বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ, কড়া নিরাপত্তা-ধরপাকড়

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ, কড়া নিরাপত্তা-ধরপাকড়

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ, কড়া নিরাপত্তা-ধরপাকড়

ভারতের বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ শনিবার। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার রায় দেবেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে গড়া পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ।

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গতকাল শুক্রবার রাতে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা জানায়।

এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অযোধ্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে অযোধ্যা শহরে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। আর কাল রোববার থেকে শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ।

এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরেই ভারতজুড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে পাঁচ শতাধিক লোককে আটক করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে দেশটির গণমাধ্যম।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান বিচারপতি গগৈ ১৭ নভেম্বর অবসর নিচ্ছেন। এর আগেই এই মামলার রায় দেওয়া হবে বলে আগেই জানানো হয়।একটানা ৪০ দিন শুনানি শেষে গত ১৬ অক্টোবর তিনি জানিয়েছিলেন, অবসর গ্রহণের আগেই তিনি এই বিবাদের মীমাংসা করে ফেলতে চান।

এদিকে, রায় ঘোষণার আগে শান্ত থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিষয়টি নিয়ে গতকাল শুক্রবার তিনি একাধিক টুইট করেন। এসব টুইটে তিনি বলেন, ‘এ রায় কারও জন্য জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। রায় যেন শান্তি ও সংহতির বিষয়ে ভারতের মহান ঐতিহ্যকে আরও জোরদার করতে পারে এবং আমাদের সেই চাওয়াই যেন সবার কাছে অগ্রাধিকার পায়। দেশবাসীর প্রতি এই আমার আহ্বান।’

কট্টর হিন্দুদের বিশ্বাস, উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ভগবান রামচন্দ্র জন্মেছিলেন। তার জন্মস্থান বলে চিহ্নিত জায়গায় ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট বাবরের আমলে একটি মসজিদ তৈরি হয়। নাম দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির সেই অভিযোগ নিয়ে হিন্দু-মুসলমানের যে বিবাদ চলছিল, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর তা অন্যদিকে বাঁক নেয়। ওই দিন কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে। এ নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত দুই হাজার লোক নিহত হন।

সেই থেকে বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একর জমির মালিকানা কার, তার চূড়ান্ত মীমাংসা এখনো হয়নি। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ওই জমি বিবদমান তিন পক্ষ রাম লালা, সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়ার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ হয় সুপ্রিম কোর্টে।

আরপি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও