ভারতে বুলবুলের তাণ্ডবে ৬ জনের মৃত্যু

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভারতে বুলবুলের তাণ্ডবে ৬ জনের মৃত্যু

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৯

ভারতে বুলবুলের তাণ্ডবে ৬ জনের মৃত্যু

বুলবুলের তাণ্ডবে ভারতের দক্ষিণবঙ্গে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ খান জানান, এখনও পর্যন্ত ঝড়ের তাণ্ডবে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, নয়টি জেলার জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাড়ে ২৯ হাজারের মতো বাড়়ির পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের।

ক্ষয়ক্ষতি এবং ঝঞ্ঝা পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার আকাশপথে নামখানা এবং বকখালি এলাকা ঘুরে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে কাকদ্বীপে বৈঠকও করবেন। বুলবুলের জেরে ক্ষয়ক্ষতির মোকাবিলা করার জন্য তিনি রাস উৎসব উপলক্ষ্যে পূর্ব নির্ধারিত উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন। ১৩ নভেম্বর তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে যাবেন ক্ষয়ক্ষতি দেখতে।

দক্ষিণবঙ্গের নয়টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে রাজ্যের উপকূলবর্তী তিন জেলা— পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা এলাকা থেকে।

নবান্ন সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই পাঁচজনের প্রাণহানির খবর এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের দাপটে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে মৃত্যু হয়েছে এক নারীর।

মৃত্যু, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও, ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯৫০টি মোবাইল টাওয়ার। যার ফলে ঝঞ্ঝা বিধ্বস্ত এলাকায় ব্যপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই রকম ভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনের অন্তর্গত এলাকায় ঝড়ের দাপটে অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে এবং তার ছিঁড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

জাভেদ খান জানান, যে ৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে তার মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, ১ জন করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।

তার দফতর সূত্রে খবর, গোটা রাজ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার মানুষকে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। ৯টি জায়গায় ৪৭১ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তৈরি হয়েছে ৩৭৩ টি কমিউনিটি রান্নাঘর।

ওই দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২৬ হাজার বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় তিন হাজার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

এসবি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও