ

ডেস্ক রিপোর্ট ১:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘চীন-ঘনিষ্ঠ’ রাজাপক্ষ

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে চলেছেন গোতাবায়া রাজাপক্ষ। প্রায় ৩০ লক্ষ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। তাতে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে অন্যদের চেয়ে তিনি এগিয়ে রয়েছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, রাজাপক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। তবে রাজাপক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি সিংহলী অধ্যুষিত এলাকার ভোট গণনা এখনও বাকি। তার ফলাফল হয়ে গেলে রাজাপক্ষের প্রাপ্ত ভোটের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে ইতিমধ্যেই রাজাপক্ষ ৫৩-৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে গিয়েছেন বলে দাবি তার মুখপাত্র কহেলিয়া রম্বুকওয়েলার। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘৫৩-৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছি আমরা। এটা পরিষ্কার জয়। নিজের চোখে দেখেছি আমরা। গোতাবায়া আমাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। আগামিকালই শপথ নেবেন তিনি।’

শনিবার নির্বাচনের দিন একাধিক বিক্ষিপ্ত হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলেও প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ বুথে গিয়ে ভোট দেন বলে জানিয়েছেন সে দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মহিন্দা দেশপ্রিয়।

তবে রাজাপক্ষের জয়ের জন্য তার সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন অনেকে।

এ বছর ইস্টারের সকালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাক্ষী হয় শ্রীলঙ্কা। তাতে ২৫৯ জন প্রাণ হারান। এরপর রাজাপক্ষের নির্বাচনী প্রচারে সন্ত্রাসবাদই মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তার আশ্বাসে মানুষ তাকে বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই গোতাবায়া রাজাপক্ষ। দেশের প্রতিরক্ষা সচিবও ছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীতেও দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন। এমনকি এলটিটিই-র বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানও তার হাত ধরেই। এই অভিজ্ঞতাই নির্বাচনী লড়াইয়ে কাজ দিয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলিম এবং তামিলরা তার উপর অসন্তুষ্ট হলেও, সংখ্যাগুরু সিংহলীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েই গেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বৌদ্ধদেরও সমর্থনও পেয়েছেন তিনি।

তবে গোতাবায়া শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সামান্য হলেও অস্বস্তিতে রয়েছে ভারত। কারণ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চীনের মধ্যে বরাবর সেতু হিসাবে কাজ করেছে রাজাপক্ষ পরিবার। ২০১৫-য় মহিন্দা রাজাপক্ষের নির্বাচনী প্রচারে বেইজিং কোটি কোটি টাকা ঢেলেছিল বলেও দাবি করেন অনেকে। তাই গোতাবায়ার জমানায় ভারতের তুলনায় চীনকেই শ্রীলঙ্কা বেশি গুরুত্ব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার উপর আগামি বছরের শুরুতে আবার সংসদীয় নির্বাচন শ্রীলঙ্কায়। তাতে ফের প্রধানমন্ত্রী পদ ফিরে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাবেন মহিন্দা রাজাপক্ষ। তিনি জয়ী হলে, দুশ্চিন্তা আরও বাড়বে ভারতের।

এমকে/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও