অযোধ্যায় রামমন্দির হবে, বিকল্প জায়গায় মসজিদ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

অযোধ্যায় রামমন্দির হবে, বিকল্প জায়গায় মসজিদ

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

অযোধ্যায় রামমন্দির হবে, বিকল্প জায়গায় মসজিদ

অবশেষে ভারতের অযোধ্যার বিতর্কিত জমির ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো। আজ শনিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।

ঐতিহাসিক এ রায় কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষেই গেছে। ফলে বিতর্কিত ওই জমিতে রামমন্দির এবং বাবরি মসজিদের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দের কথা রায়ে বলা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, ৩-৪ মাসের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ স্কিম তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যাতে বিতর্কিত জমি মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং অন্য পাঁচ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে দেওয়া হয়। যেখানে তৈরি হতে পারে মসজিদ।

এর আগে রায় ঘোষণার শুরুতেই রঞ্জন গগৈ বলেন, ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়নি বাবরি মসজিদ। সেখানে একটি কাঠামো ছিল, যা ইসলামিক ছিল না। সেইসঙ্গে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আরজি খারিজ করে দেওয়া হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির।

খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ১০টা ১৫ মিনিটে আদালতের সংশ্লিষ্ট কক্ষ খুলে দেওয়া হয়। তার পর বিচারপতিরা সেই কক্ষে প্রবেশ করেন। এর পর রায়ের কপিতে সই করে তা পড়তে শুরু করেন প্রধান বিচারপতি।

খবরে বলা হয়, এ সময় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আরজি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে নির্মোহী আখড়ার আরজিও খারিজ করে বিচারপতিরা।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে এলাহবাদ হাই কোর্ট একটি রায় দেয়। তাতে বলা হয়, ওই বিতর্কিত জমিটি নির্মৌহী আখড়া, রাম লাল্লা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

প্রথমে তিনজন মধ্যস্থতাকারী দেওয়া হয় এই মামলার জন্য। পরে গত ৬ আগস্ট থেকে প্রত্যেকদিন এই মামলার শুনানি শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপরির বেঞ্চ। ১৬ অক্টোবর সেই শুনানি শেষ হয়।

গত ৬ আগস্ট থেকে কোনো বিরতি ছাড়া টানা শুনানি চলেছে অযোধ্যা মামলার। তার পর ১৬ অক্টোবর রায়দান সংরক্ষিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত। অবশেষে শুক্রবার আচমকাই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আজ শনিবার রায়দানের কথা। তার আগে নিজের চেম্বারে ডেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং ডিজির সঙ্গে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

আগমী ১৭ নভেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। সেই অনুযায়ী তার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে প্রতিদিন শুনানি হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর এই মামলার শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রাখেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে, রায় ঘোষণার আগেই সব রাজ্যকে সতর্ক করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। অযোধ্যাসহ গোটা উত্তরপ্রদেশ মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার চাদরে। সব রাজ্যকে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নজর রাখতে বলা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে গেছে চার হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। শুধু অযোধ্যা জেলাতেই মোতায়েন হয়েছে ১২ হাজার পুলিশ।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক লোককে আটক করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর রোববার থেকে কারফিউ জারি করা হবে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

আরপি
আরও পড়ুন...
ওয়াকফ বোর্ডের আর্জি খারিজ, ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়নি বাবরি মসজিদ
বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ, কড়া নিরাপত্তা-ধরপাকড়

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও