১৫২৮-২০১৯: বাবরি মসজিদ বিতর্কের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

১৫২৮-২০১৯: বাবরি মসজিদ বিতর্কের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

১৫২৮-২০১৯: বাবরি মসজিদ বিতর্কের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

অবশেষে ভারতের অযোধ্যার বিতর্কিত জমির ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো। আজ শনিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। ঐতিহাসিক এ রায় কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষেই গেছে। ফলে বিতর্কিত ওই জমিতে রামমন্দির নির্মাণ এবং বাবরি মসজিদের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দের কথা রায়ে বলা হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বহু বছর ধরে চলেছে অযোধ্যা মামলা। ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে অযোধ্যায় তৈরি হয় বাবরি মসজিদ। হিন্দুদের কিছু সংগঠন দাবি করতে শুরু করে যে, মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে এই মসজিদ। ১৮৫৩ সালে প্রথম এই ইস্যুতে বিরোধ শুরু হয়।

১৮৫৯ সালে ব্রিটিশরা একটি প্রাচীর দিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের প্রার্থনার জায়গা আলাদা করে দেয়। এভাবেই ৯০ বছর ধরে প্রার্থনা চলছিল। ১৯৪৯ সালে প্রথম এই জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে যায়। সেই সময় রামের মূর্তি স্থাপন করা হয় মসজিদের ভিতরে।

১৯৮৪ সালে রামমন্দির গড়ার দাবি নিয়ে হিন্দুদের একটি কমিটি তৈরি হয়। তিন বছর পর একটি জেলা আদালত নির্দেশ দেয়, যাতে ওই বিতর্কিত এলাকা হিন্দুদের প্রার্থনার জন্য খুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মুসলিমরা তৈরি করে বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি।

এর পর ১৯৮৯ সালে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ওই স্থানে। পরের বছর ১৯৯০ সালে রামমন্দির তৈরির সমর্থনে রথযাত্রা করেন এল কে আদভানী।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেয় কিছু কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। ভারতজুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১০ দিন বাদে তৈরি হয় তদন্ত কমিটি। ১৭ বছর বাদে ২০০৯ সালে সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে আদভানী, বাজপেয়ীসহ ১৭ জনের নাম ছিল।

২০০৩ সালে এই মামলার জন্য আদালত সাতজন হিন্দু নেতাকে তলব করে, তার মধ্যে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতাও ছিলেন। লাখনৌতে মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতীর বিরুদ্ধে মামলা চলে। চলতি বছরের জুলাই মাসে ডেডলাইন দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ৯ মাসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা হয়।

২০১০ সালে এলাহবাদ হাই কোর্ট একটি রায় দেয়। তাতে বলা হয়, ওই বিতর্কিত জমিটি তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। নির্মৌহী আখড়া, রাম লাল্লা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

প্রথমে তিনজন মধ্যস্থতাকারী দেওয়া হয় এই মামলার জন্য। পরে গত ৬ আগস্ট থেকে প্রত্যেকদিন এই মামলার শুনানি শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপরির বেঞ্চ। ১৬ অক্টোবর সেই শুনানি শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, আগমী ১৭ নভেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। সেই অনুযায়ী তার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে প্রতিদিন শুনানি হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর এই মামলার শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রাখেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে, রায় ঘোষণার আগেই সব রাজ্যকে সতর্ক করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। অযোধ্যাসহ গোটা উত্তরপ্রদেশ মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার চাদরে। সব রাজ্যকে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নজর রাখতে বলা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে গেছে চার হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। শুধু অযোধ্যা জেলাতেই মোতায়েন হয়েছে ১২ হাজার পুলিশ।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক লোককে আটক করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর রোববার থেকে কারফিউ জারি করার কথাও আগেই জানানো হয়েছে।

রায়ের আগের দিন শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে সকলকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরপি
আরও পড়ুন...
অযোধ্যায় রামমন্দির হবে, বিকল্প জায়গায় মসজিদ
ওয়াকফ বোর্ডের আর্জি খারিজ, ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়নি বাবরি মসজিদ
বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ, কড়া নিরাপত্তা-ধরপাকড়

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও