আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অযোধ্যা মামলার রায়, মোদির সমালোচনা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অযোধ্যা মামলার রায়, মোদির সমালোচনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৯

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অযোধ্যা মামলার রায়, মোদির সমালোচনা

নরেন্দ্র মোদি

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে বিদেশি গণমাধ্যমে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে।

গতকাল (শনিবার) সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্যদিকে, মসজিদের জন্য সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে সরকারকে।  

এ প্রসঙ্গে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ লিখেছে, “কয়েক শতাব্দীর বিতর্কিত জমি নিয়ে শনিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হিন্দুদের পক্ষে রায় দিয়েছে। মোদি এবং তাঁর অনুগামীরা যে নতুন করে ‘ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি থেকে সরিয়ে হিন্দুত্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে’ চাচ্ছে, তার পক্ষে এটা বড় জয়।” এভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর অনুগামীদের জয় বলে কার্যত ‘হিন্দুত্ব লাইন’-এর সমালোচনা করেছে মার্কিন ওই সংবাদপত্র।

‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ ‘মোদির বড় জয়’-এর পাশাপাশি ভারতকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’র বদলে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করায় বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মুসলিমদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত জমি হিন্দুদের পুরস্কার দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় জয়।”

এতে আরও বলা হয়েছে, “হিন্দু জাতীয়বাদী ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরেই অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের মন্দির তৈরির চেষ্টা করে আসছে।” কিন্তু একইসঙ্গে প্রাথমিকভাবে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ নয়’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ভেঙে উল্লাস করছে উগ্রবাদী হিন্দু সন্ত্রাসীরা।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ অযোধ্যা রায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা ভোটে জয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য, ভোটে বিপুল জয়ের পরে আদালতেও বিরাট জয় পেলেন নরেন্দ্র মোদি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের দৈনিক ডন লিখেছে, “সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্ত অবশ্যই উগ্র হিন্দুত্ববাদকে উৎসাহিত করবে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে, বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে একটি বার্তা থাকবে যে আধুনিক ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠদের সহিংসতা মাফ। এর মাধ্যমে, ভারত আর দাবি করতে সক্ষম হবে না যে  তারা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। বাবরী মসজিদ ঘটনার পরে, জাতীয় আখ্যান  এখন নেহেরু ও গান্ধীকে ছেড়ে সাভারকার ও গোলওয়ালকারের আদর্শে সরে গিয়েছে। এখন ভারতের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা গণতান্ত্রিক মতাদর্শে যাবে, না হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে যাবে যেখানে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসাবে দেখা হবে।”

‘দ্য ডন’-এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় ‘ভারতের যুযুধান হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।’

‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এ অযোধ্যার রায়কে ‘হিন্দু জাতীয়বাদী ও প্রধানমন্ত্রী মোদির জয়’ বলে উল্লেখ করেছে।

গাল্ফ নিউজ বলেছে, ১৩৪ বছরের বিতর্কটি ৩০ মিনিটের মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। হিন্দুরা পাবে অযোধ্যা জমি। মুসলিমদের মসজিদের জন্য বিকল্প জমি দেওয়া হবে।

এমএফ/

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও