অযোধ্যায় চলছে প্রস্তাবিত রামমন্দিরের স্তম্ভ তৈরির কাজ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অযোধ্যায় চলছে প্রস্তাবিত রামমন্দিরের স্তম্ভ তৈরির কাজ

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

অযোধ্যায় চলছে প্রস্তাবিত রামমন্দিরের স্তম্ভ তৈরির কাজ

সামান্য উঁচু হয়ে থাকা জমিতে সাদা কাপড়ের ছোট্ট অস্থায়ী ছাউনি। চার দিক থেকে দড়ি দিয়ে টান করে বাঁধা। ফুট তিরিশের দূরত্ব, তার ওপরে গ্রিলের ব্যবধান। ফলে সিংহাসনের মূর্তি নজরে এলেও চোখ-কান-মুখ স্পষ্ট ভাবে ঠাহর করা শক্ত। নির্বিকার মুখে চরণামৃত দিয়ে চলেছেন পুরোহিত। আর প্রতি মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে সতর্ক জওয়ানদের চোখ জরিপ করছে আপাদমস্তক। একটু দেরি হলেই বরফঠাণ্ডা গলায় নির্দেশ আসছে, “আগে চলিয়ে। রুকনা নেহি হ্যায়।”

অযোধ্যায় রামলালা বিরাজমানের দর্শনস্থলে আপনি স্বাগত। যাকে কেন্দ্র করে এত উত্তেজনা, এত আইনি লড়াই। পরম বিশ্বাসে যে-জায়গাকে রাম জন্মভূমি মেনে মন্দির তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে অযোধ্যায়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবি তোলার প্রশ্নই নেই। ক্যামেরা, মোবাইল থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই জমা দিতে হয়েছে এক-দেড় কিলোমিটার আগেই। নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই প্লাস্টিকের পেনও! রাস্তার দু’ধারে অগুনতি পুলিশ আর সিআরপিএফ। হাতে লাঠি কম, বন্দুক বেশি। তা-ও স্বয়ংক্রিয়। জিনিস জমা দেওয়ার পর থেকে রামলালার সামনে পৌঁছনো পর্যন্ত যে কত বার মেটাল ডিটেক্টর পেরিয়েছি, ইয়ত্তা নেই। খুঁটিয়ে দেহতল্লাশি হল অন্তত চার বার। পকেটে কিছু আছে কি না দেখতে পোক্ত হাতের মোচড় এতটাই কড়া যে, বেরিয়ে দেখি, ছিঁড়ে গিয়েছে সাত-পুরনো একশো টাকার একখানা নোটও!

যাওয়ার একটাই রাস্তা। একেবারে সরু। দু’দিক গ্রিল আর মোটা তারের জালে ঘেরা। পাশাপাশি দু’জন হাঁটারও জো নেই। ফেরার পথের শেষ দিক তুলনায় চওড়া। তবু দাঁড়ানোর অনুমতি নেই। ফিরতি পথে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আশপাশটুকু স্রেফ এক মিনিটের জন্য দেখতে যেতেই পিঠে হাত। মাথায় কালো ফেট্টি বাঁধা জলপাই উর্দি বললেন, “সিধা চলতে রহিয়ে।...পুরা নিকলকে তব দম লে না!”

বহু বার আসা পুণ্যার্থীরা বলছিলেন, নিরাপত্তার এই বজ্র আঁটুনি এখানে বছরভর। তবে রায় ঘোষণার পরে কড়াকড়ি আরও বেশি।

ওয়ান ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকশা অনুযায়ী মন্দির নির্মাণ করতে আনুমানিক পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত তিন দশক ধরে মন্দিরের কাঠামো নির্মাণ চলছে। তার পরও মন্দিরের কাজ শেষ করতে এই বিপুল সময় লেগে যাবে।

পাথর কেটে তার ওপর খোদাই করার কাজ চলছে অযোধ্যার ওয়ার্কশপে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নকশা ও নির্মাণশৈলী মেনে কাজ হবে, নাকি অন্য কোনও নকশা তৈরি হবে, তা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে রাম জন্মভূমি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সেই কাজ তিন দশক ধরেই হয়ে চলছে। পূ্ণোদ্যমে কাজ শুরু হলে, তা শেষ করতে এখনও পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে।

খবরে বলা হয়েছে, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য প্রথম পাথর এসেছিল রাজস্থানের ভরতপুর থেকে। ১৯৮৯ সালে সেই কাজ শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরও প্রস্তুতির কাজে ছেদ পড়েনি। কর্মশালাতে সমানে পাথর খোদাইয়ের কাজ চলছে। রায় প্রদানের আগে কিছু দিনের জন্য কর্মশালার কাজ বন্ধ ছিল। নতুন রামমন্দিরের যে নকশা দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, তাতে মন্দিরজুড়ে মোট ২১২টি স্তম্ভ থাকবে। দুটি পর্যায়ে ১০৬টি করে স্তম্ভ থাকবে। এর প্রায় অর্ধেক পিলার প্রস্তুত রয়েছে এবং অর্ধেক খোদাই করার কাজ এখনও বাকি।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অনুমোদিত নকশা অনুসারে, ছাদের ওপর একটি 'শিখর' থাকবে, যা এই পরিকাঠামোকে গ্র্যান্ড রাম মন্দিরের চেহারা দেবে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রস্তাবিত কাঠামোটি ১২৮ ফুট উঁচু হবে। এটি প্রস্থে ১৪০ ফুট এবং দৈর্ঘ্যে ২৭০ ফুট হবে। এই বিশাল কাঠামোটিকে অনন্য করে তুলতে কোনো ইস্পাত ব্যবহার করা হচ্ছে না। এই প্রস্তাবিত রামমন্দিরে ৫টি প্রবেশ পথ থাকবে। সিংহ দ্বার, নৃত্য মণ্ডপ, র‌্যান্ড মণ্ডপ, পূজা ঘর এবং 'গর্ভ গৃহ'। রামলালার মূর্তিটি ওই গর্ভগৃহে রাখা হবে। মন্দিরটির সম্পূর্ণ নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ১.৭৫ লক্ষ ঘনফুট বেলেপাথরের প্রয়োজন।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও